সার্ফিংয়ে ঢেউয়ে ঢেউয়ে উড়াল দেয়ার নেশা


প্রকাশিত: ১১:৫৫ এএম, ২৭ এপ্রিল ২০১৫

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের উত্তাল ঢেউয়ে উড়াল দেয়ার এ যেন ভিন্ন এক নেশা। যে নেশার একেকটি ঢেউ অতিক্রম করে জয়ের নেশা ঘিরে বসেছে সার্ফারদের। সার্ফিং বোট হাতে নিয়ে একেকজন সার্ফার নেমে পড়েন ঢেউয়ের মধ্যে। নিজস্ব কৌশলে তারা সাগরের উত্তাল ঢেউ অতিক্রম করার প্রতিযোগিতা শুরু করেন। এটি ছিল সোমবার সকালে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবণী পয়েন্টে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপি ব্র্যাক চিকেন প্রথম জাতীয় সার্ফিং প্রতিযোগিতার ঘটনা।

দেখলে মনে হবে, এই বুঝি উত্তাল ঢেউয়ে হারিয়ে যাবেন তারা। যেন সাগরের ঢেউ তাদের গতিবেগ থামাতেই পারছে না। সার্ফিং বোট হাতে কূলে ফিরেছেন বিদ্যুৎ বেগে। ঘোষণা দিচ্ছেন সমুদ্র ঢেউ জয়ের।

ব্র্যাক চিকেনের পৃষ্ঠপোষকতা ও বাংলাদেশে সার্ফিং অ্যাসোসিয়েশনের ব্যবস্থাপনায় এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন সার্ফ ইন দ্যা নেশনের প্রতিষ্ঠাতা টম বাওয়ার ও বাংলাদেশ সার্ফিং অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এস এম ইকবাল বিন আনোয়ার। এসময় বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের ম্যানেজার (পি আর অ্যান্ড মিডিয়া) পারভেজ আহমেদ চৌধুরী পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা এইচ ইউ এম মেহেদী সাজ্জাদ, সার্ফিং দ্যা নেশন্সের প্রতিনিধি জ্যাক ট্রেইন এবং অ্যান্ডু স্টিলসহ অন্যরা।

এরপরই শুরু হয় ৭০ জন নারী-পুরুষ ও শিশু সার্ফারদের অংশগ্রহণে এ প্রতিযোগিতা। আর প্রতিযোগিতার বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ৬ জন বিদেশি সার্ফার। এদিকে সমুদ্রের ঢেউয়ের সঙ্গে অন্য এক যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা নিয়ে সার্ফাররা বিদ্যুৎ গতিতে অতিক্রম করেছে সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ। তাই প্রথমবারের মতো জাতীয় সার্ফিং প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পেরে খুশি সার্ফাররা।

সার্ফার রাশেদ, জুয়েল ও সিফাত বলেন, গত ১০ বছর ধরে কক্সবাজার সৈকতে সার্ফিং করছি। কিন্তু বড় ধরণের কোন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়নি। এই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে জাতীয় সার্ফিং প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পেরে আমরা খুবই খুশি।

তারা আরো বলেন, বিদেশিরা আমাদের সার্ফিং দেখে খুবই সন্তুষ্ট। আগামীতে বিদেশে আন্তর্জাতিক সার্ফিং প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হলে বাংলাদেশ থেকে প্রতিযোগি নিয়ে যাওয়া হবে বলে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। তাই এই প্রতিযোগিতায় ১ম, ২য় ও ৩য় হওয়ার জন্য কঠোর পরিশ্রম করছি।

আমেরিকার নাগরিক সার্ফিং দ্যা নেশনের প্রতিষ্ঠাতা টম বাওয়ার বলেন, বিশ্বের অন্যান্য রাষ্ট্রের সাগরে পাথরসহ নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে সার্ফিং নিরাপদ নয়। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত তার ব্যতিক্রম। তাই প্রতিবছর সার্ফিংয়ের জন্য কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে ছুটে আসি। আর সার্ফিংয়ের মাধ্যমে কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

কণ্ঠশিল্পী তাহসান বলেন, কক্সবাজারকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরার জন্য আমরা অনেক কিছুই করছি। পাবলিক ফিগার হিসেবে আমাদের কিছু দায়িত্বও আছে। তাই যখনই সুযোগ পাই, তখনই কক্সবাজারকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরার চেষ্টা করি।

তিনি আরো বলেন, ভালো সার্ফিং করতে জানি না। তবুও বিশ্বের কয়েকটি জায়গায় আমার সার্ফিং করার সুযোগ হয়েছে। কক্সবাজারে এমন একটা আয়োজন হচ্ছে জেনে ছুটে আসলাম।

বাংলাদেশ সার্ফিং অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এস এম ইকবাল বিন আনোয়ার বলেন, এটাই প্রথমবারের মতো কক্সবাজারের জাতীয় সাফিং প্রতিযোগিতা। সরকার ২০১৬ সালকে পর্যটন বর্ষ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন। তাই আগামী বছর কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক সার্ফিং প্রতিযোগিতা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এতে কক্সবাজারে প্রচুর বিদেশি পর্যটকের আগমন ঘটবে বলে আশা করি। আর সার্ফিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশে পর্যটন শিল্পকে বিকশিত করতে চাই।

প্রতিযোগিতার প্রথম দিন সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া প্রতিযোগিতা চলে দুপুর ২টা পর্যন্ত। মঙ্গলবারও প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে এবং বিকেলে ২য় পর্বে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হবে।

এমজেড/আরআই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।