পোশাকের মাধ্যমে স্মার্টফোন চার্জ


প্রকাশিত: ০৫:৩৫ এএম, ১২ মার্চ ২০১৫

বাড়ির ছাদে কিংবা দোকানে সোলার প্যানেল দেখে আমরা অভ্যস্ত। কিন্তু সেই প্যানেল যদি আপনার পরিধেয় পোশাকে ঢুকিয়ে দেয়া হয় আর সেটা দিয়ে যদি আপনি আপনার স্মার্টফোন চার্জ করতে পারেন তাহলে কেমন হয়?

এ রকম পরিধেয় প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছেন কয়েকজন ডিজাইনার। তাঁরা বলছেন ফ্যাশনের ভবিষ্যত নাকি এটাই! প্রযুক্তি আর ফ্যাশনের সঙ্গে সৌরশক্তি। ডাচ ফ্যাশন ডিজাইনার পাওলিনে ফান ডোঙ্গেন-এর ‘সোলার ড্রেস`-এর এটাই নীতি। এটি এমন এক পোশাক, যা দিয়ে আপনি আপনার স্মার্টফোন ‘চার্জ` করতে পারবেন। ডোঙ্গেন বলেন, ‘‘এই পোশাক পরে সূর্যের আলোর নীচে দুই ঘণ্টা থাকলে ব্যাটারি পুরোপুরি চার্জ হয়ে যাবে।``

হল্যান্ডের আরনহাইম শহরে নিজের অফিসে তিনি ‘পরিধেয় সৌরশক্তি` প্রকল্প নিয়ে কাজ করছেন। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতের ফ্যাশন জগতে ভালো করতে চান ডোঙ্গেন। তিনি বলেন, ‘‘পরিধেয় সৌরশক্তি প্রকল্পের মাধ্যমে আমি প্রযুক্তির সম্ভাবনা তুলে ধরতে চাই। বাসা-বাড়িতে সোলার প্যানেল দেখে মানুষ অভ্যস্ত। কিন্তু প্রযুক্তি এখন এতটাই এগিয়েছে যে, আমরা এরকম পাতলা প্যানেল পোশাকের সঙ্গে যুক্ত করে দিতে পারি। আমি মানুষকে দেখাতে চাই, তাঁরা সত্যিকার অর্থে ‘মোবাইল` হয়ে উঠতে পারবে এবং সেটা ফ্যাশনেবল উপায়ে।


সোলার প্যানল দেয়া জ্যাকেট
গত কয়েক বছর ধরেই ‘বুদ্ধিমান ফ্যাশন` ধারণাটি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বিখ্যাত ব্র্যান্ড ‘মুন বার্লিন` যেমন পোশাকে এলইডি বাতির ব্যবহার নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। ‘ওয়্যারেবল এক্সপেরিমেন্টস`-এর ডিজাইনাররা এলইডি নিয়ে কাজ করেন৷ তাঁরা একটি জ্যাকেট বানিয়েছেন, যেটা জিপিএস, ভাইব্রেশন আর হাতে থাকা লাইটের মাধ্যমে, এর ব্যবহারকারীকে শহরে ঘুরতে সহায়তা করে। হল্যান্ডের আরেক ডিজাইনার বোরে আকারসডিক একটি স্যুট ডিজাইন করেছেন, যেটা কেউ পরলে জীবন্ত ওয়াইফাই স্পট হয়ে ওঠে।

হল্যান্ডের রটারডাম শহরে সম্প্রতি একটি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরিধেয় প্রযুক্তির নির্মাতারা তাঁদের পণ্য নিয়ে সেখানে হাজির হয়েছিলেন৷ ‘দ্য ফিউচার অফ ফ্যাশন ইস নাও` নামের প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন, ভবিষ্যতটা হচ্ছে পোর্টেবল প্রযুক্তির৷ প্রদর্শনীর মুখপাত্র জিওনিসে ট্যোইনিসেন বলেন, ‘‘আমি মনে করি ফ্যাশনের সঙ্গে প্রযুক্তির সম্মিলন একসময় ফ্যাশনের মানেটাই বদলে দেবে। কারণ দিনদিন এটা একটা পণ্য হয়ে উঠছে, এমন নয় যে, আজ আপনি এটা কিনলেন, আর কাল ফেলে দিলেন। এটা এমন হবে যে, ভবিষ্যতে এটা আপনার জন্য বর্তমানের ইলেকট্রনিক গেজেটের মতো আরেকটি প্রয়োজনীয় গ্যাজেট হয়ে উঠবে।


পাওলিনে ফান ডোঙ্গেন এর মতো ডিজাইনারের কাছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো টেকসই। সে লক্ষ্যে তিনি তাঁর পরিকল্পনাকে আরও বেশি করে ব্যবহারযোগ্য ও পোর্টেবল করে তুলতে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘‘আমার মনে হয় অনেকের কাছে এটা এখনও অনেক দূরের একটি বিষয়। তাদেরকে আমাদের এর সম্ভাবনা দেখাতে হবে এবং বোঝাতে হবে, এর মানে তাদের জন্য কী হতে পারে। কম্পিউটার আর মোবাইল আসার শুরুর দিকে যেমনটা করতে হয়েছিল। সেসময় মানুষ ঐ সবের গুরুত্ব বুঝতে না পারলেও এখন বুঝতে পারছে যে, ওগুলো ছাড়া এখন আর চলা সম্ভব নয়। পরিধেয় প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও একসময় বিষয়টা এমনই হবে। পরিধেয় প্রযুক্তি এখনও পর্যন্ত বড় বড় ডিজাইনারের শোরুমে দেখা গেলেও শিগগিরই এটা সবার মনে স্থান করে নেবে বলে আশা পাওলিনে ফান ডোঙ্গেন এর।

এএ/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।