পাকি কোচের পদত্যাগ দাবি রশিদ লতিফের
বাংলাদেশ সফরে ওয়ানডে সিরিজে ‘বাংলাওয়াশ’ হওয়ার পর একমাত্র টি-২০ ম্যাচেও জাতীয় দলের পরাজয়ের জন্য পাকিস্তান কোচ ওয়াকার ইউনিসকে পদত্যাগ করার পরামর্শ দিয়েছেন দেশটির সাবেক অধিনায়ক রশিদ লতিফ।
তিনি বলেন, ‘ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর একমাত্র টি-২০ ম্যাচেও বিশাল ব্যবধানে এভাবে দলের পরাজয়ের পর ওয়াকার নিজ থেকেই পদত্যাগ করলে ভাল হবে বলে আমি মনে করছি।’
উত্তেজিত হয়ে লতিফ বলেন, ‘বাংলাদেশের ক্রিকেটে অনেক উন্নতি হয়েছে। কিন্তু তারপরও এভাবে পরাজয় মেনে নেয়া যায় না এবং এজন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী। কোনো ম্যাচেই তারা সঠিক একাদশ মাঠে নামাতে পারেনি।’ বাংলাদেশে এভাবে লজ্জাজনকভাবে পরাজয়ের দায়ভার ওয়াকারের নেয়া দরকার বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আসন্ন টেস্ট সিরিজেও পাকিস্তানকে কঠিন সময় পার করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন সাবেক ফাস্ট বোলার শোয়েব আখতার। পাকিস্তান ক্রিকেট যেভাবে চলছে তাতে বাংলাদেশ সফরে পরাজিত হয়ে এমন অবস্থার সম্মুখীন হতে হবে বলে তিনি আগেই সতর্ক করেছিলেন।
শোয়েব বলেন, ‘আমরা ওয়ানডে সিরিজ হেরেছি, একমাত্র টি-২০ ম্যাচে হেরেছি এবং আমি টেস্ট ম্যাচেও একই ফল দেখছি।’ তিনি বলেন, পাকিস্তান ক্রিকেটকে কিভাবে সামনে এগিয়ে নিতে হবে সে সম্পর্কে টিম ম্যানেজমেন্টের কোনো ধারণাই নেই।
‘এমনকি তারা এখনো তাদের প্লেয়িং কম্বিনেশনই খুঁজে পায়নি, যা অগ্রহণযোগ্য। গত দুই তিন বছরে পাকিস্তান ক্রিকেট টিকে ছিলো কেবলমাত্র স্পিনারদের বদৌলতে। কিন্তু এখন তাদের সামনে কঠিন সময়।’
দেশটির সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান ধারাভাষ্যকার রমিজ রাজাও বাংলাদেশ সফরে এ পর্যন্ত দলের ফল ও পারফরমেন্সে হতাশা প্রকাশ করে বলেন ওয়াকারের প্রতি যে প্রত্যাশা ছিল তা তিনি পূরণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ।
ওয়াকারের পদত্যাগ করা উচিত বলে লতিফের মন্তব্যের সঙ্গে একমত কিনা প্রশ্নের জবাবে রমিজ বলেন, এ পর্যন্ত তিনি কোচ হিসেবে ব্যর্থ।
রমিজ বলেন, ‘পাকিস্তান ক্রিকেট হারিয়ে যাচ্ছে এবং বর্তমানে আমরা সবচেয়ে খারাপ সময় পার করছি। এভাবে বাংলাদেশের কাছে আমরা হারতে পারি এটা অবিশ্বাস্য।’ পাকিস্তানি খেলোয়াড়রা তাদের ভুল থেকে শিক্ষা নিতে প্রস্তুত নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সাবেক চেয়ারম্যান খালিদ মেহমুদ বলেন, পুরো ম্যানেজমেন্ট এবং যারা বর্তমানে ক্রিকেট চালাচ্ছে তারা সকলেই বাংলাদেশের কাছে এভাবে পরাজিত হওয়ার জন্য দায়ী।
মেহমুদ বলেন, ‘পুরো সিরিজেই আমি মাঠে সক্রিয় ১১ জন খেলোয়াড় দেখিনি, আমি মাঠে কেবল জীবনমৃত ১১ জনকে দেখেছি। বাংলাদেশের কাছে এভাবে পরাজিত হওয়াটা পাকিস্তান ক্রিকেট ইতিহাসের অন্ধকারতম দিনগুলোর একটি।’
একে/আরআই