রাজশাহীর ২ আসনে অভ্যন্তরীণ চাপে বিএনপি, ভোট বিভাজনের শঙ্কা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি রাজশাহী
প্রকাশিত: ০৩:২৮ পিএম, ০১ জানুয়ারি ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজশাহীতে অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে অন্তত দুইটি আসনে দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত একাধিক নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন, যা বিএনপির ভোটব্যাংকে বিভাজনের আশঙ্কা তৈরি করেছে।

বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মেজর (অব.) শরীফ উদ্দিন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তবে দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় গোদাগাড়ী উপজেলা বিএনপির সদস্য অ্যাডভোকেট সুলতানুল ইসলাম তারেক স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেন। এতে করে ওই আসনে বিএনপির নিজস্ব ভোটভিত্তির মধ্যেই সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয়েছে।

অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব সবচেয়ে বেশি প্রকট হয়ে উঠেছে রাজশাহী-৫ (বাগমারা) আসনে। এখানে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মণ্ডলের বিপরীতে তিনজন স্বতন্ত্র প্রার্থী মাঠে নেমেছেন। তারা হলেন, জুলকার নাঈম মোস্তফা, ইসফা খায়রুল হক শিমুল ও রেজাউল করিম। তিনজনই বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এবং মনোনয়ন বঞ্চিত নেতা।

জানা গেছে, জুলকার নাঈম মোস্তফা প্রয়াত বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য নাদিম মোস্তফার ছেলে। ইসফা খায়রুল হক শিমুল পুঠিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি এবং রেজাউল করিম যুক্তরাজ্যপ্রবাসী সাবেক ছাত্রনেতা।

স্থানীয় বিএনপি নেতারা বলছেন, এসব ‘বিদ্রোহী’ বা স্বতন্ত্র প্রার্থীর উপস্থিতি ভোট বিভাজনের মাধ্যমে দলের নির্বাচনি সম্ভাবনাকে জটিল করে তুলতে পারে। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, দলীয় হাইকমান্ড দ্রুত হস্তক্ষেপ করে বিরোধ মীমাংসা করবেন এবং দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে সমর্থন ঐক্যবদ্ধ করবেন।

মনোনয়ন বঞ্চিত স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট সুলতানুল ইসলাম তারেক বলেন, দলের মনোনয়ন প্রক্রিয়া অনেকটা ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের মতো একক ও কর্তৃত্ববাদী। তৃণমূলের কর্মী এবং কঠিন সময়ে যারা দলের সঙ্গে ছিলেন, তাদের উপেক্ষা করে অজনপ্রিয় প্রার্থীকে বেছে নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, হাইকমান্ডের স্বচ্ছতার অভাবকে চ্যালেঞ্জ জানাতেই আমি মনোনয়ন জমা দিয়েছি।

অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম বলেন, প্রত্যেক নাগরিকেরই নির্বাচনে অংশগ্রহণের আইনগত অধিকার রয়েছে। আমি আমার এলাকার মানুষ ও ভূমির উন্নয়ন চাই। আমি দলের বাইরে নই; একজন দলীয় কর্মী হিসেবেই উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য এই প্ল্যাটফর্মে সামনে এসেছি।

এ বিষয়ে বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকতের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সাখাওয়াত হোসেন/কেএইচকে/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।