সুনামগঞ্জে বাস-সিএনজি সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৫, একই পরিবারের তিনজন
সুনামগঞ্জে যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে আহত আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৫ জনে। এর মধ্যে একই পরিবারের সদস্য রয়েছেন তিনজন।
সোমবার (৪ মে) দুপুরে সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের ছাতক উপজেলার জালালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- তাহিরপুর উপজেলার তিওর জালাল গ্রামের ইউসুফ আলী, ইউসুফ আলীর দুই মেয়ে নিলুফা আক্তার (৩০), কেয়া মনি (১৭) ও ভাতিজী জামাই একই উপজেলার বিন্নাকুলি গ্রামের মো. শাহাব উদ্দিন। তবে নিহত সিএনজি চালকের পরিচয় জানা যায়নি।
হাইওয়ে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার দুপুরে সিলেটে থেকে যাত্রী নিয়ে সুনামগঞ্জের দিকে আসছিল রিফাত পরিবহন। এসময় সুনামগঞ্জ থেকে সিএনজি ইন্নী পরিবহন-১ করে সিলেটে যাচ্ছিলেন ইউসুফ আলী, তার দুই মেয়ে ও ভাতিজী জামাই। পথে ছাতক উপজেলার জালালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে হঠাৎ করে রিফাত পরিবহনের বাসটি লেন পরিবর্তন করে বাম দিকে থেকে ডান দিকে চলে যায় ও সিএনজিকে জোরে ধাক্কা দেয়। এতে সিএনজিটি দুমড়ে মুচড়ে গিয়ে অনেক দূরে গিয়ে ছিটকে পড়ে। বাসটিও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের ডান দিকের খাদে পড়ে উল্টে যায়। ঘটনার পরপরই বাসের চালক পালিয়ে যায়।
বাসের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই মারা যান সিএনজির চালক ও ইউসুফ আলী। এসময় ইউসুফ আলীর দুই মেয়ে নিলুফা আক্তার, কেয়া মনি ও ভাতিজি জামাই মো. শাহাব উদ্দিন গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
তাহিরপুর উপজেলার বালীজুরি ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলী নেওয়াজ বলেন, বাস-সিএনজি সংঘর্ষে তাহিরপুরের একই পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে এলাকায় শোকেয় ছায়া নেমে এসেছে।
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সুজন সরকার বলেন, ছাতকের জালালপুর এলাকায় বাস-সিএনজি দুর্ঘটনায় সিএনজি চালকসহ ৫ জন নিহত হয়েছেন। দুই জনের মরদেহ সুনামগঞ্জে আছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লিপসন আহমেদ/এমএন/এএসএম