ফেনীতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে দানবীয় গরু ‘মকা’

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফেনী
প্রকাশিত: ০৫:৫১ পিএম, ১৮ মে ২০২৬

ফেনী কোরবানির হাটকে কেন্দ্র করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে ছাগলনাইয়ার উপজেলার বিশাল আকৃতির গরু ‘মকা’। প্রায় ৩০ মণ ওজনের এই ফ্রিজিয়ান জাতের গরুটি ইতোমধ্যে এলাকায় ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে। গরুটি দেখতে প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করছেন।

জানা গেছে, ছাগলনাইয়ার বাবুল চৌধুরীর জাহান এগ্রো ফার্মের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এখন এই বিশালাকৃতির গরুটি।

খামার সূত্র জানায়, সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও পুষ্টিকর খাবার দিয়েই গরুটি বড় করা হয়েছে। ‘মকা’ প্রতিদিন দুই বেলা প্রায় ১২ থেকে ১৮ কেজি ভুসি খায়। সঙ্গে থাকে খামারির নিজের জমির নেপিয়ার ঘাস, চাল, ছোলা আর খৈল। এই বিশেষ যত্নেই অল্প সময়ে এমন দানবীয় ওজন হয়েছে তার।

খামারের মালিক বাবুল চৌধুরী বলেন, মকা আমার খামারে জন্মানো একটা গরু। চার বছর ধরে এই খামারেই লালন পালন করা হয়েছে। ঘাস খেয়ে বড় হয়েছে গরুটি।

তিনি আরও বলেন, আমার ছেলে শখ করে ‘মকা’ গরুটি বড় করেছে। আমাদের বেশি লাভের দরকার নেই, শুধু একটা ভালো দাম পেলেই খুশি।

এদিকে গরুটির আশ্চর্যজনক নাম শুনেই দেখতে যাচ্ছেন দর্শনার্থীরা। খামারির শখের এই গরুটি এখন আলোচনার কেন্দ্রে। প্রতিদিন মানুষ ভিড় করছেন মকাকে একনজর দেখতে।

কলেজ শিক্ষার্থী ফারহান মাহতাব বলেন, শখের বসে দেখতে এসেছি। এসে আজব গরু দেখলাম। নামটাও আজব। এত বড় গরু আমি আর দেখিনি।

মকাকে দেখতে যাওয়া আরেক দর্শনার্থী তোফায়েল আহাম্মদ বলেন, এত বড় গরু আমি আর দেখিনি। আমার মনে হয় এটি ফেনী জেলার মধ্যে বড় গরু। ফেনীর এই ‘মকা’ কত দামে বিক্রি হয়, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।

এদিকে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ফেনীতে কোরবানির জন্য ৯০ হাজার ৪৫২টি পশু প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলায় চাহিদার তুলনায় এবার ৭ হাজার ৯২৭টি পশু বেশি রয়েছে। ঈদ সামনে রেখে ইতোমধ্যে পশুর পরিচর্যা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন ৫ হাজারের বেশি খামারি। এছাড়া অনেক মৌসুমি বিক্রেতাও খুচরা বিক্রির উদ্দেশ্যে পশু সংগ্রহ করেছেন। অন্যদিকে ১২৯টি পশুর হাটের নিরাপত্তায় ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, এবার কোরবানির জন্য ফেনীর ছয়টি উপজেলায় গবাদী পশুর চাহিদা রয়েছে ৮২ হাজার ৫২৫টি। এরমধ্যে ৯০ হাজার ৪৫২টি পশু প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যা চাহিদার তুলনায় ৭ হাজার ৯২৭টি বেশি। জেলায় গরু রয়েছে ৭১ হাজার ৫৬৯টি, ছাগল ১৩ হাজার ২২৯টি, মহিষ ১ হাজার ৭৩৫টি ও ভেড়া ৩ হাজার ৯১৯টি। গবাদিপশুর সংখ্যায় উপজেলাভিত্তিক এগিয়ে ছাগলনাইয়া। পশুর সংখ্যা ২৪ হাজার ৩৬০টি।

