ঝিনাইদহে আলো ছড়াচ্ছে টুটুলের লাইব্রেরি


প্রকাশিত: ০৫:৪০ এএম, ২৭ জুন ২০১৬

টুটুলের মাতৃভাষা পাবলিক লাইব্রেরি পুরো কালুহুদা গ্রামকে আলোকিত করেছে। তার লাইব্রেরিতে বসে গ্রামের দরিদ্র ছেলে-মেয়েরা লেখাপড়া করতে পারছে বলে অভিব্যক্তি জানলেন গ্রামের বয়স্করা।

কালুহুদা গ্রামের দশম শ্রেণির ছাত্র সাফিন আহমেদ জানায়, ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার কালুহুদা গ্রামে ২০০১ সালে কলেজছাত্র এম টুটুল বন্ধু ও স্বজনদের কাছ থেকে মাত্র ৫০টি বই নিয়ে তার নিজ বাড়িতেই টিনের চালা ও বাঁশের বেড়া দিয়ে ছোট্ট পরিসরে গড়ে তোলেন লাইব্রেরি।
 
মহেশপুর সরকারি কলেজের ছাত্রী লাভলী খাতুন জানায়, গ্রামে এ লাইব্রেরিটি হয়ে তাদের মতো দরিদ্র ছাত্র-ছাত্রীদের উপকার হয়েছে। তারা ক্লাশের পাঠ্যবই এখানে পড়তে পারছে।

Jhenidah-photo-library-

জানা যায়, দুপুর আড়াইটা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত লাইব্রেরি খোলা থাকে। লাইব্রেরিতে বিভিন্ন শ্রেণির পাঠ্যপুস্তক ছাড়াও আছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বই, কিশোরতোষ, শিশুতোষসহ নানা ধরনের বই। বই দিয়েছেন রাবেয়া হামিদ ফাউন্ডেশন, প্রফেসর নাহিদ কাইয়ুম, আরিফ ময়েনউদ্দিন, প্রফেসর খাদেজা খাতুন, প্রফেসর মরহুম শরীফ হোসেন, আমিরুল আলম খান, সেলিনা জামান, মিন্নাত আলি, ঢাকার উত্তরাধিকারসহ মোট ১২৪ জন।

টুটুল বলেন, তার স্বপ্ন লাইব্রেরিকেন্দ্রিক একটি পূর্ণাঙ্গ তথ্যকেন্দ্র গড়ে তোলা। কালুহুদা ছাড়াও শাহাপুর, জাগুশা, জোকা, হাবাসপুর, মির্জাপুর, ভবেরপাড়া, বাথানগাছি, ধোপাতলা প্রভৃতি গ্রাম থেকে প্রতিদিন ৩০-৪০ জন পাঠক আসেন বই ও খবরের কাগজ পড়ার জন্য। এখন বইয়ের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে দেড় হাজার।

তিনি আরও জানান, টুটুলরা ৬ ভাই ও এক বোন। অনেক আগেই বাবা মারা গেছেন। বাড়িতে মা ও এক ভাই থাকেন। মা লাইব্রেরি গড়ে তুলতে উৎসাহিত করেন।

আহমেদ নাসিম আনসারী/এসএস/এবিএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।