খাইয়া লইয়া হমান আছি
`খাইয়া লইয়া হমান আছি (খেয়ে দেয়ে সমান আছি)।` খুব কষ্টের সঙ্গে কথাগুলো বলছিলেন নারায়ণপুর বাজারের কামার শিল্পী নিবাস মন্ডল (৬৮)।
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের নারায়ণপুর বাজারে কয়েক পুরুষ ধরে কামার শিল্পের কাজ করে চলেছে নিবাস মন্ডল। বর্তমানে বার্ধক্যের কারণে আর লোহা পেটানোর মতো কঠিন পরিশ্রমের কাজ করতে পারছেন না। তার ব্যবসা পরিচালনা করছেন তার ছেলে পরিমল মন্ডল। হাপড় টেনে মাঝে মাঝে ছেলেকে সাহায্য করেন নিবাস মন্ডল।
নিবাস মন্ডলের ছেলে পরিমল মন্ডল জাগো নিউজকে জানান, পৈত্রিক পেশা ধরে আছি। তবে এই পেশায় এখন আর সংসার চলে না। আগের মতো এখন আর মানুষ দা, কাঁচি, কোদাল, বটি, কুড়াল, শাবল, খন্তা ইত্যাদি বানায় না। আগে প্রতিটি বাড়ি থেকে গৃহকাজের যন্ত্রপাতি বানাতে দিতো। এখন আর বানাতে দেয় না।
আমার বড় ভাই কার্তিক মন্ডল আগে কামারের কাজ করতো। কামারের কাজে আয় কম, সংসার চলে না তাই এখন কাঠমিস্ত্রীর পেশা বেছে নিয়েছে। সরকার সহযোগিতা করলে একটু ভালো থাকতে পারতাম।
জানা যায়, শরীয়তপুরে পেশা ছাড়তে শুরু করেছে কামার শিল্পীরা। বর্তমানে কামারদের ব্যবসায় মন্দা থাকায় আর্থিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। একজন কামার কার্তিক-অগ্রহায়ণ মাসেই বেশি কাজ করে। এখন তারা কাজের অভাবে পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় কাজ করতে শুরু করেছে।
আদি শিল্প গবেষকরা বলেছেন, কামার শিল্প আমাদের সমাজে উন্নয়ন ও সভ্যতার আতুর ঘর। এই আতুর ঘরে তৈরি কৃষি যন্ত্রপাতি চাষাবাদে বিপ্লব এনেছে। বেড়েছে উৎপাদন ক্ষমতা। কিন্তু আধুনিক যন্ত্রপাতি এসে এই শিল্পকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে। তবে এই পেশার উন্নয়নে সরকার ও বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠান আসলে কামার শিল্পে জড়িত শ্রমিকরা স্বাচ্ছন্দ্য ফিরে পাবে।
ছগির হোসেন/এসএস/পিআর