ফিলিপসের দৃঢ়তা নাকি ভেজা পিচে পেসার ব্যবহারে দেরি?

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৩:৫৫ পিএম, ০৮ ডিসেম্বর ২০২৩

যতই পিচ কভারে ঢাকা থাকুক না কেন, দেড় দিনের টানা বৃষ্টির কিছু তো প্রভাব থাকবেই। মোটা প্লাস্টিকের কভারে ঢাকা ছিল পিচ। তবু্ও ময়েশ্চার ধরে রাখাটাই স্বাভাবিক।

এমন পরিবেশ তো পেস বোলিং সহায়ক। বিশ্বের যে কোনো ভেন্যুতে বৃষ্টির পর খেলা শুরু হলে সব অধিনায়কই পেসার ব্যবহারকেই সর্বোত্তম কৌশল বলে মনে করতেন। ইতিহাসে এমন নজির ভুরি ভুরি। বৃষ্টির কারণে বড় সময় খেলা বন্ধ থাকার পর খেলা শুরু মানেই পেসারদের দিয়ে শুরু বোলিং আক্রমণ।

শেরে বাংলায় ঠিক সেই রকম পরিস্থিতিতে খেলা শুরু হলো আজ। গতকাল বৃহস্পতিবার সারাদিন বৃৃষ্টিতে খেলা বন্ধ ছিল। এক মুহূর্তের জন্য পিচের ওপর থেকে কভার সরানোর মতো অবস্থা ছিল না। আজও সকাল প্রায় ৯ টার পরে পিচের ওপরের প্লাস্টিকের কভার তোলা হয়েছে। তারও অন্তত এক থেকে দেড় ঘন্টা পর একদম ওপর থেকে চট সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছিল, এমন কন্ডিশনে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজকে একসঙ্গে বোলিং না করিয়ে অন্তত এক প্রান্তে পেসার শরিফুলকে ব্যবহার করবেন নাজমুল হোসেন শান্ত। কিন্তু না, বাংলাদেশ ক্যাপ্টেন তা করলেন না।

দুই দিকেই স্পিন দিয়ে শুরু হলো আক্রমণ। শুরু করলেন বাঁহাতি তাইজুল আর অফস্পিনার মিরাজ। তারা প্রাথমিক ব্রেক-থ্রু আনতে না পারায় বাধ্য হয়ে নাইম হাসানকে আনা। আর এ লম্বা ছিপছিপে অফস্পিনার এসেই ব্রেক-থ্রু এনে দিয়েছেন। ড্যারিল মিচেলকে ফেরালেও অপর প্রান্তে গ্লেন ফিলিপস ঠিক লড়াই চালিয়ে যান।

ফিলিপসকে খানিক ভেজা পিচে স্বাচ্ছন্দে খেলার সুযোগ করে দেন বাংলাদেশ অধিনায়ক শান্ত। স্পিনারদের দিয়ে টানা ৫২ মিনিট বল করান শান্ত। ৫৩ মিনিটে গিয়ে পেসার শরিফুল ইসলামের হাতে বল তুলে দেন তিনি। প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলেই শরিফুল ব্রেক-থ্রু আনেন। তার বলে ফিরে যান কিউই পেসার জেমিসন (২০)।

এরপর শরিফুল আবার আঘাত হানেন। তার দ্বিতীয় শিকার নিউজিল্যান্ডকে টেনে তোলা ফিলিপস। বাংলাদেশের সব স্পিনারকে আত্মবিশ্বাস ও আস্থায় খেলে চার ও ছক্কার ফুলঝুরিতে শতরানের দিকে এগুচ্ছিলেন ফিলিপস। পরে বাঁহাতি পেসার শরিফুল এসেই ফিলিপসকে ফিরিয়ে দেন। তার বলে অফস্টাম্পের বাইরে পরাস্ত হয়ে কট বিহাইন্ড হন ফিলিপস।

শতরান থেকে ১৩ রান পিছনে এই কিউই ব্যাটার যখন সাজঘরের পথে, তখন বাংলাদেশের ১৭২ রান টপকে ৮ রানে এগিয়ে নিউজিল্যান্ড।

ক্রিকেটে নিশ্চিত কিছু নেই। তারপরও শরিফুলকে সকালে একপ্রান্তে বোলিংয়ে আনলে হয়তো কিউইরা ৫৫ রানে ৫ উইকেট নিয়ে খেলতে নেমে প্রথম ইনিংসে লিড নাও পেতে পারতো। হয়ত আরও আগেই শেষ হতে পারতো নিউজিল্যান্ড ইনিংস। তখন পিছিয়ে না থেকে লিড নিতে পারতো বাংলাদেশ।

এদিকে বাংলাদেশ অধিনায়ক অনেক দেরিতে পেস বোলার ব্যবহার করলেও নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক টিম সাউদি কিন্তু সে ভুল করেননি। বাংলাদেশের ইনিংসের ৫ ওভারেই অধিনায়ক সাউদি নিজে বোলিংয়ে চলে আসেন। এ পেসারের দ্বিতীয় ওভারেই এক্সট্রা কভারে ক্যাচ দিয়ে ফেরত যান বাংলাদেশ অধিনায়ক শান্ত।

এআরবি/আইএইচএস/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।