মমতা ব্যানার্জীর রাজনৈতিক উত্থান-পতন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩:৫৯ পিএম, ০৪ মে ২০২৬
জয়প্রকাশ নারায়ণের গাড়ির বনেটের ওপর মমতা ব্যানার্জী/ছবি: এনডিটিভি

১৯৭৫ সালের ২৫ আগস্ট। ইন্দিরা গান্ধী সরকারের জারি করা জরুরি অবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্রমশ বাড়ছে। আন্দোলনের সম্মুখসারীর যোদ্ধা জয়প্রকাশ নারায়ণ আছেন কলকাতায়। তার গাড়িটি যে জায়গায় আছে-কলেজ স্ট্রিট, সেটি তখন কলকাতার ছাত্ররাজনীতিতে এক উত্তাল জায়গা। হঠাৎ, সুতির শাড়ি পরিহিতা এক তরুণী ছাত্রী জয়প্রকাশকে বহনকারী গাড়িটির বনেটের ওপর উঠে দাঁড়ালেন! ক্ষমতাসীন গান্ধী পরিবারের বিরুদ্ধে দিলেন জ্বালাময়ী স্লোগান।

সাংবাদিকদের ক্যামেরার লেন্স তখন খুঁজে নিলো ২০ বছর বয়সী ওই তরুণীকে। তখনও হয়তো ওই তরুণী জানতেন না রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে তার জন্য আর কী কী চমক অপেক্ষা করছে। সেদিনের সেই তরুণীই হলেন মমতা ব্যানার্জী, পশ্চিমবঙ্গের তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী। কলেজ স্ট্রিটের সেই ঘটনার পর থেকে আজ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ, বিশেষত কলকাতা ছিল যার কাছে দুর্গের মতো। যে হিসাব-নিকাশ পাল্টে যেতে পারে আজই! বিধানসভা নির্বাচনে চলমান ভোটগণনায় যেখানে দেখা যাচ্ছে, প্রথমবারের মতো তার দুর্গের পতন ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসতে পারে বিজেপি।

বর্তমানে ৭১ বছর বয়সী এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তৃণমূলের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন বলছে, রাজ্যে বর্তমানে দুর্নীতিসহ নানা অভিযোগে প্রবল চাপের মুখে রয়েছে মমতার নেতৃত্বাধীন সরকার। জনগণের মধ্যে এবারের মতো সরকার বিরোধিতার লক্ষণও এর আগে এতটা দেখা যায়নি। এর ওপর ভারতীয় জনতা পার্টি-বিজেপিও যেন এবার উঠেপড়েই লেগেছে সেখানে প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় আসতে। এই আগুনে আরও ঘি ঢেলেছে ভারতের নির্বাচন কমিশনের (ইসিআই) ভোটার তালিকা হালনাগাদ প্রক্রিয়া (এসআইআর)। এসবের পরও, এটা নিঃসন্দেহেই বলা যায় যে, কঠিন লড়াইয়ে অবতীর্ণ হলেই যেন মমতা কঠিনতর রূপ ধারণ করেন!

শুরুটা যেভাবে

ব্রিটানিকা ডট কম এর একটি নিবন্ধ থেকে জানা যায়, মমতার বয়স যখন ১৬ তখন তার বাবা প্রমিলেশ্বর ব্যানার্জী পরলোকগমন করেন। বেশ কয়েকটি সাক্ষাৎকারেই মমতা বলেছিলেন, তার বাবা মারা যাওয়ার কারণ ছিল পর্যাপ্ত চিকিৎসার অভাব। সরকারি দপ্তর তার ঠিকাদার বাবার বকেয়া পাওনা পরিশোধে বিলম্ব করায় তাদের পরিবার তার চিকিৎসার টাকার জোগানও দিতে পারেনি। হরিষ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে যখন সরকারি দপ্তর থেকে পাওনা ৬০ হাজার রূপির চেকটি পৌঁছায়, তার একদিন আগেই মারা যান প্রমিলেশ্বর ব্যানার্জী।

আরও পড়ুন

আউটলুক ম্যাগাজিনকে ২০১২ সালে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মমতা বলেন, তখন ওই চেকটির আমাদের কাছে আর কোনো মূল্য ছিল না। এটা আমার বাবার জীবন আর ফিরিয়ে দিতে পারতো না। এরপর আমরা যে বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছি তা একমাত্র সৃষ্টিকর্তাই দেখতে পেরেছিলেন।

