কুয়াকাটায় রাস উৎসব, গঙ্গাস্নানে মত্ত হাজারো পুণ্যার্থী

উপজেলা প্রতিনিধি
উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
প্রকাশিত: ০৯:৪৯ এএম, ০৫ নভেম্বর ২০২৫
পুণ্যস্নানের মধ্য দিয়ে পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় শেষ হয়েছে রাস উৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা, ছবি: জাগো নিউজ

গঙ্গাস্নান বা পুণ্যস্নানের মধ্য দিয়ে পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় শেষ হয়েছে রাস উৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা। বুধবার (৫ নভেম্বর) ভোর ৬টায় জাগতিক সব পাপ মোচনের আশায় সৈকতের নোনা জলে গা ভাসিয়ে এ গঙ্গাস্নান সম্পন্ন করেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা।

স্নানের আগে সৈকতে মোমবাতি, আগরবাতি, বেল পাতা, ফুল, ধান, দুর্বা, হরিতকী, ডাব, কলা, তেল ও সিঁদুর সমুদ্রের জলে অর্পণ করেন সনাতনী নারীরা। এসময় উলুধ্বনি ও মন্ত্রপাঠে মুখর হয়ে ওঠে পুরো সৈকত। এছাড়া মাথা ন্যাড়াসহ প্রায়শ্চিত্ত ও পিণ্ডদান করেন অনেক মানতকারী। এর আগে রাতভর কুয়াকাটা শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দিরে পূজার্চনা, সংগীতানুষ্ঠান ও মহানাম কীর্তনে মেতে ওঠেন সনাতনীরা।

খুলনা থেকে আগত ললিন কৃষ্ণ রায় জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমাদের বিশ্বাস এই দিনে সব পাপ মোচনের মুহূর্ত। তাই আমরা গতকাল কুয়াকাটা এসেছি। রাতভর ভগবানের গুণকীর্তন শেষ করে সকালে সমুদ্রস্নানের মধ্য দিয়ে সৃষ্টিকর্তার কাছে শান্তি চেয়েছি।’

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অধিবাসের মধ্য দিয়ে এ উৎসব শুরু হয়ে বৃহস্পতিবার সকালে সমুদ্র স্নানের মধ্যদিয়ে এর সমাপ্তি ঘটবে। রাস পূজায় অংশ নিতে পুণ্যার্থীদের ভিড়ের পাশাপাশি পর্যটকদের পদচারণা ছিল চোখে পড়ার মতো। এই উৎসবকে নির্বিঘ্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে রয়েছে কঠোর নজরদারি।

গঙ্গাস্নান বা পুন্যস্নানের মধ্য দিয়ে পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় শেষ হয়েছে রাস উৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা। বুধবার (৫ নভেম্বর) ভোর ৬টায় জাগতিক সকল পাপ মোচনের

রাস পূজা আয়োজক কমিটির সমন্বয়ক ও কুয়াকাটা সৈকতে শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দির তীর্থযাত্রী সেবাশ্রমের সভাপতি কাজল বরণ দাস বলেন, সৈকতের পাড়ে প্রদীপ জ্বালিয়ে প্রার্থনায় বসেছেন তারা। পুণ্যার্থীরা সাগরকে সামনে রেখে নির্জনে কৃষ্ণপূজার সঙ্গে দেবতার নীল কমল আর গঙ্গাদেবীর আরাধনায় মগ্ন হয়েছেন।

কুয়াকাটা সৈকতে শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দির তীর্থযাত্রী সেবাশ্রমের সহ-সভাপতি নারায়ণ চন্দ্র হাওলাদার জাগো নিউজকে জানান, বাংলাদেশ একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এই দেশে সবাই মিলে একটি সুন্দর লোকজ সাংস্কৃতিক পরিবেশ গড়ে তুলেছে, যা আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্য। আমাদের এই মন্দিরের পাশেই একটি মসজিদও রয়েছে, আমাদের মধ্যে বেশ সুসম্পর্ক।

গঙ্গাস্নান বা পুন্যস্নানের মধ্য দিয়ে পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় শেষ হয়েছে রাস উৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা। বুধবার (৫ নভেম্বর) ভোর ৬টায় জাগতিক সকল পাপ মোচনের

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও কুয়াকাটা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য সচিব মো. কাউসার হামিদ বলেন, রাস উপলক্ষে আমরা বিভিন্ন আয়োজন হাতে নিয়েছি, বরাবরের থেকে একটু আলাদা বিনোদন দিতেই মার্কেটের প্রসার বাড়ানো, আলাদাভাবে মোবাইল টয়লেট, চেইঞ্জিং রুমসহ নানা আয়োজন করা হয়েছে। যে কারণে এবারের আয়োজন প্রত্যেকটা পুণ্যার্থী ও দর্শনার্থী উদযাপন করেছে। পুরোপুরি এই আয়োজন শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমরা মাঠে আছি।

টুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে নিরাপত্তায় কঠোর ছিলাম আমরা। আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চার শতাধিক সদস্য নিয়োজিত ছিল। কাল সকালে রাসমেলার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেও সন্ধ্যা পর্যন্ত নিরাপত্তা বহাল রাখবো।

আসাদুজ্জামান মিরাজ/এফএ/এমএমএআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।