হ্যারি কেইন

‘বিশ্বকাপের জন্যই আমরা বেঁচে থাকি’

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭:২৩ পিএম, ১৩ মে ২০২৬

একজন পেশাদার ফুটবলারের জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন নিজ দেশের হয়ে বিশ্বকাপে প্রতিনিধিত্ব করা। আর যারা ফেবারিট, তাদের স্বপ্ন থাকে বিশ্বকাপটা জয় করা। এটাই হয়ে ওঠে একজন ফুটবলারের জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য।

ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন তৃতীয়বারের মত বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন। কাতার বিশ্বকাপের দুঃস্বপ্ন এখনও তাড়া করে ফিরছে কেইনকে। কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে ৮৪তম মিনিটে পেনাল্টি মিস করেছিলেন তিনি। যা ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে দেয়। তার আগেরবার সেমিফাইনাল খেলেছিল ইংলিশরা।

এবার হ্যারি কেইন অনেক পরিণত। জার্মান বুন্দেসলিগায় বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে যেন গোল মেশিনে পরিণত হয়েছেন তিনি। ইংল্যান্ড জাতীয় দলের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতা কেইন এবার বিশ্বকাপেও নিজের ঝলক দেখাতে চান। ইংলিশদের স্বপ্ন পূরণ করে হতে চান ইতিহাসের অংশ।

ফিফা ডট কমের সঙ্গে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের ফুটবল জীবনের অনেক অজানা কথাই তুলে ধরেছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন। জাগোনিউজের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো সাক্ষাৎকারটি।

প্রশ্ন: বিশ্বকাপ আপনার কাছে কী অর্থ বহন করে?

হ্যারি কেইন: আমার কাছে বিশ্বকাপ একজন পেশাদার ফুটবলারের ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ মঞ্চ। এটা আমার তৃতীয় বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে। আগের চেয়ে এবার উত্তেজনা আরও বেশি, কারণ এখন আমি আরও ভালোভাবে বুঝি এই টুর্নামেন্ট কতটা বড় এবং বিশেষ। ভক্তদের সামনে, ভিন্ন ভিন্ন স্টেডিয়ামে খেলতে পারাটা অসাধারণ অনুভূতি। আবারও সেই অভিজ্ঞতা নিতে পারব ভেবেই রোমাঞ্চিত হচ্ছি।

ছোটবেলা থেকেই এই মঞ্চে খেলার স্বপ্ন দেখেছি। অনেক সময় বিশ্বকাপে এসে খেলোয়াড়রা পরিস্থিতিকে ভয় পায় কিংবা ব্যর্থতার ভয় কাজ করে। কিন্তু এটাই তো জীবনের অংশ। আমরা (ফুটবলাররা) এটার (বিশ্বকাপ) জন্যই বাঁচি। প্রতিদিন অনুশীলন করি, মাঠে নামি, যেন এই মঞ্চে নিজেদের মেলে ধরতে পারি। ক্যারিয়ার খুব ছোট। জীবনে খুব বেশি বড় টুর্নামেন্ট খেলার সুযোগ আসে না। তাহলে ভয় নিয়ে সময় নষ্ট কেন? মাঠে গিয়ে নিজেকে প্রকাশ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রশ্ন: ইংল্যান্ডের হয়ে আপনি বেশ কয়েকবার শিরোপার খুব কাছে গিয়েও পারেননি। এ বিষয়টা কতটা অনুপ্রাণিত করে?

কেইন: যখন এত কাছে গিয়েও জেতা যায় না, সেটা খুব কষ্টের অনুভূতি। আমি জানি, ট্রফি জিততে পারলে সেটা শুধু খেলোয়াড় বা কোচিং স্টাফের জন্য নয়, পুরো দেশের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ হবে। এটা এমন এক স্মৃতি হবে, যা সবাই সারাজীবন মনে রাখবে। আমরা যেহেতু খুব কাছাকাছি গিয়েছি, তাই এবার আরও একধাপ এগিয়ে যাওয়ার তাড়না অনেক বেশি।

প্রশ্ন: দেশের সমর্থকদের বিপুল সমর্থন কতটা অনুপ্রেরণা দেয়?

