২০১৪’র দুঃস্বপ্ন পেছনে ফেলে নতুন শুরুর আশায় ব্রাজিল

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:২২ পিএম, ১৭ জুন ২০১৮

কেটে গেছে চারটি বছর। এর মধ্যে অনেক উত্থান-পতন ঘটে গেছে। বেলো হরাইজন্তের মিনেইরো স্টেডিয়ামে দুঃস্বপ্নের ম্যাচে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের লজ্জায় ডোবার পর কোচ লুই ফেলিপে স্কলারিকে ছেঁটে ফেলা হলো। আনা হলো কার্লোস দুঙ্গাকে। অন্ধকার থেকে জোগো বোনিতোদের আলোয় বের করে আনতে পারলেন না দুঙ্গাও। মূলতঃ দুঙ্গার হাত ধরেই তো অন্ধকার পথে পা বাড়িয়েছিল ব্রাজিল। সেই দুঙ্গা ২০১৫ এবং ২০১৬ কোপা আমেরিকায় উপহার দিলেন একরাশ হতাশা। বরং, ২০১৬ কোপার শতবর্ষে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল ব্রাজিলকে।

সেই দুঙ্গাকেও ছাঁটাই করা হলো। তার আগেই বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে বেশ কয়েকটি ম্যাচ খেলে ফেলেছিল ব্রাজিল। যেগুলোতেও কোনো আশার আলো ছিল না। বরং, প্রথমবারেরমত বিশ্বকাপ খেলতে না পারার শঙ্কাই ফুটে ওঠে। শেষ পর্যন্ত দুঙ্গাকে ছাঁটাই করে নিয়ে আসা হলো তিতেকে। ২০১০ বিশ্বকাপের পরও একবার তিতের নাম আলোচনায় এসেছিল। ২০১৪ বিশ্বকাপে বিপর্যয়ের পরও আলোচনায় ছিলেন করিন্থিয়ান্সের এই কোচ। অবশেষে তার দ্বারস্থ হতেই হলো ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনকে।

দায়িত্ব নিয়েছিলেন ২০১৬ সালের আগস্টে। এরপর থেকে শুধু ব্রাজিল দলকে বদলে দেয়ার পালা তিতের সামনে। প্রথমে তার কাজ ছিল দলটার মূল সমস্যা নির্ধারণ করা। এরপর তার হাতে যে রিসোর্স আছে, সেগুলোর সঠিক ব্যবহার করা। তিতে এমন এক ডাক্তার, যিনি শিরায় হাত দিয়েই বুঝে গিয়েছিলেন, দলের মূল সমস্যা কি? এবং সে অনুযায়ী ধীরে ধীরে দলটাকে সারিয়ে তোলার কাজ শুরু করলেন।

২০১৬ থেকে ২ বছর পুরো পার হয়নি এখনও তিতের অধীনে। এর মধ্যে ব্রাজিল খেলেছে ২১টি ম্যাচ। যার ১৭টিতেই জয়। পরাজয় মাত্র ১টিতে। তিতের দল গোল করেছে ৪৭টি। বিপরীতে হজম করেছে মাত্র ৫টি। সবচেয়ে বড় কথা, সম্পূর্ণ এক তারকা নির্ভর দলটাকে রাখেননি তিনি। পূরো একটি দল হিসেবে গড়ে তুলেছেন। প্রতিটি জায়গায় তিনি হাত দিয়েছেন।

ইউরোপিয়ান গতিময় এবং কঠিন ফুটবলের সামনে ২০১৪ সালে রক্ষণভাগের যে দৈন্যতা প্রকাশ পেয়েছিল, সেটা পুরোপুরি কাটিয়ে উঠেছেন তিতে। তৈরি করেছেন দারুণ এক রক্ষণবুহ্য। ইনজুরি সমস্যা কাটিয়ে এখন পূর্ণ ফর্মে থিয়াগো সিলভা। তার সঙ্গে মার্কুইনহোস রয়েছেন সেন্ট্রাল ডিফেন্সে। লেফট ব্যাটে মার্সেলো। রাইট ব্যাকে দানিলো। দানি আলভেজের ইনজুরির কারণে এই জায়গাটায় দানিলোই এখন সেরা। সর্বশেষ প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে দানিলো পুরোপুরি আলভেজের অভাব পুষিয়ে দিয়েছেন। বরং, নিজেকে আরও বেশি কার্যকর হিসেবে গড়ে তুলেছেন তিনি।

