নারায়ণগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অটোরিকশা সাইট না দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় রূপগঞ্জ থানায় মামলার দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে আহত রিপন মিয়া বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ২১ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
সোমবার (১১ মে) দুপুরে উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের বরুনা এলাকায় অটোরিকশা সাইট দেওয়া নিয়ে দ্বন্দ্বের ঘটনার সালিশি বৈঠক হয়। সেখানে স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় উভয়পক্ষ গোলাগুলিতে জড়িয়ে পড়ে। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম সালাউদ্দিন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৬ সালের ২মে বরুনা পশ্চিমপাড়া এলাকায় অটোরিকশা থামিয়ে মামলার বাদী রিপন মিয়ার চাচাতো ভাই আলাল খাঁ-কে মারধর করে প্রতিপক্ষ শরিফ ও তার সহযোগীরা। এই বিরোধ মীমাংসার লক্ষ্যে গত ১১ মে বেলা ১১টার দিকে বরুনা মধ্যপাড়া জামে মসজিদে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একটি সালিশি বৈঠক বসে।
ওই বৈঠক চলাকালীন অভিযুক্ত শরিফ (৩২), সজিব (২৪), বিপন (৪২) ও রাজিবের (২৮) নেতৃত্বে ২০-২১ জন নামধারী এবং আরও ১৫-২০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা পিস্তল, রামদা, ছেন ও লোহার রড নিয়ে হামলা চালায়। তারা উপস্থিত ব্যক্তিদের ওপর আক্রমণ করে এবং এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পিস্তল দিয়ে এলোপাতালি গুলি বর্ষণ করে। হামলাকারীরা কায়েতপাড়া ইউনিয়নের বিএনপির একটি ক্লাব ভাঙচুর করে প্রায় ১ লাখ টাকার ক্ষতি করে। পরবর্তীতে তারা বরুনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে জয়নাল আবেদীন ও নবীর হোসেনের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। হামলাকারীরা ঘরের আলমারি ভেঙে নগদ ১ লাখ টাকা এবং ১ ভরি স্বর্ণালঙ্কার যার আনুমানিক মূল্য ২ লাখ টাকা লুটে নেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
হামলায় বাদীর ছোট ভাই মোমেন (২৮) গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় কোপ দেওয়া হলে তিনি হাত দিয়ে ঠেকানোর চেষ্টা করেন, ফলে তার বাম হাতের কনুইয়ের নিচে এবং ডান পায়ের উরুতে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়। এছাড়া আমানত খাঁ ও বেলাল হোসেনসহ আরও কয়েকজন আহত হন। আহতদের প্রথমে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকরা তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
মামলার বাদী রিপন খান বলেন, হামলাকারীরা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। তারা প্রকাশ্যে গুলি করেছে। আমরা বর্তমানে জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম সালাউদ্দিন বলেন, অটোরিকশা সাইট না দেওয়াকে কেন্দ্র করে সালিশি বৈঠকের এক পর্যায়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় ২১ জন নামীয়সহ ১০ থেকে ১৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে রূপগঞ্জ থানায় একটি মামলার দায়ের করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
নাজমুল হুদা/এনএইচআর/এমএস