দীর্ঘ ১৪ বছর পর কার্যকর হচ্ছে রাবির সিনেট অধিবেশন
দীর্ঘ ১৪ বছর পর সোমবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সিনেট অধিবেশন। ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ ১৯৭৩’ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ এ ফোরামের সর্বশেষ অধিবেশনটি অনুষ্ঠিত হয়েছিলো ২০০১ সালের ২৮-২৯ জুন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত সিনেট অধিবেশন অনুষ্ঠিত হলেও বছরের পর বছর অকার্যকর হয়ে ছিলো রাবির সিনেট। আইন অনুযায়ী প্রতিবছর সিনেট অধিবেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে তা অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট এবং উপাচার্যদের বিশেষ ক্ষমতায় স্বায়ত্বশাসিত এ প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এছাড়া সিনেট অধিবেশন না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক কাজ গুরুত্বপূর্ণ আটকে ছিলো। অবশেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন সিনেট অধিবেশন অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সিনেট অধিবেশনেই সিনেট সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নির্বাচন, বাজেট অনুমোদন, আইন সংশোধনসহ যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোনো ফোরামের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারণের সর্ব্বোচ্চ ফোরাম সিনেট।
বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ অনুযায়ী, উপাচার্য বছরে অন্তত একবার সিনেটের সভা আহ্বান করবেন যা বার্ষিক সভা হিসেবে অভিহিত হবে। উপাচার্য চাইলে এর বাইরেও বিশেষ সভা আহ্বান করতে পারেন। কিন্তু গত ১৪ বছরে একবারও সিনেট অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়নি।
এদিকে দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন না হওয়ায় সিনেটের রেজিস্ট্রার্ড গ্রাজুয়েট ক্যাটাগরির ২৫টি পদ মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে। রাকসু নির্বাচন না হওয়ায় শূন্য রয়েছে ছাত্র প্রতিনিধির পাঁচটি পদ। স্পীকার কর্তৃক মনোনীত পাঁচজন সাংসদ সিনেটের সদস্য থাকার কথা থাকলেও তা শূন্য রয়েছে। গত সংসদের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় সিনেটে আগের সংসদ সদস্যদের সদস্যপদ বিলুপ্ত হয়। নতুন সংসদ সদস্যরা নির্বাচিত হওয়ার পর জাতীয় সংসদের স্পীকারের কাছে মনোনয়ন চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়। কিন্তু স্পীকার এখনো মনোনয়ন না দেওয়ায় সংসদ সদস্যের পদ পাঁচটি শূন্য রয়েছে।
তবে দীর্ঘদিন পর হলেও সিনেট অধিবেশন করতে সিনেটের বিভিন্ন ক্যাটাগরির বর্তমান সদস্যদের নিয়েই সিনেট অধিবেশন আহ্বান করা হয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। দীর্ঘদিন সিনেটের রেজিস্ট্রার্ড গ্রাজুয়েট নির্বাচন না হওয়ায় আগের নির্বাচিতদের মধ্যে যারা জীবিত আছেন তাদের এবং সিনেটের অন্যান্য ক্যাটাগরির সদস্যদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ মেনেই এবারের সিনেট অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর মু.এন্তাজুল হক জাগো নিউজকে জানান, এবারের অধিবেশনটি বার্ষিক অধিবেশন হিসেবেই অনুষ্ঠিত হবে। এতে একটি নতুন ইনস্টিটিউটের অনুমোদন, একটি ইনস্টিটিউটে অনার্স কোর্স চালুর অনুমোদন, বাজেট অনুমোদন এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকুরির বয়সসীমা ৬২ থেকে বাড়িয়ে ৬৫ করার আইনসহ বেশ কয়েকটি আইন অনুমোদন করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর মুহম্মদ মিজানউদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সভা হয়নি। বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর সিনেট অধিবেশন অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নেয়া হয়। যার ফলে ২০১৪ সালে সিনেটের শিক্ষক প্রতিনিধিদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু নানা জটিলতার কারণে রেজিস্ট্রার্ড গ্রাজুয়েটদের নির্বাচন করা সম্ভব হয়নি। তারপরও সিনেট অধিবেশন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আগামী বছর থেকে নিয়মিত সিনেট অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে বলে আমরা আশা করছি।’
এসএস/পিআর