যে অতৃপ্তি নিয়ে লিগ কমিটির দায়িত্ব ছাড়ছেন সালাম মুর্শেদী

রফিকুল ইসলাম
রফিকুল ইসলাম রফিকুল ইসলাম , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৮:৫৪ পিএম, ২৭ আগস্ট ২০২২

আনুষ্ঠানিক পদত্যাগ বলতে যা বুঝায় সেটা এখনো করেননি আবদুস সালাম মুর্শেদী। তবে শনিবার থেকে তিনি যে আর প্রফেশনাল লিগ কমিটির চেয়ারম্যান পদে নেই সেটা পরিষ্কার করেই বলে দিয়েছেন। এখন গুরুত্বপূর্ণ এই কমিটির চেয়ারম্যান পদের দায়িত্ব কাকে দেওয়া হবে সেটা ঠিক করবে বাফুফের নির্বাহী কমিটি।

পেশাদার লিগ কমিটির সবশেষ সভাটি শনিবার করে ফেলেছেন বাফুফের দ্বিতীয় প্রভাবশালী এই ব্যক্তি। তিনি পেশাদার লিগ কমিটির চেয়ারম্যানের পদ ছাড়লেও বহাল আছেন রেফারিজ ও ফিন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান পদে।

দীর্ঘ ১৩ বছরে ১২ পেশাদার লিগ আয়োজন করে হঠাৎ করে কেন দায়িত্ব ছাড়ছেন সালাম মুর্শেদী। এর পেছনে কি শুধুই তার ব্যস্থতা? নাকি নেপথ্যে আরো কোন ঘটনা আছে? সালাম মুর্শেদী বলেছেন,‘অন্য কোন কারণ নেই। ফুটবলে বেশি সময় দিতে পারবো না বলেই দায়িত্বটা ধরে রাখতে চাচ্ছি না।’

পেশাদার লিগ কমিটির সভা শেষে মিডিয়া ব্রিফিংয়েই তিনি সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। বাফুফে ভবন থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর আবদুস সালাম মুর্শেদী জাগো নিউজকে দায়িত্ব ছাড়ার কারণ বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছেন। তবে তিনি বারবারই বলেছেন, ‘আমরা দায়িত্ব ছাড়ার পেছনে অন্য কোন কারণ নেই। আমি আগের মতো সময় দিতে পারবো না বলেই আর থাকতে চাই না।’

দেশের পেশাদার লিগ নামেই পেশাদার। এখনো পেশাদার লিগের আসল উদ্দেশ্য সফল হয়নি। তারপরও আবদুস সালাম মুর্শেদী দীর্ঘ দিনের দায়িত্ব পালনে কিছু তৃপ্তির কথাও বললেন, ‘আমাদের পেশাদার লিগটা পুরোপুরি পেশাদারিত্বে না আসলেও আমি একটা জয়গায় দাঁড় করিয়ে দিয়ে গেলাম। একটা কাঠামো তৈরি করে দিয়ে যেতে পেরেছি। এখন এখান থেকে এগিয়ে নিতে হবে। আমি মনে করি, যে দায়িত্ব পালন করুক তাকে অনেক সময় দিতে হবে। চেক তো যেখানে সেখানে বসে সই করা যায়; কিন্তু ফুটবল চালাতে সময় দিতে হয়।’

দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনে নিজের যতটুকু সফলতা তার পুরো কৃতিত্ব সালাম মুর্শেদী দিচ্ছেন ক্লাবগুলোকে, ‘হেফাজতের সমস্যা বলেন, করোনা ভাইরাস মহামারি বলেন কিংবা অর্থনৈতিক মন্দা- সবকিছুর মধ্যেই ক্লাবগুলো লিগ আয়োজনে সহযোগিতা করেছে। ক্লাবগুলোর সহযোগিতা নিয়েই আমি ১২টি প্রিমিয়ার লিগ আয়োজন করতে পেরেছি।’

দীর্ঘ সময় সফলভাবে দায়িত্ব পালনের সময় সভাপতি কাজী মো. সালাউদ্দিনের পূর্ণ সমর্থন পাওয়ার কথা উল্লেখ করে সালাম মুর্শেদী বলেছেন, ‘তিনি সব সময় আমাকে সহযোগিতা করেছেন, বুদ্ধি-পরামর্শ দিয়েছেন। আমি তার কাছেও কৃতজ্ঞ। কৃতজ্ঞ আমার অন্যান্য সহকর্মীদের প্রতিও।’

নিজের ব্যবসা প্রসঙ্গে সালাম মুর্শেদী বলেছেন, ‘আপনি জানেন, এনভয় গ্রুপ বড় একটা প্রতিষ্ঠান। এখানে দায়িত্ব পালনে অনেক সময় দিতে হয়। রাত ৯টা-১০টার আগে কখনো অফিস থেকে বের হতে পারি না। ব্যবসা সামাল দিয়ে এখন আর লিগ কমিটিতে সময় দেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব না।’

সালাম মুর্শেদী আরেকটি ব্যস্ততার কথা বলেছেন রাজনৈতিক, ‘সামনে আমাদের সম্মেলন। নির্বাচনের সময়ই ঘনিয়ে আসছে। এখন এলাকায় বেশি বেশি সময় দিতে হবে। সপ্তাহে ৪ দিন আমাকে এলাকাতেই থাকতে হয়। সামনে আরো বেশি সময় দিতে হবে। ব্যবসার পর রাজনীতি- দুটি সামাল দিয়ে আর সময় বের করতে পারবো না। তবে এটা ঠিক, আমি সবার আগে ফুটবলকেই গুরুত্ব দিয়ে থাকি। কারণ, ফুটবলই আমাকে এ পর্যন্ত এনেছে।’

এতদিন লিগ কমিটির দায়িত্ব পালনের পরও কোন অতৃপ্তি নিয়ে কি যাচ্ছেন? সালাম মুর্শেদীর জবাব, ‘ভালোর শেষ নেই। যতটুকু করেছি তারচেয়ে আরো ভালো করা যেতো। আমার ওপর সবার যে প্রত্যাশা ছিল তা হয়তো পুরোপুরি পূরণ করতে পারিনি। চলে যাওয়ার সময় আমার অতৃপ্তির জায়গা হচ্ছে, ক্লাবগুলোকে পুরোপুরি পেশাদারিত্বের মধ্যে নিয়ে আসতে না পারা। একটি ক্লাব ছাড়া আরো কোন ক্লাবের নিজস্ব ভেন্যু নেই। আমার স্বপ্ন ছিল প্রত্যেক ক্লাবের নিজস্ব ভেন্যু হবে। হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ভিত্তিতে খেলার যে ধারণা সেটা হবে। ক্লাবগুলো নিজস্ব ভেন্যুর গেটমানি পাবে। আমি এটা করে যেতে পারলাম না। এটাই আমার অতৃপ্তি।’

আবদুস সালাম মুর্শেদীকে অনেকেই চিনেন মোহামেডানের সালাম হিসেবে। যদিও ক্লাবের কার্যক্রমে এখন তার সে রকম সম্পৃক্তা নেই। বাফুফের গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব ছাড়ার পর তিনি মোহামেডানে সময় দেবেন বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে খোলাখুলি কিছু বলেননি সালাম মুর্শেদী, ‘কমিটিতে থাকি বা না থাকি আমি মোহামেডানের লোক। কাজ করলে যে কোন জায়গা থেকেই করা যায়। ক্লাব আমাকে ডাকলে অবশ্যই যাবো।’

আরআই/আইএইচএস/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।