এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ
মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ভারতের দেওয়া ১৯৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে দুর্দান্ত খেলছে বাংলাদেশ। কুলকার্নির বলে ১৩ রান করে তামিম দ্রুত বিদায় নিলেও দুই তরুণ ব্যাটসম্যান সৌম্য সরকার এবং লিটন দাস দেখে শুনে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এরপরই হয় ছন্দপতন। টানা দুই ওভারে সৌম্য ও লিটনকে ফিরিয়ে খেলায় ফেরার চেষ্টা করেন অশ্বিন ও প্যাটেল।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত টাইগারদের সংগ্রহ ২০ ওভার শেষে ১০৩ রান। মুশফিক ৯ আর সাকিব ৭ রান নিয়ে ব্যাট করছে। এর আগে ভারতের দেওয়া ১৯৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করে দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল এবং সৌম্য। তবে তামিমের পর দ্রুত সৌম্য ও লিটনের বিদায়ের পর কিছুটা ধীরস্থির ভাবে খেলে চলেছেন তারা।
এর আগে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলে অল্পের জন্য বেঁচে গেলেও ইনিংসটা বেশি দূর নিতে পারেননি তামিম ইকবাল। কুলকার্নির বলে ১৩ রান করে সাজঘরে ফেরেন টাইগার এই ওপেনার। ৪টি ওয়ানডে খেললেও তামিমের উইকেট দিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম উইকেটের স্বাদ পান কুলকার্নি।
এ ম্যাচ জিতলেই সিরিজ জয়ের পাশাপাশি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলা নিশ্চিত হবে টাইগারদের। তবে এই রান করতে বাংলাদেশ পাবে ৪৭ ওভার। বৃষ্টির কারণে ডার্ক ওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে ৩ ওভার কমে আসলেও রান কমেছে মাত্র ২ রান।
এর আগে শক্তিশালী ভারতকে দুশত রানে আটকে দেয় বাংলাদেশের বোলাররা। মুস্তাফিজের একের পর এক আঘাতে বিদ্ধস্ত হয়ে যায় ধোনির ভারত। অভিষেকে পাঁচ উইকেট নেবার এই ম্যাচে তুলে নিলেন ছয় উইকেট।
দিনের শুরুটাও করেছিলেন মুস্তাফিজ। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই রোহিতকে ফেরান এই বা হাতি পেসার। ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে দুর্দান্ত ক্যাচ নেন সাব্বির আহমেদ। দ্বিতীয় বলে রোহিতের উইকেট হারিয়ে চাপে পরে ভারত। তবে শেখর ধাওয়ান এবং বিরাট কোহলির ৭৪ রানের জুটিতে সে ধাক্কা সামলে নেয় ভারত।
১৩তম ওভারের তৃতীয় বলে টাইগারদের হয়ে দ্বিতীয় আঘাত হানেন নাসির। এলবিডাব্লিউর ফাঁদে ফেলে ফেরান ভারতের পোস্টার বয় বিরাট কোহলিকে। ২১তম ওভারের শেখর ধাওয়ানকে কিপার লিটন দাসের ক্যাচে পরিণত করে বাংলাদেশকে আবার উল্লাসে ভাসান নাসির হোসেন। তবে আউট হওয়ার আগে ক্যারিয়ারের ১৩তম অর্ধশত রান তুলে নিয়েছেন উদ্বোধনী এই ব্যাটসম্যান। ৬০ বলে ৭টি চারে ৫৩ রান করেন এই ভারতীয় ব্যাটসম্যান।
পরের ওভারেই রুবেল ফেরান আম্বাতি রাইডুকে। এরপর কোণঠাসা ভারত ধোনি-রায়নার ব্যাটে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। এই দুই ব্যাটসম্যান ৫৩ রানের জুটি গড়ে তুলেন। তবে মুস্তাফিজের আঘাতে ফিরে যেতে হয় রায়নাকে। ৩৬তম ওভারের তৃতীয় বলে কিপার লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরেন সুরেশ রায়না।
এরপর ৩৯তম ওভারের তৃতীয় ও চতুর্থ বলে ধোনি ও অক্ষর প্যাটেলকে সাজঘরে ফেরান মুস্তাফিজ। প্রথম ম্যাচে ধোনি-মুস্তাফিজের সেই ধাক্কার ঘটনার পর রোববারের ম্যাচে ধোনির উইকেট পেয়ে যেন উল্লাসে ভেঙ্গে পড়েন মুস্তাফিজ। অনেকটা যেন প্রতিশোধ নেওয়ার মতো। ৪১ ওভারের শেষ বলে আবারো আঘাত হানেন ভারত শিবিরে। ক্যাচ আউট করে সাজঘরে ফেরান অশ্বিনকে।
এ সময় আবারো বাধা হয়ে দাঁড়ায় বৃষ্টি। বৃষ্টির কারণে সাময়িক খেলা বন্ধ থাকালেও বৃষ্টি শেষ হবার পর প্রথম এবং নিজের কোটার শেষ বলে আউট করেন ভারতের শেষ স্বীকৃত ব্যাটসম্যান জাদেজাকে। এরপর রুবেল শেষ ব্যাটসম্যান ভুবেনেশ্বর কুমারকে আউট করলে ২০০ রানে গুটিয়ে যায় ভারতের ইনিংস।
আরটি/আরএস/আরআইপি