মধ্যরাতে ভাড়া বাসায় ইবির চার ছাত্রীকে একাধিকবার হেনস্তার অভিযোগ

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
প্রকাশিত: ০৮:০৪ পিএম, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১
ফাইল ছবি

ভাড়া বাসায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) অর্থনীতি বিভাগের চার ছাত্রীকে একাধিকবার হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার দিকে ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী শেখপাড়া বাজারের একটি বাসাবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী ছাত্রীরা জানান, ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী শেখপাড়া বাজার সংলগ্ন একটি বাসাবাড়িতে তারা চারজন থাকতেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে তিন-চারজন যুবক বাসার জানালায় আঘাত করতে থাকেন। একইসঙ্গে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এ সময় তারা প্রচণ্ড ভয় পান এবং চিৎকার করতে থাকেন। পরে বাড়ির মালিকসহ আশপাশে অবস্থানরত লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসলে ওই তিন-চারজন যুবক পালিয়ে যান।

তারা আরও জানান, বিভাগের শিক্ষক ও শেখ হাসিনা হল প্রভোস্ট অধ্যাপক শেলিনা নাসরিনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন তারা। তবে ওই মুহূর্তে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এছাড়া তারা শৈলকুপা থানা পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রাথমিকভাবে তারা কারও সাড়া পাননি।

ওই চার ছাত্রী জানান, রাত ২টার দিকে আবারও ওই যুবকরা জানালার কাছে এসে তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। তখন সঙ্গে সঙ্গে আবারও তারা প্রক্টরকে ফোন দেন। তিনি ফোন রিসিভ করলে তারা বিষয়টি অবহিত করেন। পরে ভোর ৪টার দিকে বাড়িতে পুলিশ আসে। পুলিশ ঘটনা শুনে চলে যায়। পরে সকালে ঘটনাস্থলে প্রক্টরিয়াল বডিও পরিদর্শনে যায়।

ভুক্তভোগী ছাত্রীরা বলেন, রাতে আমরা কাউকে পাশে পাইনি। বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারতো। এমন নিরাপত্তাহীনতায় আমরা থাকতে চাই না। দ্রুত জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি। বিষয়টি নিয়ে আমরা প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দেব।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে রাত থেকে আমি পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিতের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’

এ বিষয়ে শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আমাকে রাত সাড়ে তিনটার দিকে বিষয়টি জানিয়েছে। তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এদিকে, ওই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের আবাসিকতা নিশ্চিত না করে পরীক্ষা গ্রহণ করায় এমন ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ করেছেন সচেতন শিক্ষার্থীরা। পরীক্ষা গ্রহণের মাঝে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ মোতাবেক চলমান সব পরীক্ষা স্থগিত করায় আরও বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা।

একদিকে মেস-বাসাবাড়ি ছাড়তে হলে পরবর্তী মাসের ভাড়া গুণে ছাড়তে হচ্ছে, অন্যদিকে মেসে থাকলেও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হচ্ছে তাদের। বিশেষ করে ছাত্রীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জিকে সাদিক বলেন, ‘পরীক্ষা চলাকালে ছাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনকে আমরা বারবার অভিহিত করেছি। এখন আবার পরীক্ষা স্থগিত করে তাদেরকে উভয় সংকটে ফেলা হয়েছে। প্রশাসনের জরুরি শুভবুদ্ধির উদয় হওয়া উচিত। বখাটে দ্বারা ছাত্রী হেনস্তার ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার হওয়া জরুরি।’

রায়হান মাহবুব/এসজে/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।