কলেজের শিক্ষার্থী হিসেবে সহপাঠীদের চেয়ে মমতার জীবনযাত্রাও ছিল আলাদা। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি ঘুম থেকে উঠতেন এবং কলেজে যাওয়ার আগে তার ৫ ভাই-বোনের জন্য খাবার প্রস্তুত করার কাজে ব্যস্ত হয়ে যেতেন।

পরবর্তীতে অনেক সাক্ষাৎকারেই সহপাঠীদের থেকে নিজের আলাদা এবং সংগ্রামী জীবন সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করেছেন মমতা ব্যানার্জী। সহপাঠীরা যখন নতুন নতুন পোশাক পরে কলেজে আসতেন তখন মমতার ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে ছিল কেবলই সাধারণ সুতি শাড়ি। পরবর্তীতে যে সুতি শাড়ি মমতাকে করেছে সবার মধ্যে আলাদা এবং যেটি পরিণত হয়েছে তার ‘সিগনেচার’ পরিচয়ে!

রাজনৈতিক জীবনের শুরু

১৯৭০ সালে স্কুলের পাঠ চুকিয়ে কলকাতার জগমায়া দেবী কলেজে ভর্তি হন মমতা। তরুণ অবস্থাতেই কলেজের নির্বাচনে তিনি কংগ্রেসের স্টুডেন্ট উইং ছাত্র পরিষদের নেতৃত্ব দেন এবং জয়লাভ করেন। বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণে দ্রুতই কংগ্রেস নেতাদের নজরে আসেন তিনি। ১৯৭৬ সালে তিনি পশ্চিবঙ্গে মহিলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৮৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে জয়ের মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো ভারতের পার্লামেন্টে আসেন ২৯ বছর বয়সী মমতা। প্রবীণ বামপন্থি নেতা ও সাবেক লোকসভা স্পিকার সোমনাথ চ্যাটার্জীকে পরাজিত করেছিলেন তিনি। পরবর্তীতে ১৯৮৯ সালে নির্বাচনে হারের পর আবারও দক্ষিণ কলকাতায় ১৯৯১-এ জয়ের মধ্য দিয়ে পার্লামেন্টে আসেন তিনি।

jagonews24.com

উইকিপিডিয়ার তথ্য বলছে, ২০ বছর পর মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আগ পর্যন্ত এই আসনটিতে নিজের জয়ের ধারা অব্যাহত রাখেন মমতা।

কেন্দ্রীয় সরকারে মমতার পদচারণা

১৯৯১ এর নির্বাচনের পর নরসিমা রাওয়ের মন্ত্রিসভায় স্থান পান মমতা। এর পরপরই, নিজ দলের নেতাদের লক্ষ্য করেই আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিতে থাকেন তিনি। কংগ্রেস নেতাদের বিরুদ্ধে তিনি পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় থাকা সিপিএম এর ‘দালালির’ অভিযোগ তোলেন। পরবর্তী বছরগুলোতে কংগ্রেসের সঙ্গে তার দূরত্ব ক্রমশ বাড়তে থাকে। ১৯৯৭ সালে তিনি তৃণমূল কংগ্রেস নামে আলাদা একটি রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করেন।

এখনকার প্রবল প্রতিপক্ষ বিজেপির সঙ্গে জোট করেই ১৯৯৯ এর লোকসভা নির্বাচনে জয়ী হন এবং রেলমন্ত্রী হন মমতা ব্যানার্জী। তবে, ২০০১ সালে সামরিক চুক্তিতে দুর্নীতির জেরে প্রতিবাদ জানিয়ে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। পরবর্তীতে ২০০৩ সালে আবারও বিজিপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটে ফিরে কয়লা এবং খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান মমতা।

পরের বছরই ভোটে হেরে যায় এনডিএ জোট। এর অংশ হিসেবে নির্বাচনে ভরাডুরি মুখে পড়ে তৃণমূলও। তবে পরবর্তীতে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোটের অংশ হয়ে আবারও রেলমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান মমতা ব্যানার্জী। এরপর এই পদ ছেড়ে দিয়ে তিনি ২০১১ সালের নির্বাচনে অংশ নেন এবং প্রথমবারের মতো বাংলার (পশ্চিমবঙ্গ) মুখ্যমন্ত্রী হন।