এরপর রয়েছে ফেনী সদর উপজেলা, এখানে গবাদিপশু রয়েছে ২২ হাজার ৪১৫টি। এছাড়া সোনাগাজী উপজেলায় ১৮ হাজার ৩৭৫টি, দাগনভ‚ঞা উপজেলায় ৮ হাজার ৮৭৫টি। পরশুরাম উপজেলায় ৮ হাজার ৩৭৮টি ও ফুলগাজী উপজেলায় ৮ হাজার ৪৯টি পশু প্রস্তুত রয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানায়, জেলার ৬ উপজেলায় এবার স্থায়ী ও অস্থায়ীভাবে বসছে ১২৯টি হাট। এরমধ্যে অস্থায়ী হাট ১১৪টি ও স্থায়ী হাট রয়েছে ১৫টি। অস্থায়ী হাটের মধ্যে ফেনী সদর ও পৌরসভায় বসছে ৪২টি। ছাগলনাইয়া উপজেলা ও পৌরসভায় ১৫টি। ফুলগাজী উপজেলায় ৭টি। পরশুরাম উপজেলায় ৮টি। দাগনভূঞা উপজেলা ও পৌরসভায় ১৯টি এবং সোনাগাজী উপজেলায় ২১টি পশুর হাট ইজারা দেওয়া হয়েছে।

পাঠানবাড়ি এলাকার হাসিনা এগ্রোর সত্ত্বাধিকারী মো. আরাফাত খান জানান, এবারও ভালো লাভের আশাবাদী তিনি। প্রতিটি ছোট-বড় গরুর পিছনে খরচ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

তার দাবি, খাদ্যের দাম বৃদ্ধিতে খরচও বেড়েছে। ছোট গরুর পিছনে ২০ হাজার এবং বড় গরুর পেছনে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ বেড়েছে।

ফেনী সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, ফেনীতে খামারে আগ্রহীর সংখ্যা বাড়ছে। এখানে বিনিয়োগ লাভজনক ও নিরাপদ হওয়ায় অনেক নতুন উদ্যোক্তা গবাদিপশুর খামার গড়ে তুলছেন। এছাড়া অন্য জেলার থেকে এখানে দুধের দাম বেশি হওয়ায় গরু পালন বেশি লাভজনক।

ফেনী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. দেলোয়ার হোসেন বলেন, জেলার ৫ হাজার ৪০৭টি খামারে এখন চলছে শেষ মুহূর্তের পরিচর্যা ও বিক্রির প্রস্তুতি। খামারিরা সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গরুর পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। এবার ভালো লাভ করার আশাবাদী তারা। জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে ৩৭টি মেডিকেল টিম খামার ও পশুর হাটের তদারকিতে রয়েছেন।

ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মু. সাইফুল ইসলাম জানান, পশুর হাটের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে। জাল টাকা শনাক্তে ব্যাংকের সহযোগীতায় বিভিন্ন পশুরহাটে মেশিন বসানো হবে।

বিজিবি ফেনী ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল এম.এম জিল্লুর রহমান বলেন, অবৈধভাবে গরু প্রবেশ ঠেকাতে ও কোরবানির পশুর চামড়া পাচার রোধকল্পে সীমান্ত এলাকায় পাহারা জোরদার করা হয়েছে।

ফেনী জেলা প্রশাসক মনিরা হক বলেন, ঈদুল আজহার কোরবানির পশুরহাট কোনোভাবেই সড়ক-মহাসড়কের ওপর বসানো যাবে না। এছাড়া বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পশু বিক্রেতাদের নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাজারে জাল টাকার ব্যবহার রোধকল্পে তফশিলভুক্ত ব্যাংক সমূহের সহযোগিতা নিয়ে পর্যাপ্ত মেশিন রাখা হবে। ইতোমধ্যে ঈদুল আজহার কোরবানির পশুরহাটের সার্বিক প্রসূতি পুরোদমে চলছে।

আবদুল্লাহ আল-মামুন/এনএইচআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।