গরুর হাটে লোক দেখছে বেশি কিনছে কম
আসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষে উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহত্তর পাবনার ঈশ্বরদীর অরণকোলা পশুর হাটে বিপুল সংখ্যক গরু উঠলেও ক্রেতা তেমন নেই। গরু দেখাদেখি ও দরকষাকষি হলেও বেচাকেনা কম। বেচাকেনা কম হলেও হাটে লোক সমাগম থাকছে চোখে পড়ার মতো। হাটে গরু দেখার লোক বেশি কেনার লোক কম।
এছাড়া গরুর দাম নিয়েও ক্রেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বেশিরভাগ ক্রেতার অভিযোগ, গত বছরের তুলনায় এবার গরুর দাম কিছুটা বেশি। তবে কিছু ক্রেতা বলেছেন দাম গতবারের তুলনায় খুব বেশি নয়।
অপরদিকে বিক্রেতারা বলছেন, গত বছরের তুলনায় পশুখাদ্যসহ সব জিনিসপত্রের দাম দ্বিগুণ। সে অনুযায়ী গরুর দাম দাম বাড়েনি।
ঈশ্বরদী উপজেলায় মোট ৪টি পশুর হাট রয়েছে। এরমধ্যে অরণকোলা ও আওতাপাড়া পশুর হাট স্থায়ী হাট। এছাড়া নতুন হাট ও মুলাডুলি ছাগলের হাট অস্থায়ী। প্রতি সপ্তাহের মঙ্গলবার অরণকোলা এবং রোববার ও বুধবার আওতাপাড়া হাট হয়।
অরণকোলা পশুর হাটে গিয়ে দেখা যায়, দূর-দূরান্ত থেকে ট্রাক, ভটভটি ও ট্রলিতে শত শত গরু আসছে হাটে। বিভিন্ন আকারের পর্যাপ্ত গরু হাটে সমাগম হয়েছে। ক্রেতারা পছন্দের গরু দেখে দরদাম করছেন। ক্রেতা-বিক্রেতাদের দরকষাকষিতে প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে হাটের পরিবেশ।

ঈশ্বরদী উপজেলার মুলাডুলি গ্রামের সাঈদ হোসেন অরণকোলা হাটে গরু বিক্রি করতে এসেছেন। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, হাটে গরু কেনার লোক কম। সবাই ঘুরে ঘুরে গরু দেখছে। কিন্তু বেচাকেনা নাই। ঈদের আগে আরও দুইটি হাট আছে। সেই হাটগুলোতে বেচাকেনা বাড়বে বলে আশা করা যাচ্ছে।
পাবনা সদর উপজেলার দাপুনিয়া গ্রাম থেকে অরণকোলা হাটে ৩০টি গরু নিয়ে এসেছেন ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, হাটে গরু দেখার লোক রয়েছে, কিন্তু কেনার লোক নাই। এখনো পর্যন্ত আমার একটি গরুও বিক্রি হয়নি। গরুর দামও তুলনামূলক কম।
উপজেলার অরণকোলা গ্রামের আতিয়ার রহমান ৮টি গরু নিয়ে হাটে এসেছেন। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, গতবারের তুলনায় এবার গরুর দাম অনেকটা কম। ক্রেতাদের সঙ্গে দরদাম চলছে। কোরবানির গরু কেনার লোক আজ খুব কম।
পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার একদন্ত এলাকা থেকে হাটে গরু কিনতে আসা বাবু সরদার জাগো নিউজকে বলেন, এবার গরুর দাম কিছুটা বেশি মনে হচ্ছে। ঈদের আগে আরও দুটি হাট আছে। এরমধ্যে দেখে শুনে গরু কিনবো।
গরু কিনতে আসা ঈশ্বরদী উপজেলার জয়নগর গ্রামের ইছাহক আলী বলেন, হাট ঘুরে দেখলাম। গতবারের তুলনায় এবার গরুর দাম কমই মনে হচ্ছে। আজ আরও হাটে ঘুরে দেখবো, না হলে আগামী হাটে আবার আসবো।

পাবনা সদর উপজেলার মালিঞ্চ ইউনিয়নের বাদশা প্রামানিক অরণকোলা হাটে এসে গরু কিনেছেন। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, এক লাখ ১৫ হাজার টাকা দিয়ে গরু কিনেছি। অন্য বছরের তুলনায় এবার গরুর দাম কিছুটা কম মনে হচ্ছে।
অরণকোলা পশুর হাটের ইজারাদার মিজানুর রহমান রুনু মণ্ডল বলেন, হাটে গরু কেনার চেয়ে দেখতে আসা মানুষের সংখ্যাই বেশি। হাটে পর্যাপ্ত গরু-মহিষ উঠেছে। হাটভর্তি মানুষও রয়েছে, কিন্তু বেচাকেনা তেমন হয়নি। ঈদের আগে আরও দুইটি হাট আছে। আশা করি ওই দুই হাটে বেচাকেনা ভালো হতে পারে।
ঈশ্বরদী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আকলিমা খাতুন বলেন, এ উপজেলায় মোট ৪টি পশুর হাট রয়েছে। এরমধ্যে অরণকোলা ও আওতাপাড়া পশুর হাট স্থায়ী হাট। নতুন হাট ও মুলাডুলি ছাগলের হাট অস্থায়ী। এ চারটি হাটের জন্য দুইটি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি টিমে ১০ জন সদস্য রয়েছেন। সদস্যরা পালাক্রমে হাটের দিন সারাদিন সেখানে অবস্থান করবেন। হাটে কোনো গরু-ছাগল অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের চিকিৎসা প্রদান করবেন।
ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এডিশনাল এসপি) প্রণব কুমার জাগো নিউজকে বলেন, ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে ঈশ্বরদী উপজেলার পশুর হাটগুলোর নিরাপত্তার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। হাটে পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও পুলিশও থাকবে। হাটের ভেতর যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সে ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবো। হাটে যেন জাল টাকার বিস্তার না ঘটে, এজন্য পুলিশের পক্ষ থেকে জাল টাকা শনাক্তের মেশিন বসানো হবে। পশু পরিবহনে রাস্তাঘাটে যেন চাঁদাবাজির শিকার না হয় সে ব্যাপারেও পুলিশ সতর্ক থাকবে।
শেখ মহসীন/এফএ/এমএস