যত দ্রুত সম্ভব ক্রীড়াঙ্গনের নির্বাচন শেষ করতে চান প্রতিমন্ত্রী
উপজেলা থেকে শুরু করে জেলা, বিভাগ ও জাতীয় পর্যায়ের সিংহভাগ ফেডারেশন ও অ্যাসোসিয়েশন পরিচালিত হচ্ছে অ্যাডহক কমিটি দিয়ে। ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর একযোগে ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছিল দেশের সব উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা। গঠন করা হয়েছিল অ্যাডহক কমিটি। তারপর পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন জাতীয় ফেডারেশন ও অ্যাসোসিয়েশনের কমিটি ভেঙ্গে অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছিল।
এ সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচন নিয়ে আছে ব্যাপক অভিযোগ। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ বুধবার একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ দেশের ক্রীড়াঙ্গনের অনির্বাচিত সংস্থা ও ফেডারেশনগুলোতে নির্বাচনের উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আমিনুল হক দায়িত্ব নিয়ে বলেছিলেন, তিনি উপজেলা, জেলা ও বিভাগ থেকে নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু করতে চান। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতেও বেশি সময় নেননি সাবেক এই তারকা ফুটবলার।
মঙ্গলবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালক মো. দৌলতুজ্জামানের সাক্ষরিত নির্বাচন সংক্রান্ত এক নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে দেশের সব বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আইন ২০১৮ এর ক্ষমতাবলে উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা, জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার পূর্বে গঠিত অ্যাডহক কমিটি বাতিল করা হয়েছে ওই আদেশের মাধ্যমে। পাশাপাশি অ্যাডহক কমিটি গঠনের বিষয়ে ইতোপূর্বে জারীকৃত সকল নির্দেশনাও বাতিল করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ।
সেই সাথে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠনের দিক নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারদেরকে। উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটি তৈরি করতে হবে ৭ সদস্যের। কমিটিতে কারা থাকবেন সেই নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটির সভাপতি থাকবেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। সদস্যসচিব থাকবেন স্থানীয় একজন ক্রীড়া সংগঠক বা ক্রীড়াবিদ। ৫ জন সদস্য হবেন যথাক্রমে স্থানীয় থানার ওসি, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার ও স্থানীয় একজন ক্রীড়াবিদ।
জেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হবেন জেলা প্রশাসক আর সদস্যসচিব হবেন স্থানীয় একজন ক্রীড়া সংগঠক বা ক্রীড়াবিদ। সদস্য থাকেন পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক), জেলা সমাজসেবা অফিসের উপপরিচালক, জেলা ক্রীড়া অফিসার ও স্থানীয় একজন ক্রীড়াবিদ। একই আদলে গঠন করা হবে বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটি। বিভাগীয় কমিশনার হবেন সভাপতি ও স্থানীয় একজন ক্রীড়া সংগঠক বা ক্রীড়াবিদ হবেন সদস্যসচিব। সদস্য থাকবেন পুলিশ কমিশনার, স্থানীয় সরকারের পরিচালক, বিভাগীয় সমবায় অফিসের যুগ্ম নিবন্ধক ও স্থানীয় একজন ক্রীড়াবিদ।
ক্রীড়া সংস্থা গঠন করে তা প্রস্তাব আকারে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে পাঠাতে উপজেলাকে সময় দেওয়া হয়েছে ৭ দিন। জেলা ও বিভাগ সময় পাবে ১০ দিন করে। অ্যাডহক কমিটি অনুমোদনের পর গঠনতন্ত্র মোতাবেক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনেরও নির্দেশনা দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। নির্বাচন সম্পন্ন করে নির্বাচিত কমিটির তালিকা দ্রুত জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে প্রেরণ করতে বলা হয়েছে।
উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচন শেষ হলে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ জাতীয় ফেডারেশন ও অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করবে। কবে নাগাদ হতে পারে জাতীয় ক্রীড়া ফেডারেশন ও অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন?
এমন প্রশ্ন করা হলে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক জাগো নিউজকে বলেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব আমি নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ করবো। উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা ভেঙ্গে দিয়ে নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠন করে নির্বাচনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আমরা জাতীয় পর্যায়ের নির্বাচন শেষ করবো এবং সেটা যত দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্ভব।’
ক্রীড়াঙ্গনে গুঞ্জন আবার সার্চ কমিটি গঠন করা হতে পারে। তবে সেই সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেন, ‘কোনো সার্চ কমিটি হবে না।’
আরআই/আইএইচএস/