Brazil-1

মিডফিল্ডে পওলিনহোর সঙ্গে উইলিয়ান এবং ক্যাসেমিরো। দুই উইংয়ে নেইমার এবং কৌতিনহো। ফরোয়ার্ডে গ্যাব্রিয়েল হেসুস। কোন জায়গাটায় ফাঁকা বলা যায়? তিতে বলতে গেলে, পূর্ণ একটি শক্তিশালী স্কোয়াডই তৈরি করে ফেলেছেন। সাইড বেঞ্চও তার শক্তিশালী। ডিফেন্ডার ফার্নান্দিনহো, ফিলিপে লুইস, মিডফিল্ডে রেনাতো আগুস্তো, ফ্রেড, ফরোয়ার্ড ফিরমিনো, ডগলাস কস্তারা রয়েছেন।

সুতরাং, ২০১৪ বিশ্বকাপের দুঃস্বপ্ন পেছনে ফেলে নতুন আরেকটি সূচনার প্রত্যাশায় আজ রোস্ত অন-ডনের রোস্তভ এরেনায় সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামছে ৫ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ইজুরির কারণে ভুগতে থাকলেও শেষ মুহূর্তে এসে পূর্ণ ফিট হয়েই মাঠে নামছেন নেইমার। যদিও ব্রাজিল কোচ বলেছেন, শতভাগ ফিট নন নেইমার। তবুও, ব্রাজিল সমর্থকরা আশা করছেন নেইমার মাঠে নামবেন শুরু থেকেই।

হলুদ জার্সির সাম্বা ঝলকানি দেখার জন্য নিশ্চিত মুখিয়ে রয়েছে সারা বিশ্ব। পুরোপুরি সুস্থ নাই বা হলেন, প্রত্যাশা থাকবে নেইমারের প্রতিভায়। মুগ্ধ হওয়ার আশা থাকবে চকিত পাসে, মন ভরানো ড্রিবলিংয়ে। জেসুস-কুতিনহো-উইলিয়ানের বোঝাপড়ায়। ব্রাজিল মানেই তো সবুজ মাঠে শিল্পের ফুল ফোটানো।

প্রতিপক্ষ হিসেবে সুইত্জারল্যান্ড মোটেই হেলাফেলার মতো নয়। আকষর্ণীয় ফুটবল না খেলেও তারা বড় দলের দুঃস্বপ্ন। শেষ ২২ ম্যাচে হেরেছে মাত্র একটিতে। সেটাও ইউরো চ্যাম্পিয়ন পর্তুগালের কাছে। ব্রাজিল কোচ তিতেও মেনেছেন, কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি হতে হচ্ছেন শুরুতেই। যারা কিনা জেতার জন্য ‘কুৎসিত’ ফুটবল খেলার কথা জানিয়েছে প্রকাশ্যেই। ব্রাজিল ফ্যানদের মতে, এ দিন রাতের লড়াই তাই ‘সুন্দর’ বনাম ‘কুৎসিত’ ফুটবলেরও!

ব্রাজিল অবশ্য আজ সুইসদেরই বিরুদ্ধে খেলবে না। খেলতে হবে চার বছর আগে সাত গোল খাওয়ার যন্ত্রণা ভোলাতেও। নিজের দেশে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ৭ গোল খাওয়া ছিল জাতীয় লজ্জা, অপমান। সেই পরাজয় গলার কাঁটা হয়েই বিঁধেছে সেলেসাওদের।

বিশ্বকাপে ব্রাজিল সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হয়েছে সর্বশেষ ১৯৫০ সালে। সেবার ২-২ গোলে ড্র হয়েছিল ম্যাচটি। তবে সর্বশেষ ব্রাজিল সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হয়ে হেরেছিল। ২০১৩ সালে এক প্রীতি ম্যাচে ১-০ গোলে হেরেছিল ব্রাজিল। মোট ৮ বার মুখোমুখি হয়েছে দু’দল। এর মধ্যে ৩টিতে জয় ব্রাজিলের। সুইজারল্যান্ডের জয় ২টিতে। তিনটি ম্যাচ ড্র। প্রতিযোগিতামূলক টুর্নামেন্টে একবারই মুখোমুখি হয়েছিল, ১৯৫০ সালে।

আইএইচএস/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :