উদ্বোধনের আড়াই বছরেও চালু হয়নি ২০ কোটি টাকার হাসপাতাল

শাহজাহান নবীন
শাহজাহান নবীন শাহজাহান নবীন , জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৩:৫৬ পিএম, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
ভৈরবা ২০ শয্যা হাসপাতাল/ ছবি: জাগো নিউজ
  • অযত্ন-অবহেলায় খসে পড়ছে হাসপাতালের পলেস্তারা
  • হাসপাতালটি চালু হলে সেবা পাবে ৭ থেকে ৮ ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ
  • চুরি হয়ে গেছে হাসপাতালের পানির কল, বেসিনের ট্যাপ

ঝিনাইদহের মহেশপুরে ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে ভৈরবা ২০ শয্যা হাসপাতাল। যেখানে থাকার কথা ছিল রোগীদের ভিড় আর চিকিৎসকদের ব্যস্ততা—সেই স্থাপনাই এখন নীরব ও পরিত্যক্ত। অবকাঠামো হস্তান্তরের আড়াই বছর পেরিয়ে গেলেও চালু হয়নি স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন মহেশপুর ও পার্শ্ববর্তী এলাকার অন্তত চার লাখ মানুষ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মহেশপুর শহরের জলিলপুর পাঁচরাস্তা মোড় থেকে ভৈরবা সড়কের পাশে ভৈরবা সাঁকোর খাল এলাকায় ঠাঁই দাঁড়িয়ে দৃষ্টিনন্দন ভৌত অবকাঠামো। ভবনের রঙ ও পলেস্তারা বিবর্ণ হতে শুরু করেছে। হাসপাতাল চত্বরে জন্মেছে আগাছা। অভ্যন্তরীণ রাস্তার দু এক জায়গা দেখা দিয়েছে ফাটল। ভবনের বিভিন্ন কক্ষে জমে রয়েছে ময়লা ও মাকড়শার জাল।

হাসপাতালের ভবনের রঙ ও পলেস্তারা বিবর্ণ হতে শুরু করেছে/ ছবি: জাগো নিউজ

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ২৫ অক্টোবর তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালটি উদ্বোধন করেন। প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে হাসপাতালটি নির্মাণ করা হয়। জেলার সীমান্তবর্তী প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে হাসপাতালটি নির্মাণ হলেও চালু হয়নি মূল কার্যক্রম।

‘হাসপাতালটি চালু হলে যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও ঝিনাইদহ জেলা শহরে যেতে হবে না। জরুরি রোগী নিয়ে অন্যান্য হাসপাতালে যেতে অনেক পথ পাড়ি দিতে হয়। এতে প্রায়ই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে’

স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালটি চালু না হওয়ায় এ অঞ্চলের বাসিন্দাদের দূরের হাসপাতালগুলোতে সেবা নিতে যেতে হয়। ইমার্জেন্সি রোগীদের নিয়ে দূরের হাসপাতালে নেওয়ার আগেই অনেকেই মারা যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালটি চালু হলে যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও ঝিনাইদহ জেলা শহরে যেতে হবে না। জরুরি রোগী নিয়ে অন্যান্য হাসপাতালে যেতে অনেক পথ পাড়ি দিতে হয়। এতে প্রায়ই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।

আরও পড়ুন
চার ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ডাক্তারের দেখা পান দুই মিনিট
অবশেষে যশোরবাসীর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্বপ্ন পূরণের পথে
সরকারি হাসপাতালের দুঃখ জনবল খরা, আধুনিক যন্ত্রপাতি যেন ‘শো-পিস’
প্রিয়জনের হলুদ খাম এখন অতীত, যা আসে আইনি-তালাক নোটিশ

স্থানীয় বাসিন্দা জাকিরুল ইসলাম বলেন, হাসপাতাল নির্মাণ হয়েছে দুই বছর আগে। মন্ত্রী উদ্বোধন করেছেন। আর কেউ আসেনি কখনো। গেটে তালা লাগানো থাকে সব সময়। সরকারি সম্পত্তি দেখার কেউ নেই। কবে চালু হবে কেউ জানে না। আমরা সাধারণ মানুষ অসুস্থ হলে ৬৫ কিলোমিটার দূরে জেলা শহরে যেতে হয়। দ্রুত হাসপাতালটি চালু হওয়া দরকার।

‘হাসপাতালের ভবনটি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে পলেস্তারা খসে পড়ছে। এখানে কোনো পাহারাদারও নেই। সন্ধ্যার পরে দেয়াল টপকে বখাটেরা ভেতরে আড্ডাবাজি করে। পানির কল, বেসিনের ট্যাপসহ নানা জিনিস চুরি হয়েছে’

বীরেন চন্দ্র হালদার নামে আরেকজন বলেন, হাসপাতালের ভবনটি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে পলেস্তারা খসে পড়ছে। এখানে কোনো পাহারাদারও নেই। সন্ধ্যার পরে দেয়াল টপকে বখাটেরা ভেতরে আড্ডাবাজি করে। পানির কল, বেসিনের ট্যাপসহ নানা জিনিস চুরি হয়েছে।

হাসপাতালের চত্বরে জন্মেছে আগাছা/ ছবি: জাগো নিউজ

তবে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, ৫ আগস্টের পর থেকে দেশে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতালে সেনাবাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্প গড়ে তোলা হয়। যে কারণে হাসপাতালের অবকাঠামো ও অন্যান্য জিনিসপত্র কিছুটা ভালো রয়েছে। তবে নির্বাচনের পরপরই সেনা ক্যাম্প সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

‘২০২৩ সালের ২৫ অক্টোবর তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালটি উদ্বোধন করেন। প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে হাসপাতালটি নির্মাণ করা হয়। জেলার সীমান্তবর্তী প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে হাসপাতালটি নির্মাণ হলেও চালু হয়নি মূল কার্যক্রম’

জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. কামরুজ্জামান বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে এখনো কোনো প্রশাসনিক অনুমোদন পাওয়া যায়নি। হাসপাতালটি চালুর ব্যাপারে এ নিয়ে তিনবার মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। নতুন করে আবারও চিঠি প্রস্তুত করছি। আইনমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্যকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন
তাঁত শিল্পে ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’ বিদ্যুৎ বিভ্রাট
কালনী-কুশিয়ারার পেটে যাচ্ছে শত বছরের জনপদ
লোডশেডিং-ডিজেল সংকটে কপাল পুড়ছে কৃষকের

তিনি আরও জানান, হাসপাতাল ভবনের কয়েকটি জায়গায় রঙ নষ্ট হয়ে গেছে। ধুলা ময়লাও জমেছে।

ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা. মো. কামরুজ্জামান বলেন, হাসপাতালটি চালু হলে আশপাশের ৭-৮ ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ সেবা পাবে। চালুর জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জামের চাহিদাপত্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, খুব শিগগির প্রশাসনিক অনুমোদন পাওয়া যাবে।

এমএসএইচএন/এনএইচআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।