ট্রেন্ডে গা ভাসাতে চান? ক্যারিকেচার ছবি বানাবেন যেভাবে

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১:৩৪ পিএম, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সোশ্যাল মিডিয়ায় একটু চোখ রাখলেই বোঝা যায় কার্টুনে রূপ নেওয়া নিজের ছবি এখন রীতিমতো ট্রেন্ড। ফেসবুক প্রোফাইল থেকে ইনস্টাগ্রাম রিল, হোয়াটসঅ্যাপ ডিপি কিংবা জন্মদিনের পোস্ট সব জায়গাতেই দাপট দেখাচ্ছে ক্যারিকেচার ছবি। বাস্তব চেহারার সঙ্গে কল্পনার মিশেলে তৈরি এই ছবিগুলো যেমন মজার, তেমনই আলাদা করে নজর কাড়ে। আপনিও যদি ট্রেন্ডে গা ভাসাতে চান, জেনে নিন ক্যারিকেচার ছবি বানানোর সহজ আর কার্যকর উপায়।

ক্যারিকেচার কী?

ক্যারিকেচার মানে হলো বাস্তব চেহারার একটু বেশি রঙিন, একটুখানি বাড়াবাড়ি করা রূপ। চোখ বেশি বড়, হাসি বেশি উজ্জ্বল, মুখের বৈশিষ্ট্য আরও স্পষ্ট। আগে এসব বানাতে লাগত দক্ষ শিল্পী ও অনেক সময়। এখন এআই সেই কাজটাই করছে কয়েক সেকেন্ডে।

ক্যারিকেচার কেন এত জনপ্রিয়

ক্যারিকেচার আসলে নিজের পরিচয়টা একটু অন্যভাবে তুলে ধরার সুযোগ। একেবারে সিরিয়াস পোর্ট্রেটের বদলে এখানে থাকে হালকা রসিকতা, ব্যঙ্গ আর সৃজনশীলতা। বন্ধুদের সঙ্গে মজা করা, নিজের স্টাইল আলাদা করে দেখানো বা বিশেষ দিনের স্মৃতি ধরে রাখার জন্য ক্যারিকেচার এখন অনেকের প্রথম পছন্দ।

কীভাবে বানাবেন নিজের ক্যারিকেচার?

১. ভালো ক্যারিকেচারের প্রথম শর্ত একটি পরিষ্কার ছবি। মুখ স্পষ্ট দেখা যায় এমন ছবি ব্যবহার করুন। আলো যেন মুখের ওপর ঠিকভাবে পড়ে, সানগ্লাস বা অতিরিক্ত ফিল্টার দেওয়া ছবি এড়িয়ে চলুন। ছবি যত ভালো হবে, ক্যারিকেচার তত নিখুঁত হবে।

২. এবার একটি এআই টুল বেছে নিন। বর্তমানে জনপ্রিয় কিছু এআই টুল- চ্যাটজিপিটি, মিডজার্নি, লিওনার্দো এআই, টোনমি/ লেন্সা মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন।

৩. এবার সঠিক নির্দেশনা বা প্রম্পট দিন। এআইকে কী বানাতে চান, সেটা স্পষ্ট করে বলতে হবে। যেমন- ‘একটি রঙিন ডিজিটাল ক্যারিকেচার, বড় চোখ, উজ্জ্বল হাসি, বাঙালি পোশাক, সফট লাইটিং, কার্টুন স্টাইল’। আপনি যদি চ্যাটজিপিটি সবসময় ব্যবহার করেন তবে তাকে বলতে পারেন, ‘আমার সম্পর্কে তুমি যা তথ্য জানো তার ওপরে ভিত্তি করে একটি ক্যারিকেচার ইমেজ তৈরি করে দাও’। প্রম্পট যত পরিষ্কার হবে, তত ভালো ছবি পাবেন।

৪. পছন্দমতো এডিট করে নিন। অনেক টুলেই রং, ব্যাকগ্রাউন্ড বা স্টাইল পরিবর্তনের সুযোগ থাকে। প্রয়োজনে একাধিক ভার্সন বানিয়ে সেরা ছবিটা বেছে নিন।

৫. রং আর ব্যাকগ্রাউন্ডে দিন ট্রেন্ডি টাচ। বর্তমান ট্রেন্ডে উজ্জ্বল রং, সিম্পল ব্যাকগ্রাউন্ড আর ক্লিন লুক বেশি জনপ্রিয়। চাইলে নিজের পছন্দের পোশাক, চশমা বা কোনো প্রতীকও যোগ করতে পারেন, যা ছবিটাকে আরও পার্সোনাল করে তুলবে।

মনে রাখবেন কোন বৈশিষ্ট্যটা আলাদা সেটাই আসল। ক্যারিকেচার মানেই সব কিছু বাড়িয়ে দেওয়া নয়। বরং মুখের সবচেয়ে আলাদা দিকটাকে তুলে ধরাই মূল কাজ। কারো চোখ খুব বড়, কারো হাসি আলাদা, কারো নাক বা ভুরু চোখে পড়ে। এই একটি বা দুটি বৈশিষ্ট্য বেছে নিয়ে সেটাকেই একটু বাড়িয়ে দেখানো হয়, যাতে মানুষটিকে চিনতে অসুবিধা না হয়।

ক্যারিকেচার কোথায় ব্যবহার করবেন?

একটা ক্যারিকেচার শুধু ছবি হিসেবেই সীমাবদ্ধ নয়। সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল ও কভার, জন্মদিন বা বিয়ের ডিজিটাল কার্ড, বন্ধুদের জন্য মজার উপহার, অফিস বা টিম মেম্বারদের স্মারক, ঠিকভাবে ব্যবহার করলে এটি হয়ে উঠতে পারে আপনার ডিজিটাল পরিচয়ের অংশ। হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করুন- #AIArt, #AICaricature, #DigitalAvatar, #BanglaTech

যেসব বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি
১. অতিরিক্ত বিকৃতি যেন কারো প্রতি অসম্মানজনক না হয়
২. যার ক্যারিকেচার বানানো হচ্ছে, তার অনুমতি থাকাই ভালো
৩. মজা আর রুচির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখুন

আরও পড়ুন
এআইতে ঝুঁকছে মেটা, এক হাজারের বেশি কর্মী ছাঁটাই
২০২৫-এ প্রযুক্তি বিশ্বে আলোচিত যেসব বিষয় বাংলাদেশেও প্রভাব ফেলেছে 

কেএসকে/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।