পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে জাবিতে বর্ণিল আয়োজন
মুঘল সম্রাট আকবরের আমল থেকে পহেলা বৈশাখ উদযাপিত হয়ে আসছে। মূলত তখন পহেলা বৈশাখকে উদযাপন করা হত সুষ্ঠুভাবে খাজনা আদায়ের লক্ষ্যে। এখন পহেলা বৈশাখ খাজনা আদায়ের লক্ষ্যে পালিত না হলেও আমাদের সংস্কৃতির অপরিহার্য অংশ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। পহেলা বৈশাখ শুধু জৌতির্বিদ্যায় নির্নিত আহ্নিক গতির একটি সাধারণ দিন নয়। সারা বছর অপেক্ষার পর বৈশাখের এ প্রথম দিনটি আসে পরবর্তী আর একটা বছরের শুভ সূচনা নিয়ে।
এখানে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের একটি উক্তি চিরায়তভাবে স্মরণীয় ‘‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো, তাপস নিঃশ্বাস বায়ে মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে, বৎসরের আবর্জনা দূর হয়ে যাক যাক যাক”।
বিশ্ববিদ্যালয়ে এ প্রাণের উৎসবটিকে সার্বিকভাবে প্রাণবন্ত ও রঙ্গিন করে তোলা হয় বিভিন্ন আয়োজনে। আর এই সংস্কৃতি চর্চায় অনেক উপরেই অবস্থান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের।
পহেলা বৈশাখকে বরণ করে নিতে ঐতিহ্য অনুযায়ী সকাল বেলাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগ, হল ও সংগঠন আলাদাভাবে পহেলা বৈশাখের ঐতিহ্যকে ধারণ করতে পান্তা ইলিশের আয়োজন করবে দিনটিতে।
বরাবরের মতো এবারো বিভিন্ন বিভাগ, অনুষদ ও হলের উদযোগে বের হবে শোভাযাত্রা। সেখানে থাকবে বাঙালি ঐতিহ্যের পরিপূর্ণ উপস্থাপন। শিক্ষার্থীরা লুঙ্গি, গামছা পরে কৃষক সেজে গরুর গাড়ি, পালকি ও কুলা সবকিছু নিয়ে শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করবে। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের উদযোগে পূর্ণোদ্যমে চলছে বৈশাখ বরণের প্রস্তুতি।
পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আড্ডা, আনন্দ, ভালোবসা আর আন্তরিকতার মাধ্যমে তারা বিভিন্ন কাজ করছে বলে জানিয়েছেন চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী পীযূস কান্তি। তিনি জানান, চারুকলা বিভাগের উদযোগে হাতি, ঘোড়া, বিভিন্ন প্রকারের মোটিভ, মুখোশ, সরা, মাটির ব্যাংক, ছোট ছোট পটারি, ব্যাগ তৈরির কাজ চলছে। ছাত্র ও শিক্ষকদের তৈরি বিভিন্ন ধরনের জলরং এর ব্যবহার হচ্ছে এসব দূর্দান্ত মুখোশ ও পশুপাখির আকৃতি তৈরির জন্য।
জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতি চর্চার প্রাণকেন্দ্রে সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চে প্রথম দিন বিকেলে থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সঙ্গীত ও নৃত্য চর্চা। সন্ধ্যায় সঙ্গীত পরিবেশন করবেন শিল্পী বিমান চন্দ্র বিশ্বাস ও হালিমা পারভীন চিশতি। বৈশাখের দ্বিতীয় দিন সন্ধ্যায়ও থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এছাড়া ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের আয়োজনে লোক সঙ্গীত পরিবেশন করবেন অতিথি শিল্পী মো. সিদ্দিকুর রহমান। বৈশাখের তৃতীয় তিন নিবন্ধকৃত সাংস্কৃতিক সংগঠনের পরিবেশনায় অনুষ্ঠিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
তিন দিন ব্যাপী মেলায় প্রায় ৩৬টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আর এসব স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে পহেলা বৈশাখের আমেজ ও ঐতিহ্যটাকে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলার লক্ষ্যেই। বিভিন্ন স্টলে থাকছে বুটিক, শরবত, নকশী পিঠা, বায়োস্কোপ, বিভিন্ন প্রকার মিষ্টি, দেশি পোশাক, নিমকি, আচার, মাটির গহনা, বুটিকসের দোকান, বৈশাখী কাপড়ের দোকান।
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বাঁধনের পক্ষ থেকে থাকছে রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা ও ওজন মাপার ব্যাবস্থা।
এসএস/আরএস/আরআই