এশিয়ার সেরা গোলরক্ষক হতে চাই

রফিকুল ইসলাম
রফিকুল ইসলাম রফিকুল ইসলাম , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০২:৪৮ পিএম, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২

নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপাজয়ী বাংলাদেশ দলের গোলরক্ষক রুপনা চাকমা এখন আলেচিত নাম। বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পেছনে বড় অবদান এই পাহাড়ি কন্যার। পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র একটি গোল হজম করেছেন। তার হাতেই উঠেছে টুর্নামেন্টসেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার।

দক্ষিণ এশিয়ার সেরা হওয়ার পর এখন রুপনা চাকমার চোখ এশিয়াতে। ভালো খেলার ধারাবাহিকতা ধরে রেখে তিনি হতে চান এশিয়ার সেরা গোলরক্ষক।

জাগো নিউজ: আপনি এখন দক্ষিণ এশিয়ার গোলরক্ষক। এর অনুভূতি কেমন?

রুপনা চাকমা: আমি অনেক আনন্দিত। অনেক ভালো লাগছে। কারণ সিনিয়র দলে খেলে এই প্রথম সেরা গোলরক্ষক হয়েছি।

জাগো নিউজ: আপনি যখন জানলেন সেরা গোলরক্ষক হয়েছেন তখন কেমন লেগেছিল?

রুপনা চাকমা: আমি প্রথমে বুঝতে পারিনি। খেলা শেষ হওয়ার পর ছোটন স্যার (হেড কোচ গোলাম রব্বানি ছোটন) বললেন আমি সেরা গোলরক্ষক হয়েছি। যখন মঞ্চে ডেকেছে তখন আমার খুব ভালো লেগেছিল।

জাগো নিউজ: ফাইনালে আপনি দুর্দান্ত একটা ফ্রি-কিক সেভ করেছেন। কীভাবে করলেন?

রুপনা চাকমা: ফ্রি-কিক ঠেকানোর জন্য আমি অনুশীলন করেছি। তাছাড়া ঐসময় ভালো পজিশনে ছিলাম বলে সেভ করতে পেরেছি।

জাগো নিউজ: ফাইনাল জেতা রাতটা কেমন কেটেছিল?

রুপনা চাকমা: কী বলবো! ওই রাতে ঘুমোতে পারিনি। মনে হচ্ছিল, আমরা কি চ্যাম্পিয়ন হয়েছি নাকি হতে পারিনি বুঝতে পারছিলাম না।

জাগো নিউজ: এখন আপনার লক্ষ্য কী?

রুপনা চাকমা: এখন লক্ষ্য আরও ভালো খেলে এশিয়ার মধ্যে একটা অবস্থান তৈরি করা। আমি এখন এশিয়ার সেরা গোলরক্ষক হতে চাই।

জাগো নিউজ: এই কৃতিত্বের জন্য আপনার বাড়িতে নতুন ঘর উঠছে। এটাকে কিভাবে দেখছেন?

রুপনা চাকমা: আমি জানতাম না। ফেসবুকে এবং টিভিতে দেখছিলাম। সবাই বলছিল রুপনা তোমার তো ভাগ্য ভালো, প্রধানমন্ত্রী তোমার ঘর তুলে দিচ্ছেন। তখন থেকে আমি অনেক খুশি।

জাগো নিউজ: চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর গণমাধ্যমে আপনাদের নিয়ে নানা ধরনের আয়োজন করছে। এটা কেমন লাগছে?

রুপনা চাকমা: ভালই উপভোগ করছি। আমরা টিভিতে কথা বলছি, সেগুলো আবার দেখছি। ভালো লাগছে।

জাগো নিউজ: চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর মায়ের সঙ্গে কখন কথা হয়েছে?

রুপনা চাকমা: চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর হোটেলে পৌঁছে মাকে ফোন করে বলেছি আমরা চ্যাম্পিয়ন হয়েছি এবং আমি সেরা গোলরক্ষক হয়েছি। তুমি কি খুশি হইছো? মা বলেছেন- অনেক খুশি হয়েছি।

জাগো নিউজ: আপনার মা তো কৃষি কাজ করতেন। এখনও কি করেন?

রুপনা চাকমা: না। মায়ের বয়স হয়েছে। কাজ করলে তার অনেক কষ্ট হবে। মাকে তাই কাজ করতে দেই না।

জাগো নিউজ: ফাইনাল ম্যাচ যখন ২-১ হলো, তখন কী কোন আশঙ্কা করেছিলেন যে ম্যাচটি হেরে যেতে পারেন?

রুপনা চাকমা: না। আমি মনে করছিলাম একটা খেয়েছি তাতে কী হয়েছে। যদি আমরা চাপ দেই তাহলে আরেকটা গোলও হতে পারে। তাই কোন টেনশনে ছিলাম না।

জাগো নিউজ: আপনাকে ধন্যবাদ।

রুপনা চাকমা: আপনাকেও ধন্যবাদ।

আরআই/এসএএস/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।