পঞ্চগড়ে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর ফাঁসি


প্রকাশিত: ১০:১১ এএম, ১৩ জুন ২০১৬

পঞ্চগড়ে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামী নিমাই চন্দ্র বর্ম্মণকে (৩১) ফাঁসি এবং ২৫ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছে আদালত।

সোমবার দুপুরে পঞ্চগড় জেলা ও দায়রা জজ আদালত এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আদালতের বিচারক এম এ নূর এই আদেশ দেন।

এদিকে, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় নিমাই চন্দ্রের বাবা অনিল চন্দ্র, মা রমা বালা এবং বোন বিউটি রানীকে বেকসুর খালাস দিয়েছে আদালত।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, ২০০৮ সালের ১৩ আগস্ট সোনালী রানী শম্পার সঙ্গে নিমাই চন্দ্র রায়ের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই শম্পাকে নির্যাতন করতো স্বামী এবং শ্বশুর বাড়ির লোকজন। ২০১২ সালের ১২ নভেম্বর নিমাই চন্দ্র রায় শম্পাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে একটি গাছে ঝুলিয়ে রাখেন।

ঘটনায় পরদিন শম্পার বাবা করুনা কান্ত রায় বাদী হয়ে আটোয়ারী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আইনে মামলা করেন। মামলায় নিহতের স্বামী নিমাই চন্দ্র রায়, তার বাবা অনিল চন্দ্র রায়, শ্বাশুড়ি রমা বালাসহ ৬ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দিলীপ কুমার রায় তদন্ত শেষে ২০১৩ সালের ২৫ মার্চ নিমাই চন্দ্র রায়সহ ৪ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। দীর্ঘ বিচারে ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ এবং কয়েক দফা শুনানি শেষে প্রধান আসামি নিমাই চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ প্রমাণিত হয়। তবে বেকসুর খালাস পান তার বাবা, মা ও বোন।

মামলায় বাদী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আমিনুর রহমান এবং অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম। আসামি পক্ষে অ্যাডভোকেট ওয়াহেদুজ্জামান সুজা ও অ্যাডভোকেট বলরাম গুহ মামলা পরিচালনা করেন।

আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আমিনুর রহমান বলেন, ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে মহামান্য আদালত প্রধান আসামির মৃত্যু সুনিশ্চিত হওয়া পর্যন্ত ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখার নির্দেশ দেন।

আদালতের রায়ে নিহত শম্পার বাবা করুনা কান্ত রায় সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন পর হলেও মেয়ে হত্যার বিচার পেয়েছি। আশা করি এই আদেশ দ্রুত কার্যকর করা হবে।

সফিকুল আলম/এসএস/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।