প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষার ফল কবে, যা বললো অধিদপ্তর
আইনি জটিলতার কয়েক দফায় পিছিয়ে গত ১৫-১৮ এপ্রিল পঞ্চম শ্রেণি শেষ করা শিক্ষার্থীদের ‘প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা’ নেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের চারমাস পর অনুষ্ঠিত এ বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করার কথা ছিল মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে। তবে তা সম্ভব হচ্ছে না। এতে ফল পেতে অপেক্ষা বাড়ছে সাড়ে ছয় লাখ শিক্ষার্থীর।
জানা যায়, গত ১৫ এপ্রিল বাংলা বিষয়ের পরীক্ষার মধ্যদিয়ে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা শুরু হয়। ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় এবং প্রাথমিক বিজ্ঞান পরীক্ষা দিয়ে শেষ হয়। এ বছর মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৬ লাখ ৪০ হাজারের কিছু বেশি। তার মধ্যে সাড়ে পাঁচ লাখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এবং ৯০ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (কিন্ডারগার্টেন)।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, খাতা মূল্যায়নসহ সার্বিক কাজে দেরি হওয়ায় এখনো ফল প্রস্তুত করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে ঠিক কবে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে, তা জানানো যাচ্ছে না। তবে ঈদুল আজহার আগে অধিদপ্তর থেকে ফল প্রকাশের চেষ্টা করা হচ্ছে।
জানতে চাইলে অধিদপ্তরের প্রশাসন বিভাগের উপ-পরিচালক (সংস্থাপন) এ এস এম সিরাজুদ্দোহা জাগো নিউজকে বলেন, ‘ফল প্রকাশের একটি লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছিল। তবে খাতা মূল্যায়নসহ অনেক কাজ এখনো বাকি। সেজন্য মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে ফল প্রকাশ সম্ভব হবে না। কবে ফল হবে, সেটা বলাও মুশকিল।’
ঈদুল আজহার আগে ফল প্রকাশ সম্ভব কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘হয়তো ঈদের ছুটির আগে হতে পারে। খাতা মূল্যায়ন, ফল তৈরির কাজগুলো সময়সাপেক্ষ। পরীক্ষার্থীও অনেক, সেজন্য বিষয়টি টাফ (কষ্টসাধ্য)...তারপরও অধিদপ্তরের কর্তৃপক্ষ চেষ্টা করছে। হয়তো ঈদের ছুটির আগে এ ফল প্রকাশ করা হতে পারে।’
বৃত্তি পাবে কতজন
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এবার মোট বৃত্তির সংখ্যা ৮২ হাজার ৫০০টি। অর্থাৎ, মেধাক্রম ও জেলা-উপজেলাভিত্তিক হিসাবে এ সংখ্যক শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়া হবে। এরমধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বৃত্তির সংখ্যা ৬৬ হাজার ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৬ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়া হবে।
অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর হিসাব অনুযায়ী- বৃত্তির অনুপাত হবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রের ৮ঃ১ (প্রতি ৮ জনে একজন) এবং বেসরকারির ক্ষেত্রে ৫.৫ঃ১ (প্রতি সাড়ে ৫ জনে একজন)।
কারা কত টাকা পাবে, কতদিন পাবে
শিক্ষার্থীদের দুই ধরনের বৃত্তি দেওয়া হবে। ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পাবে ৩৩ হাজার শিক্ষার্থী। আর সাধারণ বৃত্তি পাবে ৪৯ হাজার ৫০০ জন। বর্তমান বৃত্তির হার অনুযায়ী- ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্তরা মাসে ৩০০ টাকা এবং বার্ষিক এককালীন ২২৫ টাকা পাবে।
অন্যদিকে সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্তরা মাসিক ২২৫ টাকা ও বার্ষিক এককালীন ২২৫ টাকা পাবে। বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা পঞ্চম শ্রেণি থেকে উত্তীর্ণ হওয়ার পর পরবর্তী দুই বছর এ আর্থিক সুবিধা পাবে।
এদিকে, প্রাথমিক বৃত্তির টাকা দ্বিগুণ থেকে চার গুণ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন হলে বাড়তি হারে বৃত্তির টাকা পাবে শিক্ষার্থীরা। এটি আগামী ২০২৬ সালের বৃত্তি পরীক্ষার্থীদের (যারা আগামীবার পরীক্ষা দেবে) ক্ষেত্রে কার্যকর হতে পারে।
এএএইচ/জেএইচ