ই-কমার্স ব্র্যান্ডিংয়ে ছোটনের এগিয়ে যাওয়ার গল্প

খালিদ সাইফুল্লাহ্
খালিদ সাইফুল্লাহ্ খালিদ সাইফুল্লাহ্ , ফিচার লেখক
প্রকাশিত: ০৪:১২ পিএম, ২৪ মে ২০২২

বাংলাদেশের ই-কমার্স সেক্টরে পরিচিত মুখ রুহুল কুদ্দুস ছোটন। ২০১২ সাল থেকেই ই-কমার্সের বিভিন্ন সেক্টরে অবদান রেখে আসছেন তিনি। বাংলাদেশে ই-কমার্সের সূচনা লগ্ন থেকে বিভিন্নভাবে ই-কমার্স উদ্যোক্তা এবং ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থেকে কাজ করছেন। এমনকি ই-কমার্স সেক্টরের উন্নয়নে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছেন।

ছোটন ২০১২ সালে প্রথম দেশ টুয়েন্টিওয়ান নামে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান চালু করেন। সেটার মাধ্যমে শুরু হয় তার ই-কমার্সে পথচলা। এরপর ২০১৩ সালে পার্টনারদের নিয়ে অন্যকিছু ডটকম নামে আরেকটি ই-কমার্স সাইট চালু করেন। সেখানে কিডস, লেডিস ক্লথিং ও অর্গানিক ফুড পণ্য বিক্রি করতেন।

ব্যক্তিগতভাবে ফটোগ্রাফি ভালোবাসতেন ছোটন। শখের বশে করা ফটোগ্রাফিকে নিয়ে গেলেন ই-কমার্সে। এ সেক্টরে কাজ করার সময় দেখলেন ই-কমার্সে পণ্যের ছবি তুলতে হয় ওয়েবসাইটে বা ফেসবুক পেজে দেওয়ার জন্য। এখানে পণ্যের ভালো ছবি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তখন থেকে শুরু করেন প্রোডাক্ট ফটোগ্রাফি।

২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ফটোগ্রাফি প্রতিষ্ঠান ফোকাস ফ্রেম। সেখানে বিভিন্ন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের পণ্যের ছবি তোলা ও ব্র্যান্ডিংয়ের কাজ করেন তিনি। ১০০টির বেশি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তাদের প্রোডাক্ট ফটোগ্রাফি করেছেন।

দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশে পণ্য বিক্রির কাজ শুরু করেন ছোটন। ২০১৪ সালে দেশের পণ্য বিদেশে অনলাইনের মাধ্যমে সেল করতে শুরু করেন। এ জন্য চালু করেন ‘ব্র্যান্ড বাংলা’ নামে ক্রস বর্ডার ই-কমার্স। ই-ক্যাব এবং সরকারের বিভিন্ন ট্রেনিং প্রজেক্টে ফটোগ্রাফি এবং ব্র্যান্ডিং বিষয়ক ট্রেইনার ছিলেন তিনি। ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) সঙ্গে যুক্ত হন ২০১৪ সালে।

সে বছরের নভেম্বরে ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) প্রতিষ্ঠিত হয়। সে সময় থেকেই ছোটন কাজ করে আসছেন ই-কমার্স উদ্যোক্তাদের কল্যাণে। তিনি চেয়েছিলেন বাংলাদেশে ই-কমার্সের সামগ্রিক উন্নতি। তাই ই-ক্যাবের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সব কাজে সক্রিয়ভাবে সংযুক্ত আছেন।

ই-ক্যাবের স্কাইপি আড্ডা, ফেসবুক গ্রুপ চাঙা করা, এলাকাভিত্তিক ই-ক্যাব আড্ডা, ই-কমার্স ডে, বিভিন্ন জেলায় ই-কমার্সের ডাক মেলা, নারী উদ্যোক্তাদের নিয়ে ই-ক্যাবের মেলা, পিকনিক, এজিএম, চট্টগ্রামে ই-কমার্স ট্রেনিং এবং মিটআপ, প্রোডাক্ট ফটোগ্রাফি ট্রেনিং, ই-কমার্স ব্র্যান্ডিং ট্রেনিং, মিটআপ, কুইজ প্রতিযোগিতাসহ এ পর্যন্ত ই-ক্যাবের সব ধরনের সফল অনুষ্ঠান আয়োজনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত আছেন ছোটন।

ই-ক্যাবের সব অনুষ্ঠানে ফটোগ্রাফি সাপোর্ট দিয়েছে তার প্রতিষ্ঠান ফোকাস ফ্রেম। ২০১৭ সালে ই-ক্যাবের মার্কেটিং স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন শিপনের (বর্তমান ই-ক্যাব ভাইস প্রেসিডেন্ট) নেতৃত্বে কাজ শুরু করেন। ২০১৮-২০১৯ মেয়াদে ব্র্যান্ড অ্যান্ড মার্কেটিং স্ট্যান্ডিং কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং গত ২০২০-২০২১ মেয়াদে একই কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে এখন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করছেন।

তার নেতৃত্বে এ কমিটি কাজ করে প্রশংসিত হয়েছে বহুবার। করোনাকালীন আম চাষিদের ক্ষতি পোষাতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং ই-ক্যাব আয়োজিত অনলাইনে আম মেলা প্রজেক্টটি সফলভাবে পরিচালনা করেন তিনি। এ উদ্যোগে লোকসানের হাত থেকে রক্ষা পেয়ে লাভের মুখ দেখেছে হাজারো আম চাষি।

লকডাউনে ই-কমার্সের ডেলিভারি সেবা চালু রাখতে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। করোনাকালীন ই-ক্যাবের উদ্যোগ ‘মানবসেবা’র মাধ্যমে নিম্ন-মধ্যবিত্তদের কাছে খাবার পৌঁছে দিয়েছেন তিনি। ই-কমার্সের ব্র্যান্ডিংয়ে তার কাজগুলো ই-কমার্স উদ্যোক্তাদের কাছে প্রশংসনীয় হয়েছে।

রুহুল কুদ্দুস ছোটন বলেন, ‘আমি সব সময় ই-কমার্স উদ্যোক্তাদের পাশে থাকতে চাই, তাদের কল্যাণে কাজ করতে চাই। ই-ক্যাবের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ই-ক্যাব সদস্যদের নিঃস্বার্থভাবে সহযোগিতা করে এসেছি। সামনেও চালিয়ে যেতে চাই।’

কেএসকে/এসইউ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]