কক্সবাজারে দুই ম্যাজিস্ট্রেটের বিরুদ্ধে অভিযোগ
কক্সবাজার সৈকত দখল করে অবৈধভাবে নির্মিত সহস্রাধিক স্থাপনা থাকলেও উচ্ছেদ করা হয়েছে হোটেল সি-গালের সামনে পর্যটকদের জন্য দেয়া ডাস্টবিন ও ঝাউবাগান সুরক্ষার জন্য নির্মিত অস্থায়ী কিছু ঘেরা। আর এতেই হোটেল সি-গালের পক্ষ থেকে "প্রশ্নবিদ্ধ ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত অভিযানের নেতৃত্বদানকারী" দুই ম্যাজিস্ট্রেটের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার কক্সবাজার সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাজহারুল ইসলাম ও কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোজাম্মেল হক রাসেলের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত এ অভিযান পরিচালনা করেন।
জানা যায়, কক্সবাজার শহরের নাজিরারটেক থেকে টেকনাফ বাহারছড়া পর্যন্ত ১২০ কিলোমিটার সৈকতে ঝাউবাগান ও সৈকত দখল করে কয়েক হাজার স্থায়ী ও অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। অনেক জায়গায় গড়ে তোলা হয়েছে রোহিঙ্গা বসতিও। এছাড়া পর্যটক কিংবা সাধারণ জনসাধারণের জন্য দেয়া হয়নি কোনো ডাস্টবিনও। ফলে শ্রীহীন ও আবর্জনার নগরীতে পরিণত হয়েছে বিশ্বের দীর্ঘতম কক্সবাজার সৈকত।
এসব কিছু বিবেচনায় নিয়ে শহরে সৈকতের পাশে নির্মিত তারকা হোটেল সি-গাল এর পক্ষ থেকে তাদের সামনে রাস্তার পাশে দেয়া হয়েছে অন্তত ১০টি ডাস্টবিন। সেই সঙ্গে ঝাউবাগান সুরক্ষার জন্য লাগানো হয়েছে বিদেশ থেকে আনা সবুজ ঘাস। দেয়া হয়েছে বাশের অস্থায়ী ঘেরা।
এ প্রসঙ্গে হোটেল সি-গালের নির্বাহী প্রধান শেখ ইমরুল সিদ্দিকী রুমি বলেন, সৈকতের সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও ঝাউবাগান সুরক্ষা করতে সি-গালের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে অনেক টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। এছাড়া পর্যটক ও জনসাধারণের জন্য অন্তত ১০টি ডাস্টবিন দেয়া হয়েছে। কিন্তু গতকালের অভিযানে এ ডাস্টবিনগুলো ভেঙে দেয়া হয়েছে। তাই বিষটি জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বলেন, ম্যাজিস্ট্রেট পাঠানো হয়েছে নীলিমা রিসোর্টের পাশে অবৈধভাবে নির্মিত স্থাপনাগলো উচ্ছেদ করতে কিন্তু সি-গালের সামনে উচ্ছেদের ব্যাপারে তাদের কোনো কিছু বলা হয়নি। তাই বিষয়টি আমি দেখব।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার শহরে সৈকত দখল করে অবৈধ ভাবে নির্মিত অন্তত ৫ টি স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসময় সরকারি নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগে ৪ জনকে ৫ দিন করে কারাদণ্ড দেয়া হয়।
সায়ীদ আলমগীর/এফএ/পিআর