ময়মনসিংহ

কলেজছাত্র শাওন নিহতের ঘটনায় কিশোর গ্যাংয়ের আরও ৫ সদস্য গ্রেফতার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ময়মনসিংহ
প্রকাশিত: ০৯:০৩ এএম, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ময়মনসিংহে ছিনতাইকারীদের ধাওয়ায় আনন্দ মোহন কলেজের রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নূরুল্লাহ শাওন (২৫) নিহতের ঘটনায় কিশোর গ্যাংয়ের ৫ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১২টার দিকে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত ময়মনসিংহ সদর উপজেলা, জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ভারতী ও নেত্রকোনা সদর উপজেলার সাতপাই এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারদের সবাই ১৮ বছরের কম বয়সি। এ ঘটনায় এর আগে এক কিশোরকে গ্রেফতার করা হয়।

নিহত নূরুল্লাহ শাওন কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের চরজাকালিয়া গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জয়নুল আবেদিন উদ্যান এলাকা থেকে নুরুল্লাহ শাওন ও তার বন্ধু মঞ্জুরুল আহসান রিয়াদ ব্রহ্মপুত্র নদের বিপরীত পাশে বেড়াতে যান। সন্ধ্যা ৬টার দিকে দুই বন্ধুকে অন্তত সাতজনের একটি ছিনতাইকারী কিশোর দল ঘিরে ধরে তাদের কাছে যা আছে বের করে দিতে বলে। নৌকা ভাড়া ছাড়া আর কোনো টাকা নেই জানালে এ সময় দুই বন্ধুকেই মারধর করা হয়।

আরও পড়ুন:
নিখোঁজের দুইদিন পর ব্রক্ষপুত্র নদ থেকে শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার
কলেজছাত্র নিহতের ঘটনায় পুলিশ সুপার কার্যালয় ঘেরাও-বিক্ষোভ

একপর্যায়ে নুরুল্লাহ শাওন প্রতিবাদ করলে বেদম মারধর শুরু করে। ওই সময় দুই বন্ধু দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। চারজন পিছু নেয় শাওনের ও তিনজন পিছু নেয় মঞ্জুরুলের। মঞ্জুরুল ব্রহ্মপুত্র নদে নেমে সাঁতরে পার হতে পারলেও নুরুল্লাহ শাওন কোন দিকে গেছেন তার সন্ধান মেলেনি। পরে মঞ্জুরুল তীরে উঠে স্থানীয় এলাকাবাসী ও বন্ধুদের খবর দিয়ে দলটির ১৫ বছর বয়সি এক সদস্যকে ধরে থানা পুলিশের হাতে সোপর্দ করেন। রাতে শাওনের সন্ধান শুরু করলেও পাননি বন্ধুরা। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে শাওনের ব্যাগ ও জুতা পাওয়া যায়। ওই অবস্থায় পুলিশ ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নিয়ে নদে সন্ধান চালালেও খোঁজ মেলেনি শাওনের।

এদিন বিকেলে শাওনের মা শাহিদা বেগম বাদী হয়ে কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি অভিযোগ দেন। সাতজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় ৩-৪ জনকে আসামি করে দেওয়া অভিযোগটি পুলিশ সন্ধ্যায় মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে।

শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর ব্যাটবল চত্বর সংলগ্ন ব্রক্ষপুত্র নদের কিনারার পানিতে মরদেহটি দেখতে পেয়ে এক ব্যক্তি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল দিয়ে পুলিশকে জানান। পরে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে পুলিশ সুপারের (এসপি) কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন আনন্দ মোহন কলেজের শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা ঘটনায় জড়িত আসামিদের রাতের মধ্যেই গ্রেফতারের দাবি জানান। জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দিলে আন্দোলন সাময়িক স্থগিত করেন বিক্ষোভকারীরা।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, কিশোর দলটি নিজেদের এলাকায় সন্ধ্যার দিকে যারা ঘুরতে যায়, তাদের ‘ঠেক’ দিত। তারা সবাই অপ্রাপ্তবয়স্ক ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী।

কামরুজ্জামান মিন্টু/এমএইচ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।