নোয়াখালীতে কৃষকদলের পাঁচ নেতাকে বহিষ্কার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নোয়াখালী
প্রকাশিত: ০৬:৪৬ পিএম, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬

নোয়াখালী-২ আসনের সেনবাগে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংগঠন বিরোধী কর্মকাণ্ডের দায়ে এবার কৃষকদলের পাঁচ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এর আগে বিএনপির প্রার্থীর বিরোধিতা করে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে ভোট করায় আরও ২৩ বিএনপি নেতাকে বহিষ্কার করে দলটি।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে কৃষকদল কেন্দ্রীয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলামের সই করা চিঠিতে বহিষ্কারের বিষয়টি জানা গেছে। কৃষকদলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রবিউল হাসান পলাশ চিঠির বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন।

চিঠিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ও সংগঠন বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে জাতীয়তাবাদী কৃষকদল নোয়াখালী জেলার সেনবাগ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের পাঁচ নেতাকে সংগঠনের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বহিষ্কৃত নেতারা হলেন, ডমুরুয়া ইউনিয়ন কৃষকদলের আহ্বায়ক রসুল আমিন, কাদরা ইউনিয়নের সদস্যসচিব আবুল বাশার, অর্জুনতলা ইউনিয়নের সদস্যসচিব বেলাল হোসেন, বীজবাগ ইউনিয়নের আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন ও নবীপুর ইউনিয়নের সদস্যসচিব আহছান উল্যাহ।

তাদের সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের কোনোরূপ যোগাযোগ না করার জন্য চিঠিতে অনুরোধ করা হয়েছে। এছাড়া বিষয়টি কৃষকদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন ও সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল অনুমোদন করেছেন।

জানা গেছে, নোয়াখালী-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সাবেক চিফ হুইফ জয়নুল আবদিন ফারুক। এ আসনে কাপ-পিরিচ প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য পদ থেকে সদ্য বহিষ্কৃত ব্যবসায়ী কাজী মোহাম্মদ মফিজুর রহমান। এখানে বিএনপির অনেক নেতাকর্মী স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দলীয় প্রার্থীর বিরোধিতা করায় সেনবাগ পৌর বিএনপির আহ্বায়ক ভিডি মফিজুল ইসলামকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এছাড়া বুধবার (২৮ জানুয়ারি) একই অভিযোগে সেনবাগ উপজেলা ও পৌর বিএনপির ১৮ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বহিষ্কৃতরা ১৮ নেতা হলেন, সেনবাগ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর হোসেন চৌধুরী, ড. সৈয়দ নজরুল ইসলাম ফারুক, অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত লিটন, মমিন উল্লাহ চেয়ারম্যান, মির্জা মো. সোলাইমান, মোয়াজ্জেম হোসেন সেলিম, গোলাম হোসেন খোন্দকার, উপজেলা বিএনপির সদস্য ওবায়দুল হক চেয়ারম্যান, আবুল কালাম আজাদ, নুরুজ্জামান চৌধুরী, আবু জাহের চৌধুরী জাফর, শাহেদুল করিম মারুফ, মাস্টার দলিলুর রহমান এবং সেনবাগ পৌর বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন বাবলু, রেজাউল হক হেলাল, তাজুল ইসলাম রতন, পৌর বিএনপির সদস্য মহিন উদ্দিন কমিশনার ও শহীদ উল্যা হেলাল।

এদিকে গত ৯ জানুয়ারি একই অভিযোগে সেনবাগ উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক সোলেমান রাজু ও ওমর ফারুক শাকিল, সদস্যসচিব আনোয়ার হোসেন এবং সেনবাগ পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব ওয়ালিদ আদনানকে বহিষ্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি বীজবাগ সুলতান মাহমুদ ডিগ্রি কলেজের সভাপতি তানভীর তারেক জয়ের পদ স্থগিত ও কানকিরহাট ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সব কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।

এ আসনে বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ছাড়াও আরও তিনজন প্রার্থী রয়েছেন। তারা হলেন, ১১ দলীয় জোট সমর্থিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রতিষ্ঠাতা যুগ্ম-আহ্বায়ক এবং বর্তমান আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া মজুমদার (শাপলা কলি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের খলিলুর রহমান (হাতপাখা), জাতীয় পার্টির মো. শাহাদাৎ হোসেন (লাঙ্গল)।

ইকবাল হোসেন মজনু/আরএইচ/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।