কেইন: এটাই বড় টুর্নামেন্টকে বিশেষ করে তোলে। আপনি বুঝতে পারেন, মানুষের কাছে এটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। অবশ্যই সমর্থকদের প্রত্যাশা থাকে, চাপও থাকে; কিন্তু এটাও আমাদের বাস্তবতা। আমরা যেহেতু আগে সেমিফাইনাল ও ফাইনাল খেলেছি, তাই এখন মানুষ চায় আমরা শিরোপা জিতি। আমরা সেটা জানি এবং সেই মানসিক প্রস্তুতিও আছে।

প্রশ্ন: আপনি আমেরিকান ফুটবলের বড় ভক্ত। এই আগ্রহ কিভাবে তৈরি হলো?

কেইন: আমার বয়স তখন ১৬ বা ১৭। আমি টম ব্র্যাডির একটি ডকুমেন্টারি দেখেছিলাম। একজন ক্রীড়াবিদ হিসেবে তাকে ভীষণ অনুপ্রেরণাদায়ক লেগেছিল। এরপর থেকেই এনএফএল সম্পর্কে জানতে শুরু করি। টম ব্র্যাডির কারণেই নিউ ইংল্যান্ড প্যাট্রিয়টসের সমর্থক হয়ে যাই। ধীরে ধীরে খেলাটার প্রেমেই পড়ে যাই।

প্রশ্ন: বিশ্বকাপে এনএফএল স্টেডিয়ামে খেলতে কেমন লাগবে?

কেইন: দারুণ অভিজ্ঞতা হবে। আমরা বোস্টনে ঘানার বিপক্ষে খেলব এবং নিউ ইংল্যান্ডের স্টেডিয়ামেও নামব। আমি আগে কখনো সেখানে যাইনি। তাই এটা আমার জন্য খুব বিশেষ একটি মুহূর্ত হতে যাচ্ছে।

প্রশ্ন: ভবিষ্যতে পেশাদারভাবে আমেরিকান ফুটবল খেলার কথা এখনও ভাবেন?

কেইন: কে জানে! হয়তো কিকার হিসেবে চেষ্টা করতে পারি। কয়েকবার করেছি। ক্যারিয়ারের শেষ দিকে হয়তো এটা চেষ্টা করব। তবে উচ্চ পর্যায়ে খেলতে গেলে প্রচুর নিবেদন দরকার, সেটাও আমি জানি।

প্রশ্ন: ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হিসেবে সময়ের সঙ্গে নিজেকে কিভাবে বদলাতে দেখছেন?

কেইন: অধিনায়ক হওয়া বিশাল সম্মানের বিষয়। আমি কখনো এটাকে হালকাভাবে নেইনি। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে যখন অধিনায়কত্ব পাই, তখন বয়স কম ছিল। এখন আমি অনেক অভিজ্ঞ। আগের চেয়ে অনেক কিছু শিখেছি। আরেকটি বিশ্বকাপে অধিনায়ক হিসেবে দলকে নেতৃত্ব দিতে পারাটা আমার জন্য খুব বিশেষ ব্যাপার।

প্রশ্ন: কোচ টমাস টুখেল দলীয় ঐক্য ও আত্মবিশ্বাসের কথা বলেছেন। এটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

কেইন: আমরা অনেক দিন ধরেই দারুণ একটা ঐক্য গড়ে তুলেছি। টুখেল আসার পর সেটাকে আরও গুরুত্ব দিয়েছেন। কৌশল আর ফুটবলের বাইরেও বড় টুর্নামেন্টে একসঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটাতে হয়। তখন খেলোয়াড়দের পারস্পরিক বোঝাপড়া ও ভ্রাতৃত্ববোধ খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। আমাদের দলে সেটা আছে এবং সবাই একই লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে।

প্রশ্ন: ১৯৬৬ বিশ্বকাপজয়ী ইংল্যান্ড দল এখনও কিংবদন্তি। তাদের কাতারে নাম লেখানো কতটা বড় ব্যাপার হবে?

কেইন: এটা এখনই কল্পনা করাও কঠিন। সেখানে পৌঁছাতে এখনও অনেক পথ বাকি। অনেক বছর ধরে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ জেতেনি এবং আমি জানি দেশের মানুষ কতটা অপেক্ষা করছে। আমরাও চাই ইতিহাসের অংশ হতে, নিজেদের নাম সোনালি অক্ষরে লিখতে। তবে সেটা করতে হলে প্রচুর ত্যাগ, কঠোর পরিশ্রম এবং মানসিক শক্তি দরকার। আমরা সেই প্রস্তুতিই নিচ্ছি।

আইএইচএস/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।