এফএ কাপ
চেলসিকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন সিটির চোখ ঘরোয়া ট্রেবলে
অ্যান্তোনিও সেমেনিওর করা গোলে চেলসিকে হারিয়ে ১-০ ব্যবধানে এফএ কাপের শিরোপা জিতেছে চেলসি। এই শিরোপায় ঘরোয়া ট্রেবল জয়ের আশা বাঁচিয়ে রাখলো সিটি।
গতকাল শনিবার এফএ কাপের ফাইনালে লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে সেমেনিওর দ্বিতীয়ার্ধের গোলে চেলসির প্রতিরোধ ভেঙে ১-০ ব্যবধানে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে সিটি।
ম্যাচজুড়ে চেলসি রক্ষণাত্মক কৌশলে খেলেছিল এবং দারুণ শৃঙ্খলার সঙ্গে সিটির আক্রমণ ঠেকিয়েছে একাধিকবার। কিন্তু ম্যাচের ৭২ মিনিটে অসাধারণ এক মুহূর্তেই সব বদলে যায়। সেটিই ছিল সম্ভবত সেমেনিওর ক্যারিয়ারের সেরা গোল।
বের্নার্দো সিলভা বল বাড়ান আর্লিং হালান্ডের দিকে। এগিয়ে যান ডান দিক দিয়ে আর দেখেন লেভি কলউইলের কড়া মার্কিংয়ে রয়েছেন সেমেনিও। তখন অসাধারণ বুদ্ধিমত্তা ও নিখুঁত টাচে সেমেনিও দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে বল যেতে দিয়ে আবার পেছন দিকে রাখা ডান পায়ে দারুণ ফ্লিক করে বল পাঠিয়ে দেন প্রতিপক্ষের জালে।
সুযোগ ছিল চেলসির কাছেও। বিশেষ করে এনজো ফার্নান্দেজ। ছয় গজ বক্সের ভেতর থেকে অল্পের জন্য বল উড়িয়ে দেন ক্রসবারের ওপর দিয়ে। অন্তর্বর্তীকালীন কোচ ক্যালাম ম্যাকফারলেনের জন্য এটি স্মরণীয় মুহূর্ত হতে পারতো।
এখন সিটির মনোযোগ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা লড়াইয়ে। মঙ্গলবার তারা খেলবে বোর্নমাউথের মাঠে। যদি এটি পেপ গার্দিওলার শেষ মৌসুম হয়, তবে মার্চে জেতা কারাবাও কাপের সঙ্গে অন্তত আরও একটি শিরোপা নিয়ে বিদায় নেবেন তিনি।
সিটির আক্রমণ পাত্তাই পায়নি প্রথমার্ধে। চেলসির পাঁচ ডিফেন্ডারের রক্ষণ কার্যত স্তব্ধ করে দেয় তাদের। ম্যাচে তেমন সুযোগ তৈরি হয়নি। একবার চেলসি নিজেদের ভুলে বিপদে পড়ে রিস জেমস চাপের মুখে বল হারান হালান্ডের কাছে। তিনি বক্সে ঢুকে ক্রস করলেও সেখানে কেউ ছিলেন না।
পরে মাথেউস নুনেসের ক্রস থেকে হালান্ড গোল করলেও অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হয়।
গার্দিওলা ক্ষুব্ধ হন যখন ফার্নান্দেজের দুই পা তুলে করা ট্যাকলের পরও তিনি শুধু হলুদ কার্ড দেখেন বের্নার্দো সিলভার ওপর ফাউলের জন্য।
৪৩ মিনিটে ম্যাচের প্রথম বড় সুযোগ পান হালান্ড। ওয়েসলি ফোফানাকে পেছনে ফেলে শট নিলেও সরাসরি সানচেজের হাতেই বল পাঠান।
বিরতির পর অকার্যকর ওমর মারমুশকে তুলে এনে নামানো হয় রায়ান চেরকিকে। যাতে চেলসির রক্ষণে শূণ্যতা তৈরি করা যায়।
দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর দুই মিনিট পরই সেমেনিও গোল করার বড় সুযোগ মিস করেন। নিকো ও'রেইল্লির দুর্দান্ত ক্রস তিনি হেডে অল্পের জন্য বাইরে পাঠান।
শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে একটি ব্যক্তিগত মুহূর্ত। হালান্ডের নিখুঁত ক্রস থেকে সেমেনিওর ফ্লিক চেলসির রক্ষণ ভেঙে দেয়।
শেষদিকে চেরকির শট দুর্দান্ত সেভে ঠেকান সানচেজ, যখন চেলসি নিজেদের অর্ধে আবারও বল হারায়। ম্যাচে সিটির আধিপত্য বিবেচনায় দ্বিতীয় গোল পেলে সেটিই হয়তো আরও ন্যায্য ফল হতো।
আইএন