রহমতগঞ্জকে হারিয়ে সেমিতে বসুন্ধরা কিংস

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৮:২৯ পিএম, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮

গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকোর বিশ্বস্ত হাত নবাগত বসুন্ধরা কিংসকে তুলে দিলো স্বাধীনতা কাপ ফুটবলের সেমিফাইনালে। শুক্রবার বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের শেষ কোয়ার্টার ফাইনালে বসুন্ধরা কিংস টাইব্রেকারে ৩-২ গোলে হারিয়েছে রহমতগঞ্জকে। নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষ হয়েছিল ২-২ গোলে।

গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকো টাইব্রেকারে রহমতগঞ্জের তিন বিদেশি কঙ্গোর সিও জুনাপিও, নাইজেরিয়ান দামিয়ান ও মানডের শট রুখে দিয়ে হয়ে যান বসুন্ধরা কিংসকে সেমিফাইনালে তোলার নায়ক। ম্যাচসেরা পুরস্কারও উঠেছে এ গোলরক্ষকের হাতে।

কেবল টাইব্রেকারেই নয়, ম্যাচেও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন জিকো। ২৫ মিনিটে পিছিয়ে পড়া বসুন্ধরা কিংস দ্বিতীয়ার্ধের ১০ মিনিটের মাথায় আরো পিছিয়ে পড়তে পারতো। সিও জুনাপিও’র খুব কাছ থেকে নেয়া শট রুখে দেন জিকো।

ম্যাচটি নির্ধারিত ৯০ মিনিটেই শেষ হতে পারতো এবং সেটা রহমতগঞ্জের ২-১ ব্যবধানের জয়ের হাসিতেই। কিন্তু ইনজুরি সময়ের শেষ মুহূর্তে গোল করে ম্যাচটাকে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যান বসুন্ধরা কিংসের কিরগিজস্তানের মিডফিল্ডার বখতিয়ার।

অতিরিক্ত সময়ে দুই দলই পেয়েছে গোলের সুযোগ। কিন্তু ম্যাচের ভাগ্য যে লেখা ছিল টাইব্রেকার। শেষ পর্যন্ত ভাগ্য নামেক সেই ট্রাইব্রেকারে জিতে বসুন্ধরা কিংস সেমিফাইনালে।

২৫ মিনিটে জামাল হোসেনের গোলে এগিয়ে যায় পুরোনো ঢাকার দল রহমতগঞ্জ। হালকা ইনজুরি থাকায় বিশ্বকাপ খেলা ফুটবলার কোস্টারিকার কলিন্দ্রেসকে একাদশে রাখেননি বসুন্ধরা কিংসের স্প্যানিশ কোচ অসকার ব্রুজোন। কিন্তু দল যখন বিপদে তখন তাকে মাঠে নামান কোচ। ৫৭ মিনিটে সাদ্দাম হোসেন অ্যানির পরিবর্তে মাঠে নামার ৯ মিনিটের মাথায় গোল করে স্কোর ১-১ করেন কলিন্দ্রেস।

কলিন্দ্রেসের গোলটিতে ছিল দক্ষতার ছাপ। নাইমুদ্দিনের বাড়ানো বল ধরে রহমতগঞ্জের ডিফেন্ডার আকরামুর জামান লিটনকে ডস দিয়ে কোনোকুনি শটে গোল করেন। ৫ মিনিট পর রহমতগঞ্জের ফয়সালের করা গোলটিও ছিল দর্শনীয়। জুনাপিও’র ডিফেন্সচেরা পাস ধরে বক্সে ঢুকেই কোনাকুনি শট নেন ফয়সাল। বল জিকোর হাতে লেগে আশ্রয় নেয় জালে। শেষ মুহূর্তে কলিন্দ্রেসের ক্রসে বখতিয়ার হেডে গোল করে স্কোর ২-২ করে।

টাইব্রেকারে বসুন্ধরা কিংসের গোল করেছেন বখতিয়ার, নাসির উদ্দিন চৌধুরী ও কলিন্দ্রেস। ইমন বাবুর শট ঠেকিয়েছেন রহমতগঞ্জের গোলরক্ষক, জনির শট ফিরে এসেছে পোস্টে লেগে। রহমতগঞ্জের গোল করেছেন ফয়সাল ও দিদার। নাইজেরিয়ান মানডে পঞ্চম শটে গোল করতে পারলে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হতো সাডেনডেথে। কিন্তু এ নাইজেরিয়ান ডিফেন্ডার যে শট নেন তা ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক জিকো।

বসুন্ধরা কিংস ২০ ডিসেম্বর সেমিফাইনাল খেলবে আবাহনীর বিপক্ষে।

আরআই/আইএইচএস/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :