এবার ভারত-বধের পালা!
গত ১৯ মার্চ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ থেকে শুরু। ভারতের সঙ্গে ক্রিকেট নিয়ে স্নায়ুযুদ্ধ হয়ে গেছে বেশ কয়েকবার। এ নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতীয় বোর্ডের মধ্যে অনেক তর্ক-বিতর্কও হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) চেয়ারম্যান শ্রীনিবাসনের কারণে ফাইনালে বিজয়ীদের হাতে পদক তুলে দিতে দেওয়া হয়নি আইসিসি সভাপতি আহম মুস্তফা কামাল। শেষ পর্যন্ত দেশপ্রেম নিয়ে পদত্যাগ করেছেন আহম মুস্তফা কামাল।
১৯ মার্চ বাজে আম্পায়ারিংয়ের কারণে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে ছিটকে পড়ে টাইগাররা। এ নিয়ে ওই সময়ে বিশ্বজুড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে আলোচনার ঝড় ওঠে। অনেকেই আইসিসি ও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) সমালোচনাও করেন।
যখনই চায়ের আড্ডায় উঠে আসে বিশ্বকাপ ক্রিকেট, তখনই আলোচনার কেন্দ্রে থাকে বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ। আলোচনায় উঠে আসেন দুই আম্পায়ার ইয়ান গোল্ড ও আলিমদার। ক্রিকেট মহাযজ্ঞের কোয়ার্টার ফাইনালে দুই আম্পায়ার এতটাই পক্ষপাতদুষ্ট ছিলেন, ১৬ কোটি ক্রিকেটপ্রেমী বাঙালি ধিক্কার জানিয়েছে দুজনকে।
এদিকে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে এদেশে সফরে আসে পাকিস্তান দল। তবে এসে বেশি কিছু আদায় করে নিতে পারেনি দলটি। হারতে হয়েছে সবগুলো ম্যাচ। ওয়ানডেতে হতে হয়েছে হোয়াইটওয়াশ (বাংলাওয়াশ)। একমাত্র টিটোয়েন্টিতেও পাকিস্তানকে জিততে দেয়নি টাইগারবাহিনী।
এবার স্বাভাবিকভাবেই আঙুল উঠেছে ভারতের দিকে। যে ভারত অর্থের জোরে আইসিসিকে হাতের পুতুল বানিয়ে রেখেছে। যে ভারতের কারণে সেমিফাইনালে উঠথে পারেনি টাইগাররা। সেই ভারত এবার বাংলাদেশে এসে দেখিয়ে দিক তারা কতটা শক্তিশালী।
ভারতের সঙ্গেও ক্রিকেটীয় সম্পর্কের অবনতিও হয়েছে। এমনটি অবশ্য চাইছে না দুই বোর্ড। বিসিবি ও বিসিসিআই চাচ্ছে সম্পর্কের উন্নতি। আগের মতো সৌহার্দ্যপূর্ণ। এ জন্য আগামী মে মাসে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে আসতে চাইছে ভারত। অথচ বাইলেটারাল সিরিজটি শুধু ওয়ানডে হওয়ার কথা ছিল।
এর আগে গত বছরের জুনে ওয়ানডে সিরিজ খেলে গেছে ভারত। যদিও সফরে ভারতের দ্বিতীয় সারির দল এসেছিল। এবার পূর্ণ শক্তির দল পাঠাবে ভারত। সফরে দুই টেস্ট, তিন ওয়ানডে ও একটি টি-২০ খেলার সম্ভাবনা রয়েছে দলটির। পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলেছে ভারত সর্বশেষ ২০১০ সালে। এরপর অবশ্য এশিয়া কাপ, টি-২০ বিশ্বকাপ খেলেছে ভারত।
গত জুনে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজ হলেও একটি বাতিল হয়েছিল বৃষ্টিতে। বাকি দুটি লড়াই করলেও জয়ের মুখ দেখেনি টাইগাররা। তবে বিশ্বকাপ ক্রিকেটে দুর্দান্ত খেলা বাংলাদেশ এখন ক্রিকেটের প্রতিষ্ঠিত শক্তি। ইংল্যান্ডের মতো প্রতিষ্ঠিত শক্তিতে টপকে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেন মাশরাফিরা।
আইসিসি চেয়ারম্যান শ্রীনিবাসন তার প্রভাব খাটিয়ে ভারতের বাংলাদেশ সফর বাতিল করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বিসিসিআইয়ের বর্তমান সভাপতি জগমোহন ডালমিয়ার দৃঢ়তায় সেটা পারেননি। উল্টো ডালমিয়া পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলানোর প্রস্তাব দিয়েছেন বিসিবিকে। বিসিবিও সম্মতি দিয়েছে। এখন কাজ করছে আইটিনারি প্রস্তুত করতে। তিন ওয়ানডের সবগুলোই মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে হবে। দুই টেস্টের একটি মিরপুর এবং বাকিটি জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে এবং টি-২০ ম্যাচ হবে মিরপুরে।
পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলার কথা থাকলেও বিসিবির সিইও নিজামুদ্দিন চৌধুরী এ বিষযে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে বিসিবির বেশ কয়েকজন পরিচালক চানান, বিসিবির পরবর্তী সভায় সফর নিয়ে আলোচনা হবে। এরপরই চূড়ান্ত হবে ভারতের বাংলাদেশ সফর।
বিএ/আরআই