সিভিল সার্জন পদ শূন্য, ময়মনসিংহে বদলি-তদন্তের হিড়িক

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ময়মনসিংহ
প্রকাশিত: ০৫:৩৪ পিএম, ১৮ মে ২০২৬
ময়মনসিংহ সিভিল সার্জনের কার্যালয়/ছবি-জাগো নিউজ

দীর্ঘ আট মাস ধরে শূন্য পড়ে আছে ময়মনসিংহ জেলার সিভিল সার্জনের পদ। এতে জেলার স্বাস্থ্য বিভাগে প্রশাসনিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বদলি-তদন্ত নিয়ে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের অক্টোবরে তৎকালীন সিভিল সার্জন ডা. ছাইফুল ইসলাম খানকে বদলি করা হলে ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. ফয়সাল আহমেদকে ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জনের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর থেকেই স্বাস্থ্য বিভাগে একের পর এক বদলি, তদন্ত ও অভ্যন্তরীণ বিরোধ বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের একাধিক কর্মচারী ও জেলার বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরতরা জানান, গত আট মাসে অন্তত ৩২ জন কর্মচারীকে বদলি করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন অভিযোগে অন্তত পাঁচজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে তদন্ত করা হয়েছে। তবে তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মেলেনি বলে দাবি তাদের।

অভিযোগ রয়েছে, অফিসের ক্যাশিয়ার ইমরান মেহেদী হাসান তার বিরোধিতাকারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে তদন্তের ব্যবস্থা করছেন। এ নিয়ে কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভও তৈরি হয়েছে।

সিভিল সার্জনের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) মো. সুলতান উদ্দিন বলেন, ‌‘আমার বিরুদ্ধেও দুটি অভিযোগে তদন্ত হয়েছে। একটিতে আমি নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছি। অপরটির প্রতিবেদন এখনো পাইনি।’

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সুলতান উদ্দিনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে তাকে একটি ক্লিনিকে টাকা নিতে দেখা যায়। ভিডিও প্রচারকারীদের দাবি, সিভিল সার্জনের নাম ব্যবহার করে অবৈধভাবে টাকা নেওয়া হচ্ছিল। তবে সুলতান উদ্দিন দাবি করেন, এটি তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। ক্যাশিয়ার ইমরান মেহেদী হাসান পরিকল্পিতভাবে ভিডিওটি ছড়িয়েছেন।

ক্যাশিয়ার ইমরান মেহেদীকে ঘিরেও রয়েছে নানা বিতর্ক। কর্মচারীদের অভিযোগ, দুর্নীতির অভিযোগে ২০২২ সালে তাকে ময়মনসিংহ থেকে মাগুরায় বদলি করা হয়। পরে প্রতারণার মামলায় র‌্যাবের হাতে আটক হয়ে তিনি কারাগারেও ছিলেন। এরপর ২০২৫ সালের আগস্টে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে আবার ময়মনসিংহে বদলির আদেশ পান। তবে তৎকালীন সিভিল সার্জন তাকে যোগদান করতে দেননি। পরে ডা. ফয়সাল আহমেদ ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পাওয়ার দিনই তাকে যোগদান করানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

কর্মচারীদের অভিযোগ, সম্প্রতি একটি মারামারির ঘটনায় করা মামলায় ইমরানকে প্রধান আসামি করা হয়। এরপর থেকে তিনি দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। অথচ তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘ইমরান মেহেদীর বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে। বিষয়টি তার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. ফয়সাল আহমেদ। তিনি বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আমাকে দায়িত্ব দিয়েছে। কর্তৃপক্ষ চাইলে আমি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াবো।’

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ময়মনসিংহ মহানগর শাখার সম্পাদক আলী ইউসুফ জাগো নিউজকে বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলমান কাদা ছোড়াছুড়ি স্বাস্থ্য বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। দ্রুত একজন স্থায়ী সিভিল সার্জন নিয়োগ এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ বিভাগীয় পরিচালক ডা. প্রদীপ কুমার সাহা জাগো নিউজকে বলেন, ‘ময়মনসিংহের সিভিল সার্জনের পদটি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। নতুন সিভিল সার্জন নিয়োগের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।’

এসআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।