শিক্ষক সমিতির সভাপতিকে রামছাগল বলে ছাত্রলীগের কটূক্তি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সাংবাদিকদের নিয়ে ফেসবুকে কটূক্তি করে স্ট্যাটাস দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের এক নেতা। বৃহস্পতিবার স্ট্যাটাসটি নজরে আসলে ক্যাম্পাসে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়।
জানা যায়, মীর মশাররফ হোসেন হল শাখা ছাত্রলীগের (প্রস্তাবিত) সহ-সভাপতি ও ইতিহাস বিভাগের ৪০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আসাদ রিমন তার ফেসবুক ওয়ালে শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সাংবাদিকদের কটূক্তি করে স্ট্যাটাস দেন।
এতে শিক্ষক সমিতির সভাপতিকে ‘রামছাগল’ বলে গালি দিয়ে ওই নেতা লিখেন, “বাহ! দেখছি শিক্ষক সমিতির সভাপতি ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেয়। আরে রামছাগল ছাত্রলীগ আন্দোলন করে দেখেই তোমার মত আবাল...... (আপত্তিকর) সভাপতি হইতে পারছে। দুইটা কথা বলার চান্স পাও।”
একই স্ট্যাটাসে তিনি সাংবাদিকদের নিয়ে বলেন, আর সাংবাদিক ভাইরা আপনার দুই এক জনার জন্য পুরা সংগঠনকে দায়ী কইরেন না। অপরাধীর বিচার শুধু ছাত্রলীগই করে। অন্য কোন সংগঠন করে না। ছাত্রলীগ সন্ত্রাস হলে আপনাদের মত হলুদ সাংবাদিক ক্যাম্পাসে থাকতে পারতেন না।
অন্যদিকে স্ট্যাটাসে কমেন্ট করে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ৪২তম ব্যাচের ছাত্র কাউসার অভি বলেন, “মাঝে মাঝে সাংবাদিকদের এমন ভাবে কুত্তা পেটান দেওয়া উচিত”
স্ট্যাটাসটি নজরে আসলে এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মাফরুহী সাত্তার বলেন, ‘এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষকের জন্য অপমান জনক। এটি একটি ঘৃণ্যতম সন্ত্রাস। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানাচ্ছি।’ অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা আসাদ রিমন নিজের আপত্তিকর স্ট্যাটাসের কথা স্বীকার করে বলেন, “স্ট্যাটাসে আমার ভাষা রূঢ় ছিল, এ জন্য আমি দুঃখিত। আমি আমার স্ট্যাটাস সরিয়ে নিয়েছি।”
শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুর রহমান জনি বলেন, ‘ঘটনা সত্য হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় হল শাখা ছাত্রলীগ নেতাদের বলা হবে।’
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার টেন্ডার নিয়ে শাখা ছাত্রলীগের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে এক সাংবাদিক আহত হয়। এ সময় তাকে উদ্ধার করতে গেলে বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি জনি আলমকেও লাঞ্ছিত করে ছাত্রলীগ কর্মীরা। এ ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার মানববন্ধন করে সাংবাদিক সমিতির ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকরা।
এ মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক খবির উদ্দিন বলেন, ‘আমরা সব ধরণের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে। আমরা এই হামলার নিন্দা জানাই এবং জড়িতদের শাস্তি দাবি করছি।’
এরপর বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ বক্তব্য প্রকাশিত হওয়ার পর বুধবার সন্ধ্যায় ওই ছাত্রলীগ নেতা নিজের ফেসবুকে শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সাংবাদিকদের নিয়ে কটূক্তি করে এ স্ট্যাটাস দেন।
হাফিজুর রহমান/এসএইচএস/আরআই