খননের পরও কাজে আসছে না নারোদ নদী

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি রাজশাহী
প্রকাশিত: ০৮:৪৫ পিএম, ০৩ জানুয়ারি ২০২৬

রাজশাহী পুঠিয়ায় নারোদ নদী পূণঃখনন করা হয়েছে। কিন্তু বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সেচ প্রকল্পটি কৃষকদের চাষাবাদ কাজে উপকারে আসছে না। ববং নদীর একাধিক স্থানে বাঁধ নির্মাণ করে মাছ চাষ করা হচ্ছে। কিন্তু যে উদ্দেশে নদীটি খনন করা হয়েছিলো। তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। এতে খরা মৌসুমে শত শত হেক্টর জমির ফসল সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে।

পুঠিয়া বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে বরেন্দ্র এলাকায় খালে পানি সংরক্ষণ ও সেচ সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় নারোদ নদী পুণঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পদ্মা নদীর চারঘাট উপজেলার মুক্তারপুর বালুঘাট থেকে পুঠিয়া উপজেলার মধ্যে দিয়ে মুসাখাঁ নদী পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার নারোদ নদী পূনঃখনন করা হয়। এতে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ব্যয় করেছেন, ৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা। অবৈধ দখলমুক্ত ও বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া নদীটি পুণঃখনন হওয়ায়। এ অঞ্চলের এক হাজার ৬৫০ হেক্টর কৃষি জমি সেচের আওতায় আনা হয়েছিলো।

এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে বর্ষা মৌসুমে নিন্মাঞ্চলের জমিগুলোতে জমে থাকা অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনে সহায়ক হিসাবে এই প্রকল্পটি কাজ করার কথা ছিলো। খননকৃত নারোদ নদী থেকে পানি তুলে সেচ কাজে ব্যবহারে করার জন্য ইতিমধ্যে ১৩টি স্থানে সোলার প্যানেলভিত্তিক এলএলপি নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু চারঘাট-সরদা ট্রাফিক মোডের নিকট একটি কালভাট সংস্কার ও সম্প্রসারণ করতে না পারায় পদ্মনদী থেকে পানি এনে খননকৃত নারোদ নদীতে রাখতে হবে। কিন্তু পদ্মনদীর পানি এনে রাখা হচ্ছে না। আবার নারোদ নদীতে পানি না থাকায় নদী ভরাট হয়ে যাওয়ার শুরু করেছে। নদীর একাধিক স্থানে বাঁধ নির্মাণ করে মাছ চাষ করা হচ্ছে। নদী খনন করা আগে যেসব ব্যক্তিরা নদী দখল করে রেখে ছিলেন তারাই বর্তমানে বাঁধ নির্মাণ করে মাছ চাষ করার অভিযোগ উঠেছে।

পুঠিয়া কান্দ্রা খলিফাপাড়া গ্রামের আহাম্মদ আলি খলিফা বলেন, বর্তমানে নদীর অনেক স্থানে পানি শুকিয়ে গেছে। খলিফাপাড়ায় যে স্থানে সোলারপ্যানেল দিয়ে এলএলপি নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে বর্তমানে পানি নেই। এতে এই বিলের প্রায় ১০০ হেক্টর জমির বিভিন্ন রকম ফসল ফলানো যাচ্ছে না। হঠাৎ করে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের খননকৃত সেচ প্রকল্প থেকে পানি না পাওয়ার জন্য কৃষকরা হতাশ হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে খরা মৌসুমে বেশি পানি না দিলে বোরো ধানের আবাদ করা যায় না।

কান্দ্রা গ্রামের আইয়ুব আলি মাস্টার বলেন, সোলার প্যানেলের মাধ্যমে এলএলপি নলকূপের মাধ্যমে বর্ষাকালে নদী থেকে পানি উঠানো সহজ। যে নদী থেকে কৃষকরা পানি নিয়ে জমিতে দেয় সেই নদীতেই পানি নেই। এখন বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের উচিত হবে, নদীর যে স্থানগুলিতে পানি নেই সেসব স্থানগুলিতে গভীর নলকূপ স্থাপন করে জরুরিভাবে কৃষকদের পানির ব্যবস্থা করা। তা না হলে, এ অঞ্চলের কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

জেকের মোড়ের কৃষক হাবিবুর রহমান বলেন, চলতি খরা মৌসুমে শত শত হেক্টর জমির ফসল সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

পুঠিয়া বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সহকারী প্রকৌশলী মো. হানিফ শিকদার বলেন, যে উদ্দেশে সেচ প্রকল্পটি বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ হাতে নিয়ে ছিলো। তা পুরোপুরি হাসিল হয়নি।

সাখাওয়াত হোসেন/এনএইচআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।