কিশোরগঞ্জ

ছাত্রদলের কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ, প্রতিমন্ত্রীকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কিশোরগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৪:৩৬ পিএম, ০৪ মে ২০২৬

ছাত্রদলের সদ্য ঘোষিত কিশোরগঞ্জ জেলা কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা। এসময় তারা পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী ও জেলা বিএনপির সভাপতি মো. শরীফুল আলমের বিরুদ্ধে ‘পকেট কমিটি’ গঠনের অভিযোগ তুলে তাকে কিশোরগঞ্জে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন এক ছাত্রদল নেতা।

মঙ্গলবার (৪ মে) দুপুরে শহরের শহীদী মসজিদের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে গৌরাঙ্গ বাজার মোড়ে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। মিছিলে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন ও নতুন কমিটি বাতিলের দাবি জানান।

জানা যায়, গত শনিবার (২ মে) রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার ৫ সদস্যের একটি আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এর পরপরই একাংশের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। এর আগে গত বছরের ১৫ মে ঘোষিত কমিটি ২০ দিনের মাথায় স্থগিত করা হয়েছিল। দীর্ঘ বিরতির পর নতুন করে কমিটি ঘোষণা করা হলে আগের কমিটির সাধারণ সম্পাদক রেদোয়ানুর রহমান ওয়াকিউরকে বাদ দেওয়া হয়, যা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, প্রতিমন্ত্রী কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি শরীফুল আলমের প্রভাবেই ওয়াকিউরকে বাদ দিয়ে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে তার অনুসারীরা রাস্তায় নামেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের উপেক্ষা করে সুবিধাবাদীদের নেতৃত্বে আনা হয়েছে। পূর্বে ঘোষিত কমিটি অল্প সময়ের মধ্যে স্থগিত ও দীর্ঘ সময় পর নতুন কমিটি গঠন, সব মিলিয়ে বিষয়টি ‘ষড়যন্ত্রমূলক’ ও একটি বিশেষ গোষ্ঠীর প্রভাবের ফল। তাদের দাবি, যারা রাজপথে সক্রিয় ছিলেন না কিংবা ভিন্ন রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ছিল, তাদেরই গুরুত্বপূর্ণ পদে আনা হয়েছে।

সমাবেশ থেকে অবিলম্বে এই কমিটি বাতিল করে যোগ্য ও ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়নের দাবি জানানো হয়। অন্যথায় আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন বিক্ষোভকারীরা।

গুরুদয়াল সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক রিয়াদ আহমেদ বলেন, ৫ আগস্টের পর জেলা ছাত্রদলের পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি হয়। এই কমিটি অনুমোদিত হওয়ার পর ১৯ দিনের মাথায় আবার কমিটির স্থগিত করা হয়। ১১ মাস পর আমাদের নেতাদের রেদোয়ানুর রহমান ওয়াকিউরকে বঞ্চিত করে, ষড়যন্ত্র করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে যে কমিটি করা হয়েছে তাতে আমাদের নেতাকে কেন বঞ্চিত হলো সেটা জানতে চাই।

তিনি আরও বলেন, ‘মিস্টার শরিফুল আলম (পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী এবং জেলা বিএনপির সভাপতি মো. শরিফুল আলম), আপনি মনে রাখবেন, রাজনীতির ইতিহাসে শেষ বলতে কোনো কথা নেই। কিশোরগঞ্জের আপামর জনতা ও ছাত্রজনতা মিস্টার শরিফুল আলম, পচা আলমকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করলাম। আমরা রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে আমাদের দাবি আদায় করব।’

জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি হুমায়ুন কবির অমি বলেন, ‘জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন আরাফাত রাতুল, গুরুদয়াল সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক রিয়াদ আহমেদ, গুরুদয়াল কলেজ ছাত্রদল যুগ্ম-আহ্বায়ক সানি আহমেদ খান, পৌর ছাত্রদের যুগ্ম-আহ্বায়ক মোহাম্মদ পাভেল হাসানসহ নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন।’

এসকে রাসেল/এমএন/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।