ছাড় পাবেন না ধোনি-কোহলি


প্রকাশিত: ০৯:২৮ এএম, ৩০ মে ২০১৫

১৯৮৬ সালের ৩১ মার্চ পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ। এরপর কালে কালে অনেক বদলেছে বাংলাদেশ। ১৯৯৭ সালে আইসিসি ট্রফি জয় দিয়ে এক নতুন যুগের সূচনা হয় বাংলাদেশ ক্রিকেটে। ১৯৯৯ বিশ্বকাপে পাকিস্তান বধের মাধ্যমে জোরালো হয় টেস্ট স্ট্যাটাস পাবার সম্ভবনা। ২০০০ সালে ভারতের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট খেলতে নামে বাংলাদেশ। দুর্জয় বুলবুলের দুর্দান্ত পারফর্মেন্সে ড্রয়ের স্বপ্ন দেখিয়ে শেষ পর্যন্ত হার মানে টাইগার বাহিনী। তবে পাঁচদিন খেলা বাংলাদেশের লড়াকু মনভাব বেশ প্রশংসাই পেয়েছিল ক্রিকেটবোদ্ধাদের কাছ থেকে।

সেই ধারাবাহিকতায় দেশের ক্রিকেটের ভালো উন্নতি না করতে পারায় অনেক কথায় শুনতে হয়েছে। প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেট। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন।

২০১২ সালের এশিয়া কাপে দুর্দান্ত খেলে ফাইনালে মাত্র ২ রানে হেরে ট্রফি হারায়। এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নিউজিল্যান্ডের মতো দলকে হারিয়ে ছন্দে থাকা বাংলাদেশ ২০১৩ এর শেষ দিকে হঠাৎ ই পথ হারিয়ে ফেলে। তবে জিম্বাবুয়েকে ধবল ধোলাই করে আবারো ছন্দে ফেরে টাইগাররা।

২০১৫ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে বিদায় করে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলে বাংলাদেশ। হয়তো সেমিতেও খেলতে পারতো টাইগারবাহিনী যদি অ্যাম্পিয়ারদের বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলো পক্ষে যেত। সর্বশেষ পাকিস্তানকে ধবল ধোলাই করে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে রয়েছে বাংলাদেশ। ওয়ানডের পাশাপাশি টি-২০তেও জয় পায় বাংলাদেশ।

এবার প্রতিপক্ষ ভারত। ওয়ানডেতে মোট ২৯বার মোকাবেলায় ভারতের ২৫ জয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয় মাত্র তিন। পরিসংখ্যান সাম্প্রতিক পারফর্মেন্সে সবদিক থেকেই এগিয়ে ভারত। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারার আগে সবগুলো ম্যাচেই জয় পায় তারা। ফর্মের তুঙ্গে আছেন কোহলি-রাহানে-রহিতরা। বোলাররাও তাদের সেরাটা খেলছেন।

তবে পিছিয়ে নেই টাইগাররাও। বিশ্বকাপ থেকেই দারুণ ছন্দে আছে বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা। পাকিস্তানের বিপক্ষে ধারাবাহিকভাবে রান পেয়েছেন তামিম-মুশফিক। ভালো খেলেছেন সাকিব, মাশরাফিও। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান হটাৎ ছন্দহারা মাহমুদুল্লাহও বিসিএল সিরিজ দিয়ে ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তরুণ সাব্বির সৌম্যও আছেন সঠিক পথে। বিশ্বকাপ থেকেই ভালো খেলছেন বাংলাদেশের পেসাররা। মাশরাফি রুবেলের পাশে তরুণ তুর্কী তাসকিনও নজর কেড়েছেন সবার। স্পিনে আরাফাত সানি নিজের জাত চিনিয়েছেন। ইনজুরি নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তা থাকলেও ফিটনেস ফিরে পেয়েছেন রুবেল শফিউল। তাই সব মিলিয়ে ছেড়ে কথা বলবেনা বাংলাদেশ।

তবে এবার যে মাঠের লড়াইটা একতরফা হবেনা সেটা ভারতের দল দেখলেই কিছুটা আনুমান করা যায়। এই পর্যন্ত তিনবার বাংলাদেশে সিরিজ খেলতে আসা ভারত এবারই প্রথম তাদের সেরা দল নিয়ে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে ভালো খেলতে থাকা বাংলাদেশকে বেশ সমীহের দৃষ্টিতেই দেখছে টিম ইন্ডিয়া।

ওয়ানডেতে ঘরের মাঠে এবার তিব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাই আশা করছে ক্রিকেট বিশ্ব। সৌরভ গাঙ্গুলি, সুনিল গাভাস্কার, ওয়াসিম আকরামসহ অনেক তারকাই বলেছেন বাংলাদেশ ভারতের লড়াইটা হবে জমজমাট। তবে সব ছাপিয়ে মাঠেই দেখা যাবে শেষ চিত্র। মাশরাফিরা তাদের সেরাটা খেলতে পারলে আর একটি সিরিজ জয় আশা করতেই পারে বাংলাদেশের ক্রিকেটভক্তরা।

এএইচ/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।