ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের ডিজি নিয়োগ, দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ
গাজীপুরে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে (ব্রি) নতুন মহাপরিচালক (ডিজি) নিয়োগ ঘিরে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। নিয়োগের পরপরই প্রতিষ্ঠানটির একাংশের বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন ডিজিকে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ ও ‘দুর্নীতিবাজ’ আখ্যা দিয়ে নিয়োগ বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভে নেমেছেন। পাল্টা অবস্থান নিয়েছে আরেকটি পক্ষ। তারা বলছে, নিয়োগটি যথাযথ প্রক্রিয়ায় হয়েছে।
সোমবার (৪ মে) সকাল থেকেই দুটি পক্ষ ব্যানার ও লোকবল নিয়ে মহাপরিচালক কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়। উভয়পক্ষ পাল্টাপাল্টি স্লোগান দেয়। এছাড়াও সকাল থেকে তারা ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন কক্ষে তালা ঝুলিয়ে কর্মবিরতি পালন করছেন।
এর আগে রোববার (৩ মে) দুপুরে ড. মো. আমিনুল ইসলামকে নতুন ডিজি হিসেবে নিয়োগ দেয় কৃষি মন্ত্রণালয়।
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী সমিতির নির্বাচিত সহ-সভাপতি ড. এবিএম আনোয়ার উদ্দিন বলেন, যাকে ডিজি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তিনি বিগত সরকারের আমলের সুবিধা ভোগী এবং দোসর। কুমিল্লা দায়িত্বকালীন সময়ে দুর্নীতি জড়িয়ে পড়েন এমন তথ্য প্রমাণ রয়েছে। ছাড়াও ফ্যাসিস্ট আমলে শোক দিবস পালনে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন।

এ বিষয়ে সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. হাবিবুর রহমান মুকুল বলেছেন, নতুন নিয়োগ পাওয়া এই ডিজি আওয়ামী লীগ আমলে ক্ষমতা খাটিয়ে এই পদ বাগিয়ে নিয়েছিল। তাকে ডিজি নিয়োগের খবর শুনে ইনস্টিটিউটে কর্মরত বিজ্ঞানী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিক্ষোভ করছেন। গতকাল রাত থেকেই তারা অবস্থান নিয়েছেন।
এদিকে নতুন ডিজি ড. আমিনুল ইসলামে পক্ষে বিক্ষোভকারীরা বলছেন, আমরা গত মাসে বেতন পাইনি, ডিজি ছিল না বলে। এখন যেহেতু মন্ত্রণালয় থেকে ডিজি নিয়োগ দিয়েছে, এজন্য আমরা তাকে স্বাগতম জানানোর জন্য অবস্থান নিয়েছি। বিপরীত পাশে দাঁড়িয়ে যারা স্লোগান দিচ্ছে, তারা দুর্নীতিবাজ।
ব্রির এলএসটিডি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ডক্টর আনোয়ার হোসেন বলেন, বিগত প্রায় এক মাস মহাপরিচালক পদ শূন্য থাকায় প্রকল্পের কার্যক্রমে কিছুটা স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল। আমরা আশাবাদী, তার যোগ্য ও দূরদর্শী নেতৃত্বে প্রকল্পের সকল কার্যক্রম, ব্রির গবেষণা ও প্রশাসনিক কাজ পুনরায় গতিশীলতা ফিরে পাবে।
মো. আমিনুল ইসলাম/কেএইচকে/জেআইএম