চ্যালেঞ্জ দিয়ে হেরে যাননি কখনোই

রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের শুরু থেকে কখনোই প্রতিবাদ বা অন্যায়ের প্রতিকার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেননি মমতা। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে জন্ম দিয়েছেন অসংখ্য আইকনিক ঘটনারও। ১৯৯২ সালের ডিসেম্বরে তিনি তার সঙ্গে করে তৎকালীন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সচিবালয় রাইটার্স বিল্ডিংয়ে দিপালী বসাক নামে একজন বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী নারীকে মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য নিয়ে যান। দিপালী নামের ওই নারী একজন সিপিএম নেতা কর্তৃক ধর্ষণের শিকার হয়োছিলেন এবং এ ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রীর আশু পদক্ষেপ কামনা করেছিলেন মমতা ব্যানার্জী।

jagonews24.com

সাক্ষাতটি আগে থেকে নির্ধারিত থাকলেও মুখ্যমন্ত্রী জ্যেতি বসু শেষ পর্যন্ত ওই নারীর সঙ্গে দেখা করেননি। এর প্রতিবাদে মমতা ব্যানার্জী সচিবালয়ে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত তাকে জোরপূর্বক সরিয় নিতে এবং আটক করতে বাধ্য হয়েছিল পুলিশ।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দেখা যায়, তাকে জোরপূর্বক আটকের সময় পুলিশের সঙ্গে তার ধস্তাধস্তি হয় এবং তার চুল টেনে ধরা হয়। যখন তাকে রাইটার্স বিল্ডিংয়ের সিঁড়ি দিয়ে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল তখন তার পরনের শাড়িও ছিড়ে যায়। এই ঘটনার পর তিনি প্রতিজ্ঞা করেন যে, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি আর কখনোই সচিবালয়ে প্রবেশ করবেন না। তার এই প্রতিজ্ঞা অটুট ছিল, ১৯ বছর পর মুখ্যমন্ত্রী হয়েই তিনি আবার ওই ভবনে প্রবেশ করেন!

আরও পড়ুন

রাইটার্স বিল্ডিংয়ের ওই ঘটনার এক বছর পর, ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই সিপিএম এর বিরুদ্ধে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তুলে রাইটার্স বিল্ডিং অভিমুখে পদযাত্রা কর্মসূচির ঘোষণা দেন তিনি। এ সময় তিনি দাবি করেন, ভােটারদের ভোট দেওয়ার জন্য একমাত্র বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত তাদের পরিচয়পত্র।

সচিবালয় অভিমুখে যখন তাদের পদযাত্রা অগ্রসর হয় তখন বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ বলপ্রয়োগ করে। মমতা ব্যানার্জী নিজে আঘাতপ্রাপ্ত হন। এরপরও তারা তাদের পদযাত্রা চালিয়ে যান। এক সময় পুলিশ তাদের ওপর গুলি চালায়। ওই ঘটনায় ১৩ জন নিহত হয়েছিলেন। এরপর থেকে তৃণমূল প্রতিবছর ২১ জুলাই শহীদ দিবস হিসেবে পালন করে।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা

২০১১ সাল মমতা ব্যানার্জীর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে এক মাইলফলকের বছর। সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো তরুণ তুর্কী থেকে তিনিই হয়ে উঠলেন সরকার! এর আগের ১৫টা বছর ধরে এ অবস্থানে আসার জন্য তিলে তিলে যার ভিত গড়েছেন মমতা নিজেই। দলের মুখ হিসেবে রাজ্যে রয়েছে তার ব্যাপক জনসমর্থনও।

