চুপিচুপি বিদ্যুৎ খরচ করে ঘরের যেসব ডিভাইস

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:৪৬ এএম, ০৭ মে ২০২৬
ঘরের অনেক ডিভাইস সুইচ অফ অবস্থাতেও প্লাগে লাগানো থাকলে অল্প অল্প করে বিদ্যুৎ টানতে থাকে

 

অনেকেই মনে করেন, টিভি বা অন্যান্য ইলেকট্রনিক যন্ত্র বন্ধ করে দিলেই বিদ্যুৎ খরচ থেমে যায়। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি পুরোপুরি এমন নয়। ঘরের অনেক ডিভাইস সুইচ অফ অবস্থাতেও প্লাগে লাগানো থাকলে অল্প অল্প করে বিদ্যুৎ টানতে থাকে। এই অদৃশ্য বিদ্যুৎ খরচকেই বলা হয় ‘স্ট্যান্ডবাই পাওয়ার’ বা ‘ফ্যান্টম এনার্জি’।

শুনতে ছোট মনে হলেও, বছরের শেষে এই লুকানো বিদ্যুৎ খরচই বিদ্যুৎ বিল অনেকটা বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি বাড়ির মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রায় ৫ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত শুধু এই স্ট্যান্ডবাই পাওয়ারের কারণে খরচ হতে পারে।

সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ টানে স্মার্ট টিভি, ওয়াই-ফাই রাউটার, কম্পিউটার, গেমিং কনসোল ও মোবাইল চার্জারের মতো ডিভাইস। উদাহরণ হিসেবে, অনেক স্মার্ট টিভি বন্ধ থাকলেও ব্যাকগ্রাউন্ডে আপডেট, সেন্সর বা নেটওয়ার্ক সংযোগ সচল রাখার জন্য বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। একইভাবে মাইক্রোওয়েভের ডিজিটাল ঘড়ি বা সেট-টপ বক্সের স্ট্যান্ডবাই মোডও নিয়মিত বিদ্যুৎ খরচ করে।

মোবাইল চার্জারও এ ক্ষেত্রে অবহেলার তালিকায় পড়ে। ফোন খুলে নেওয়ার পরও চার্জার যদি প্লাগে লাগানো থাকে, তাহলে সেটি সামান্য হলেও বিদ্যুৎ টানতে থাকে। আলাদা করে এটি খুব বেশি না মনে হলেও, ঘরে একাধিক চার্জার ও ডিভাইস থাকলে খরচ ধীরে ধীরে বড় আকার নেয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, অনেক বাড়িতে শুধু স্ট্যান্ডবাই মোডে থাকা ডিভাইসগুলোর কারণেই বছরে কয়েকশ ইউনিট পর্যন্ত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ খরচ হতে পারে। ফলে অপ্রয়োজনীয়ভাবে প্লাগে সংযুক্ত থাকা ডিভাইসগুলো শুধু বিদ্যুৎ বিলই বাড়ায় না, দীর্ঘমেয়াদে শক্তির অপচয়ও ঘটায়।

এই সমস্যা কমানোর সবচেয়ে সহজ উপায় হলো ব্যবহার শেষে প্রয়োজনহীন ডিভাইসের প্লাগ খুলে রাখা। মাল্টিপ্লাগে সুইচ থাকলে সেটি বন্ধ করাও কার্যকর হতে পারে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ও কম স্ট্যান্ডবাই পাওয়ার ব্যবহার করে এমন ডিভাইস বেছে নেওয়াও ভালো অভ্যাস।

ছোট ছোট সচেতনতাই মাস শেষে বিদ্যুৎ বিল কমাতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। তাই শুধু ডিভাইস বন্ধ করলেই দায়িত্ব শেষ নয় প্রয়োজনে প্লাগও খুলে রাখুন।

কেএসকে

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।