ব্যাংক থেকে ফ্যামিলি, একাধিক কার্ড নিরাপদে রাখার সহজ উপায়
আজকের দিনে মানিব্যাগ বা ভ্যানিটি ব্যাগে শুধু টাকা নয়, একাধিক ধরনের কার্ড রাখা খুবই স্বাভাবিক হয়ে গেছে। ব্যাংকের ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, এটিএম কার্ড, জাতীয় পরিচয়পত্র, এলপিজি কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ডসহ নানা ধরনের কার্ড আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠছে। নির্ভরতা বাড়ছে অনলাইন পেমেন্টে। কিন্তু যত কার্ড বাড়ছে, ততই সেগুলো হারানো, ভুলে যাওয়া বা তথ্য চুরির ঝুঁকিও বাড়ছে। তাই একটু স্মার্টভাবে কার্ড ম্যানেজ করা এখন খুব জরুরি।
কার্ড এখন আমাদের জীবনের অপরিহার্য অংশ। কিন্তু এগুলো নিরাপদে রাখতে হলে শুধু মানিব্যাগে রাখা যথেষ্ট নয়। একটু সচেতনতা, কিছু ডিজিটাল টুলস আর স্মার্ট অভ্যাসই পারে আপনার একাধিক কার্ডকে নিরাপদ ও ঝামেলামুক্ত রাখতে।
আসুন কীভাবে এতো কার্ড আপনি নিরাপদ রাখতে পারেন তাই কিছু কৌশল জেনে নেওয়া যাক-
কার্ড হোল্ডার
প্রথমেই বলা যায় আরএফআইডি ব্লকিং কার্ড হোল্ডারের কথা। বর্তমানে অনেক কার্ডে কন্ট্যাক্টলেস প্রযুক্তি NFC (Near Field Communication) and RFID (Radio Frequency Identification) থাকে, যা দিয়ে দূর থেকেই তথ্য স্ক্যান করা সম্ভব। এই ঝুঁকি থেকে বাঁচতে আরএফআইডি ব্লকিং কার্ড হোল্ডার ব্যবহার করা ভালো। এতে বাইরের কোনো স্ক্যানিং ডিভাইস আপনার কার্ডের তথ্য সহজে নিতে পারে না, ফলে নিরাপত্তা অনেক বেড়ে যায়।
ডিজিটাল ওয়ালেট ও ব্যাংক অ্যাপ
ডিজিটাল ওয়ালেট ও ব্যাংক অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেস। এখন প্রায় সব ব্যাংকেরই মোবাইল অ্যাপ আছে, যেখানে কার্ডের সব লেনদেন দেখা যায়। আপনি চাইলে প্রতিটি ট্রানজেকশনের নোটিফিকেশন অন রাখতে পারেন। এতে কোনো অজানা বা সন্দেহজনক লেনদেন হলে সঙ্গে সঙ্গে বুঝতে পারবেন এবং দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারবেন।
কার্ড ক্যাটাগরি অনুসারে সাজান
গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো কার্ডগুলো ক্যাটাগরি করে রাখা। সব কার্ড একসঙ্গে না রেখে ভাগ করে রাখা ভালো। যেমন ধরুন, ব্যাংক কার্ড একদিকে, আইডি কার্ড আলাদা, আর এলপিজি বা ফ্যামিলি কার্ডের মতো ইউটিলিটি কার্ড আলাদা রাখা যায়। এতে প্রয়োজনের সময় দ্রুত কার্ড খুঁজে পাওয়া সহজ হয় এবং বিশৃঙ্খলাও কমে।
ডিজিটাল ব্যাকআপ
ডিজিটাল ব্যাকআপ রাখা আরেকটি স্মার্ট পদ্ধতি। প্রতিটি কার্ডের ছবি বা তথ্য মোবাইল বা ক্লাউডে সংরক্ষণ করে রাখা যেতে পারে। যদি কোনো কার্ড হারিয়ে যায়, তাহলে দ্রুত তথ্য ব্যবহার করে ব্যাংক বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করা সহজ হয়। তবে এসব তথ্য অবশ্যই নিরাপদ ফোল্ডার বা পাসওয়ার্ড প্রটেক্টেড জায়গায় রাখা উচিত।
সারাক্ষণ ব্যাগে না রাখাই ভালো
সব কার্ড সবসময় বহন না করাই ভালো। বাস্তবে দেখা যায় অনেক কার্ড প্রতিদিন ব্যবহারই হয় না। তাই শুধুত্র প্রয়োজনীয় ১-২টি ব্যাংক কার্ড সঙ্গে রাখা এবং বাকি কার্ড নিরাপদ স্থানে রেখে দেওয়া সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে। এতে হারানোর ঝুঁকি অনেক কমে যায়।
মোবাইল নোটিফিকেশন ও অ্যালার্ট সিস্টেম চালু রাখুন
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো মোবাইল নোটিফিকেশন ও অ্যালার্ট সিস্টেম চালু রাখা। প্রতিটি লেনদেনের সঙ্গে সঙ্গে যদি মোবাইলে নোটিফিকেশন আসে, তাহলে আপনি সবসময় নিজের কার্ডের উপর নজর রাখতে পারবেন। কোনো অস্বাভাবিক কিছু ঘটলে দ্রুত কার্ড ব্লক বা ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
আপনার অ্যাকাউন্টের উপর নজর রাখুন
সন্দেহজনক কার্যকলাপ শনাক্ত করতে সাম্প্রতিক লেনদেনগুলো পর্যালোচনা করুন। মোবাইল ব্যাংকিং বা স্মার্টওয়াচ অ্যাপের মাধ্যমে যে কোনো জায়গা থেকে সহজেই আপনার অ্যাকাউন্ট চেক করা যায়।
ভুয়া ফোন কল থেকে সতর্ক থাকুন
ক্রেডিট কার্ড স্ক্যাম বা অন্য কোনো প্রতারণা এড়াতে, আপনি নিজে থেকে কল না করলে ফোনে কার্ডের তথ্য দেবেন না। আপনার যে কোনো কার্ডের তথ্য জানতে কেউ ফোন করুন কিংবা মেসেজ দিক কোনো তথ্য ওটিপি শেয়ার করবেন না।
শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন
এমন একটি দীর্ঘ ও জটিল অর্থাৎ শক্তিশালী পাসওয়ার্ড বেছে নিন যা অনুমান করা কঠিন। পাসওয়ার্ড লিখে রাখার অভ্যাস ত্যাগ করুন। দরকার হয় একটি ডিজিটাল পাসওয়ার্ড ম্যানেজারে সংরক্ষণ করুন।
সূত্র: বুলপেক ক্রেডিট, সিএস ব্যাংক
কেএসকে