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে পূর্বসুরিদের থেকে অনেকটাই যেন আলাদা ধাঁচে গড়া ছিলেন তিনি। নিজেকে সাধারণের একজন হিসেবে দাবি করা মমতা যেমন বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষদের সঙ্গে নেচেছেন-গেয়েছেন, তেমনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে চলাফেরাও করেছেন স্বাচ্ছন্দ্যে। এতে করে কলকাতার ‘ভদ্রলোক’ বা ‘উঁচুতলার মানুষ’দের সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হলেও এ ঘটনা তাকে বাংলার গ্রাম অঞ্চলের ভোটারদের অনেকটাই কাছাকাছি নিয়ে আসে। আর এ কারণেই পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের ভোটব্যাংকও ফুলে-ফেঁপে উঠতে থাকে।

jagonews24.com

মমতা ব্যানার্জীর সমর্থক-ভোটারদের একটা বড় অংশই নারী। কন্যাশ্রী কিংবা লক্ষ্মী ভান্ডারের মতো স্কিমগুলো চালুর মাধ্যমেও তাই মমতা সবসময়ই তার প্রতিপক্ষের চেয়ে বেশ এগিয়েই ছিলেন নির্বাচনগুলোতে।

তবে, সবকিছুই তার জন্য এতটা সহজ ছিল- এটা ভাবাটাও ভুল। তার নিজের মুখ থেকে আসা বিভিন্ন নারীবিদ্বেষী মন্তব্যের জন্যও তাকে সমালোচনা কুড়াতে হয়েছে। বিবিসির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০১২ সালে বহুল আলোচিত পার্ক স্ট্রিট ধর্ষণকাণ্ডের বিষয়ে মমতার মন্তব্য (মমতা এটিকে সাজানো ঘটনা বলে উল্লেখ করেছিলেন) রাজ্য এবং দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। তিনি মুখ্যমন্ত্রী থাকা অবস্থায় অতি সম্প্রতি কলকাতায় সরকারি আর-জি কর হাসপাতালে এক নারী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনাও ব্যাপক আলোড়ন তোলে। সেই নারী চিকিৎসকের মা এবারের নির্বাচনে বিজেপির হয়ে মমতার দলের বিরুদ্ধেই লড়ছেন!

মমতার অধীনে পশ্চিমবঙ্গে সবচেয়ে বেশি আলোচিত ইস্যুগুলোর একটি হলো দুর্নীতি। সাবেক মন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জিসহ তৃণমূলের অন্য অনেক নেতার বিরুদ্ধেই কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দুর্নীতির তদন্ত করছে। পার্থ চ্যাটার্জির নিজস্ব বিভিন্ন স্থাপনা থেকে বান্ডিল বান্ডিল টাকা উদ্ধারের খবরও টেলিভিশন-পত্রিকায় ছাপা হয়েছে ফলাও করে। এর ওপর সুপ্রিম কোর্টে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে অনিয়মের বিষয়টি ওঠা যেন তৃণমূলের জন্য হয়েছে মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো।

অবশ্য মমতা বরাবরই বলে আসছেন যে, তার দল ও নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর দুর্নীতির তদন্ত বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রেরই অংশ।

২০২৬ এর নির্বাচন

১৫ বছর ধরে সমর্থনের পাশাপাশি মমতার দল এবং সরকারের প্রতি গড়ে ওঠা অসন্তোষও কম নয়। আর তাকে সরিয়ে ক্ষমতায় আসতে এবার বিজেপিও আঁটঘাট বেঁধেই নেমেছে। তবে, এবারের নির্বাচনে সবকিছুকে ছাপিয়ে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে এসআইআর। যদিও ভারতের নির্বাচন কমিশন বলছে, এই প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে ভোটার তালিকায় থাকা ভুল-ভ্রান্তি দূর করার উদ্দেশে। তবে, মমতা ও তার দলের দাবি- নির্বাচন কমিশন বিজেপির হয়ে কাজ করছে এবং উদ্দেশ্যমূলকভাবেই বৈধ ভোটারদের তালিকা থেকে বাদ দিচ্ছে।

এতসব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েও মমতা ব্যানার্জী সেটাই করেছেন যেটা তার করা উচিত। তিনি গিয়েছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। তিনি সভা-সমাবেশ করেছেন এবং এসআইআর এর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন। ফল বের হবে আজই। প্রশ্ন এখন একটাই, গাড়ির বনেটে দাঁড়ানো সেই তরুণ তুর্কী কি চতুর্থবারের মতো মুখ্যমন্ত্রী হবেন? নাকি তৃণমূলের জয়যাত্রা থামিয়ে পশ্চিমবঙ্গে হবে গেরুয়া বিপ্লব?

সূত্র: এনডিটিভি,ব্রিটানিকা ডট কম,আউটলুক ম্যাগাজিন

এএমএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।