ইবির প্রধান ফটক সংলগ্ন মহাসড়কটি যেন মৃত্যুফাঁদ

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
প্রকাশিত: ১২:২১ পিএম, ০২ মার্চ ২০২১

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) প্রধান ফটকের সামনের মহাসড়ক শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। বিকল্প কোনো সড়ক না থাকায় মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার হতে হয় শিক্ষার্থীদের। ক্যাম্পাসের প্রধান ফটক থেকে পার্শ্ববর্তী শেখপাড়া বাজার পর্যন্ত প্রায় আধা কিলোমিটার সড়কের এই বেহাল দশা। সড়কের ভগ্নদশার কারণে প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে। এছাড়া প্রধান ফটকের দু’পাশে থাকা স্পিডব্রেকারের অবস্থাও নাজুক।

সরেজমিনে দেখা যায়, কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়কে ২৪ ঘণ্টাই ট্রাক, বাস, লেগুনা, সিনজিসহ ছোটখাটো যানবাহন চলাচল করে। অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটক হতে ক্যাম্পাস পার্শ্ববর্তী শেখপাড়া বাজার পর্যন্ত সড়কটি শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও যাত্রীদের জন্য মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।

এ সড়কে যশোর-বেনাপোল ও খুলনা থেকে দিনে-রাতে প্রায় কয়েক হাজার মালবাহী ট্রাক চলাচল করে। এছাড়া যাত্রীবাহী বাসের চাপও কম নয়। ফলে দিন দিন এই সড়কের অবস্থা আরও নাজুক হচ্ছে। অতিদ্রুত সড়কটি মেরামতের দাবি তুলেছেন সবাই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সোহেল রানা নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, প্রায় দেড় বছর ধরে রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এই মহাসড়কে বাস ও ট্রাক নিয়ন্ত্রণহীনভাবে চলাচল করে। তাই দুর্ঘটনার শঙ্কা নিয়ে সবসময় ক্যাম্পাস ও বাজারে যেতে হয়। ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের দুপাশে যে স্পিডব্রেকার ছিল সেগুলোও অকেজো হয়ে গেছে। ফলে গাড়িচালকরা বেপরোয়াভাবে প্রধান ফটক অতিক্রম করে। কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়গুলোর দ্রুত সমাধান কামনা করি।

jagonews24

সড়কের ট্রাকচালক আব্দুস সাত্তার বলেন, সড়কের এই বেহাল দশায় প্রতিনিয়ত ট্রাকের টায়ার বার্স্ট হয়। এছাড়াও চাকার স্কেলও ভেঙে যায়। এতে নিজেদের দুর্ঘটনার সঙ্গে পথচারীদেরও দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এ সড়ক মেরামতের জোর দাবি জানাই।

ঝিনাইদহ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার মো. সুমন বলেন, ঝিনাইদহ মহাসড়কে ১১ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত পাঁচটি দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত হয়েছেন। চালকের অসর্তকতা আর সড়কের বেহাল দশার কারণে এসব দুর্ঘটনা ঘটছে।

সড়কের এই ভগ্নদশার পাশাপাশি ধুলাবালুতে অতিষ্ঠ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাস থেকে আধা কিলোমিটার রাস্তা যেতেই শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নাভিঃশ্বাস উঠে যায়। অতিরিক্ত ধুলাবালুতে শিক্ষার্থীদের শ্বাসকষ্টসহ নানাবিধ রোগও দেখা দিচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি যাত্রী ও এলাকাবাসীরাও এ দুর্ভোগের স্বীকার হচ্ছেন। এছাড়া সড়কের পাশে গড়ে ওঠা হোটেল ও দোকানগুলো ধুলায় নিমজ্জিত হচ্ছে। অতিরিক্ত ধুলাবালু খাদ্যের সঙ্গে মিশ্রিত হচ্ছে। তবুও ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীদের এ খাবার খেতে হচ্ছে।

jagonews24

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান মেডিকেল অফিসার ডা. এসএম নজরুল ইসলাম বলেন, অতিরিক্ত ধুলাবালুর কারণে শ্বাসকষ্টের প্রদাহসহ চর্মরোগ ও চোখের সমস্যা হতে পারে। এছাড়াও সড়কের পাশে থাকা ধুলাবালুযুক্ত খাবার খেলে পেটের পীড়া হতে পারে। যা শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

ঝিনাইদহ সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জিয়াউল হায়দার বলেন, এই রাস্তাটি সংস্কার কাজের জন্য আমরা নতুন প্রকল্পের পদক্ষেপ নিচ্ছি। এ বছরই হয়তো কাজ করব। এখন চলাচল উপযোগী করার জন্য আমাদের বিভাগ থেকে কিছুটা মেরামত করা হবে। যাতে যাত্রীদের দুর্ভোগ কম হয়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, বিষয়টি নিয়ে ঝিনাইদহ সড়ক ও জনপথের সাবেক ও বর্তমান প্রকৌশলীদের সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনা করেছি। সংস্কারের আশ্বাস দিলেও তারা বিষয়টির সমাধান করেনি। যার ফলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে চলাফেরা করতে হচ্ছে। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।

রায়হান মাহবুব/এফএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]