যেভাবে হারিয়ে যায় প্রিমিয়ার লিগের দল ও ভেন্যু

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৮:৪১ এএম, ১৮ জানুয়ারি ২০১৯

২০০৭ সালে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো শুরু হয় পেশাদার ফুটবল লিগ। এক যুগে ১০ টি আসর হলেও এখনো লিগটা দাঁড়ায়নি নির্দিষ্ট কাঠামোয়। বাফুফের পেশাদার লিগ কমিটি নিজেদের সুবিধামতো একেক বছর একেকভাবে লিগ আয়োজন করে। সময়, দল, রেলিগেশন, বিদেশি খেলোয়াড়ের কোটা-একেক বছর একেকরকম। মূলত ক্লাবগুলোর আজ্ঞাবহ হয়েই লিগ চালায় লিগ কমিটি।

পেশাদার লিগ কমিটির এই উদ্ভট নিয়মের কারণেই এক যুগে পেশাদার লিগে ২০টি ক্লাব নাম লেখালেও, এরই মধ্যে ৭টি ক্লাব হারিয়ে গিয়েছে। ভেন্যুর অবস্থাও তাই। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম ছাড়া আর কোনো ভেন্যুতেই নিয়মিত হয়নি প্রিমিয়ার লিগ। একেকবার একেক ভেন্যু দাঁড় করিয়েছে বাফুফে। প্রিমিয়ার লিগের খেলা হয়েছে এমন ৮ স্টেডিয়াম এখন ইতিহাসের পাতায়।

এ বছর প্রিমিয়ার লিগ হবে ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম, ময়মনসিংহের রফিক উদ্দিন ভুঁইয়া স্টেডিয়াম, নীলফামারীর শেখ কামাল স্টেডিয়াম, গোপালগঞ্জের শেখ ফজলুল হক মনি স্টেডিয়াম, নোয়াখালীর শহীদ ভুলু স্টেডিয়াম ও সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে।

ঢাকার কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামসহ ৮ টি ভেন্যু হারিয়ে গেছে প্রিমিয়ার লিগ থেকে। হারিয়ে যাওয়া অন্য ৭ ভেন্যু হচ্ছে খুলনা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নরসিংদী, নারায়নগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও ফেনী।

দলগুলোর অবস্থাও তাই। প্রিমিয়ার লিগের শুরুর দিকের কয়েকটি দলের খবরই নেই। এর মধ্যে খুলনা আবাহনী ও চট্টগ্রাম মোহামেডান উল্লেখযোগ্য। দেশের ক্রীড়াঙ্গনের দুই পরিচিত ক্লাব এখন প্রিমিয়ার লিগ তো দুরের কথা চ্যাম্পিয়নশিপ লিগেও নেই।

চট্টগ্রাম মোহামেডান প্রিমিয়ার লিগের প্রথম চার আসরে খেলেছে, খুলনা আবাহনী ছিল প্রথম দুই আসরে। পুরনো ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ক্লাব ফরাশগঞ্জ ওঠা-নামার মধ্যে আছে। গত প্রিমিয়ার লিগ থেকে নেমে যাওয়া ক্লাবটি এ পর্যন্ত ৭ বার খেলেছে দেশের শীর্ষ লিগে।

ঢাকার বাইরের দল ফেনীর সকার ক্লাবও আলোচিত নাম হয়েছিল প্রিমিয়ার লিগে। ২০০৯ সালে তৃতীয় আসরে শীর্ষ আসরে নাম লিখিয়ে তারা খেলেছে টানা ৭ টি লিগ। ফেনীর দলটি এখন খেলে চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে। একই বছর প্রিমিয়ার লিগে উঠেছিল নারায়নগঞ্জের ক্লাব শুকতারা যুব সংঘ। এক বছর পরই হারিয়ে যায় বন্দর নগরীর ক্লাবটি।

সিলেটের বিয়ানী বাজার স্পোর্টিং ক্লাবও ধুমকেতুর মতো প্রিমিয়ার লিগে নাম লিখিয়ে আবার হারিয়ে যায়। তৃতীয় আসরে অংশ নিয়েছিল এ দলটি। ঢাকার উত্তর বারিধারা ক্লাব প্রিমিয়ার লিগের সপ্তম ও নবম আসরে খেলে বিদায় নিয়েছে। কক্সবাজারের কক্সসিটি ক্লাব ২০১০/১১ মৌসুমে চ্যাম্পিয়নশিপ লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়ে প্রিমিয়ারে খেলার প্রাথমিক যোগ্যতা অর্জন করলেও শীর্ষে লীগে অভিষেক হয়নি তাদের। প্রিমিয়ার লিগে খেলার শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় সমূদ্রপাড়ের ক্লাবটির নাম লেখানো হয়নি প্রিমিয়ার লিগে।

ঢাকার আরেক ক্লাব ইয়ংমেন্স ক্লাব ফকিরেরপুলও তাই। সর্বশেষ প্রিমিয়ার লিগেই তারা নাম লিখিয়েছিল চ্যাম্পিয়নশিপ লিগ জিতে। রানার্সআপ হয়ে উঠেছিল সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব। সাইফ খেললেও শেষ মুহূর্তে নাম প্রত্যাহার করে নেয় ইয়ংমেন্স ক্লাব।

বাংলাদেশের পেশাদার ফুটবল নামমাত্র। পেশাদারিত্বের ছিটেফোটাও নেই এখানে। যে কারণে, প্রতি বছর নতুন নতুন ক্লাব যোগ হয় আর হারিয়ে যায়। বাফুফের নানা শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়ে এবং অভাব-অনটনে পড়ে ক্লাবগুলো প্রিমিয়ারে খেলা আগ্রহ হারায়। ভেন্যু হারিয়ে যায় অযত্ন-অবহেলায়।

আরআই/এসএএস/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :