ইউরোপের দলগুলোর সফর এশিয়ান ফুটবলের জন্য ভালো
ইউরোপের বড় দলগুলোর সফর মহাদেশের ফুটবলের জন্য ক্ষতির কারণ নয় বরং এশিয়ার ফুটবলের জন্য ভালো বলে মন্তব্য করেছেন এই অঞ্চলের সিনিয়র কর্মকর্তারা। ইউরোপের তারকা সমৃদ্ধ ক্লাবগুলোর এশিয়া সফরকালে এ অঞ্চলের দর্শকরা তাদের দারুণভাবে বরণ করে নিয়ে থাকে।
তবে বিপুল অর্থ ব্যয়ে ইউরোপীয় ক্লাবগুলোর এশিয়ার সফরের সমালোচনা করে আসছেন সমালোচকরা। সমালোচকদের মতে ইউরোপীয় ক্লাবগুলোর বিপুল জনপ্রিয়তার কাছে স্থানীয় লিগের ক্লাবগুলো আরো ম্লান হয়ে পড়ে এবং তাদের রীতিমতো সংকটে পড়তে হয়।
এদিকে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) সাধারণ সম্পাদক অ্যালেক্স সোসি বলেছেন, অনেকে অভিযোগ করেছেন যে, বিপুল অর্থ আয়ের লক্ষ্যে এই সফরগুলোর আয়োজন করা হয়, যা আদৌ সত্য নয়।
বাহরাইনে অনুষ্ঠিত এএফসি কংগ্রেসে তিনি বলেন, আমরা চেলসি, আর্সেনাল, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মতো দলগুলোকে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও চীন সফর করতে দেখেছি। এগুলো এমন কয়টি দেশ যেখানে ফুটবল এগিয়ে যাচ্ছে। ২০১৫ সালের এশিয়া কাপে ভালো করেছে চীন। সেখানে ফুটবল নিয়ে দারুণ আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়া সম্ভাবনাময় ফুটবলের দেশে পরিণত হচ্ছে। কারণ সেখানে ফুটবলের দারুণ জনপ্রিয়তা রয়েছে। খেলাটির জন্য এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং আমি মনে করি না এই জনপ্রিয়তা ক্ষতিগ্রস্ত হবে বরং এটি আরো বাড়বে।
আগামী মাসগুলোতে এশিয়া সফরকারী ক্লাবের তালিকায় রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ, লিভারপুল ও আর্সেনালের মতো ডাকসাইটের ক্লাবগুলো। এর ফলে তাদের সমর্থন ও পণ্যদ্রব্যের বেচা-বিক্রি বেড়ে যাবে।
সোসি বলেছেন যে, সফরকারী ক্লাবগুলো এখানকার ফুটবলের জনপ্রিয়তা বাড়িয়ে দেবে। তাদের কোচিং কার্যক্রমের ফলে ফুটবলেরও উন্নতি ঘটবে। ওই কর্যক্রমে অর্থ বিনিয়োগেও নতুন দিগন্তের সূচনা করবে।
তিনি বলেন, ইউরোপীয় ক্লাবগুলোর কাছ থেকে এশিয়ার ক্লাবগুলোর অনেক কিছু শেখার রয়েছে। আপনি যদি চীনে যান, তখন শুনতে পাবেন চেলসি, চেলসি জয়ধ্বনি। আর মালয়েশিয়া গেলে শুনবেন ম্যানচেস্টার, ম্যানচেস্টার। সুতরাং এ জতীয় আগ্রহ খুবই উৎসাহব্যঞ্জক। শিশুদের জন্যও এটি ভালো দিক।
সবশেষে তিনি বলেন, বড় ক্লাবগুলোর আগমন সবার মধ্যে যেমন আগ্রহের সৃষ্টি করে, তেমনি এর মূল্যকেও বাড়িয়ে তোলে।
এমআর/পিআর