ভূমিকম্পে ফাটল : খালি করা হলো ইডেনের ছাত্রীনিবাস
ভূমিকম্পে রাজধানীর ইডেন কলেজে দুই বছর আগে নির্মিত একটি ছাত্রীনিবাস ফাটল দেখা দেওয়ায় সেখান থেকে সব ছাত্রীকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সোমবার দুপুরে কলেজ কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পাওয়ার পর থেকে ইডেনের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের ছাত্রীরা হল ছাড়তে শুরু করেন। বিকাল ৪টার মধ্যে ছাত্রীনিবাসটি খালি করা হয়।
ইডেনের ১১ তলাবিশিষ্ট এই ছাত্রীনিবাসে এক হাজার ২০০ জন ছাত্রী থাকেন। ২০১৩ সালে এই ছাত্রীনিবাসের নির্মাণকাজ শেষ হয়। পর পর দুই দিনের ভূকম্পনে ছাত্রীনিবাসটির ২৯টি কক্ষে ফাটল দেখা দিয়েছে বলে ইডেন কলেজের অধ্যক্ষ হোসনে আরা জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ভূমিকম্পের পর ২৯টি কক্ষে ফাটল দেখা দেওয়ায় নিরাপত্তার কারণে সাত দিনের জন্য ছাত্রীদের হল ছাড়তে বলা হয়েছে। কী কারণে ওই সব কক্ষে ফাটল দেখা দিয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত হতে পারেননি অধ্যক্ষ। প্রধান প্রকৌশলী ছাত্রীনিবাসটি পরীক্ষা শেষ করলে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে বলে জানান তিনি। এই ছাত্রীনিবাসের যেসব শিক্ষার্থীর পরীক্ষা রয়েছেন, তাদের অন্য হলে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান অধ্যক্ষ।
শনিবার দুপুরে নেপালে ৭ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্পে ভারত ও বাংলাদেশের বিশাল এলাকা কেঁপে ওঠে। এতে বাংলাদেশে ১৭টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়।
রোববার ও সোমবারও ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে বাংলাদেশ। সোমবার বেলা ২টার দিকে ইডেন কলেজে গিয়ে দেখা যায়, ব্যাগপত্র নিয়ে ছোট ছোট দলে হল ছাড়ছেন ছাত্রীরা। বাংলার ছাত্রী ইশতেহা কবীর বলেন, হলে ফাটল দেখা দেওয়ার সাত দিনের জন্য হলের বাইরে থাকার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আমি গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া চলে যাচ্ছি।
বোনকে নিতে আসা শরিফুল ইসলাম নামে একজন বলেন, আমি মেসে থেকে পড়াশোনা করি, ঢাকায় কোনো আত্মীয় না থাকায় বোনকে নিয়ে আজই গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায় চলে যাব।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ছাত্রী বলেন, আগে থেকেই হলে ফাটল ছিল, ভূমিকম্পের পর নতুন করে ফাটল দেখা দিয়েছে। এক বছর আগে ইডেন অধ্যক্ষের দায়িত্ব নেওয়া হোসনে আরা বলেন, আগে থেকেই ওই হলে কোনো নির্মাণত্রুটি ছিল কি-না, আমি তা বলতে পারব না।
আমার আগে আরও দুজন অধ্যক্ষ দায়িত্ব পালন করেছেন। হল নির্মাণে ত্রুটি আছে কি-না, তারাই তা ভালো বলতে পারবেন। হলের ঠিক পাশেই একটি পুকুর রয়েছে জানিয়ে অধ্যক্ষ বলেন, এ জন্য ভবনটির কোনো ক্ষতি হয়েছে কি-না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিএ/আরআই