ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
৮০০ মিটার দৌড়ে প্রথম মাশরুর, প্রতিযোগীদের দাবি—‘তিনি মাঠেই ছিলেন না’
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) অনুষ্ঠিত আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় অ্যাথলেটিকস ও বাস্কেটবল প্রতিযোগিতা ২০২৬-এর ৮০০ মিটার দৌড় ইভেন্টে প্রথম হওয়া শিক্ষার্থীকে ঘিরে প্রক্সি প্রতিযোগীর অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (৪ মে) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে প্রক্সি প্রতিযোগী এতে অংশ নেন। তবে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের দাবি, যাকে প্রথম ঘোষণা করা হয়েছে তাকে তারা মাঠে দেখেননি।
মঙ্গলবার (৫ মে) বিষয়টি জানাজানি হলে প্রথম স্থান অর্জনকারী ওই প্রতিযোগীকে ঘিরে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এতে অন্যান্য ২১টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসা খেলোয়াড়রা বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে এ ঘটনার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীর চর্চা ও শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তাসহ কিছু শিক্ষার্থীর যোগসাজশের অভিযোগ উঠেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৮০০ মিটার দৌড় ইভেন্টে প্রথম স্থান অর্জন করেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাশরুর রহমান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খালিদ মহিবুল্লাহ দ্বিতীয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরিফুল ইসলাম তৃতীয় এবং যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহরিয়ার আহমেদ চতুর্থ স্থান অর্জন করেন। তবে প্রথম স্থান অর্জনকারী মাসরুরকে ঘিরে প্রক্সি বিতর্কের সৃষ্টি হয়। মাশরুর খেলায় অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও তিনি অংশ না নিয়ে তার জায়গায় আরেক প্রতিযোগীকে দিয়ে প্রথম স্থান দখল করেন।
এখনো প্রক্সি দেওয়া ওই ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া যায়নি। তবে তিনি ইবির খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষক সাহেব আলীর ছাত্র বলেও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া অন্য প্রতিযোগীদের দাবি, কর্তৃপক্ষ যাকে প্রথম স্থান অধিকারী (মাশরুর) হিসেবে ঘোষণা করেছে, তাকে তারা মাঠে খেলায় অংশ নিতে দেখেননি।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শরীর চর্চা ও শিক্ষা বিভাগের উপ-পরিচালক আসাদুর রহমান ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষক সাহেব আলীসহ ওই দপ্তরের কর্মকর্তা এবং কিছু শিক্ষার্থীর যোগসাজশে এ ঘটনা ঘটেছে।

মাসরুর রহমানের ছবি দেখালে দ্বিতীয় স্থান অধিকারী খালিদ মহিবুল্লাহ বলেন, ‘ছবির ব্যক্তি আর খেলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তি এক নন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আমি প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে দেখিনি। প্রকৃত বিজয়ীকে দেখলে অবশ্যই চিনতে পারতাম। এমন প্রতারণা আমরা প্রত্যাশা করিনি।’
চতুর্থ স্থান অধিকারী শাহরিয়ার আহমেদ বলেন, ‘যিনি প্রথম হয়েছেন তার শারীরিক গঠন ও ফিটনেস ভিন্ন ছিল। ছবির ব্যক্তির সঙ্গে কোনো মিল নেই।’
প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে অভিযুক্ত মাশরুর রহমান বলেন, ‘৮০০ মিটার দৌড়ে আমি অংশ নেইনি। মাশরুর নামে আমার বিভাগের আরেকজন অংশ নিয়েছিল।’
এসময় আরেক মাশরুর পরিচয় জানতে চাইলে তিনি ফোন কেটে দেন। এরপর থেকে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে খোঁজ নিয়ে তার বিভাগে মাশরুর নামের অন্য কোনো শিক্ষার্থী পাওয়া যায়নি।
ইবির খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষক সাহেব আলী বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগটি ভিত্তিহীন। আমি একজন বাইরের ট্রেইনার। বিষয়টি কীভাবে ঘটেছে, তা আমি জানি না। ৮০০ মিটার দৌড় প্রতিযোগিতার সময় আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম না। যারা এন্ট্রি সম্পন্ন করেছেন, তারাই বিষয়টি ভালোভাবে বলতে পারবেন।’
শরীর চর্চা ও শিক্ষা বিভাগের উপ-পরিচালক আসাদুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের অজান্তেই ঘটেছে। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। তাকে (মাশরুর) বাদ দিয়ে অন্যদের পুরস্কৃত করার প্রক্রিয়া চলমান।’
এ বিষয়ে শরীর চর্চা ও শিক্ষা বিভাগের পরিচালক ড. শেখ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের বাইরে অন্য কারও সম্পৃক্ততা থাকলে তা তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ইরফান উল্লাহ/এসআর/এমএস