বীরশ্রেষ্ঠের নামে জাদুঘরে নেই মুক্তিযুদ্ধের কোনো স্মৃতিচিহ্ন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ঝিনাইদহ
প্রকাশিত: ০৬:৪৭ পিএম, ১৮ মে ২০২৬
বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর/ছবি-জাগো নিউজ

বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘরে দিন দিন কমছে দর্শনার্থী ও পাঠক। ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার খোর্দখালিশপুর গ্রামে প্রতিষ্ঠিত জাদুঘরে নেই মহান মুক্তিযুদ্ধের কোনো স্মৃতিচিহ্ন। ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠা হওয়ার পরও জাদুঘরের পরিসর বাড়েনি। গ্রন্থাগারে বাড়েনি নিয়মিত পাঠকের সংখ্যা।

গুরুত্বপূর্ণ এ স্থাপনাটির রক্ষণাবেক্ষণেও রয়েছে ঘাটতি। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় চালু থাকার কথা থাকলেও বেশিরভাগ সময়ই বন্ধ থাকে জাদুঘর ও গ্রন্থাগার কমপ্লেক্স। এতে কমছে নিয়মিত পাঠক ও দর্শনার্থী।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, মহেশপুরের খালিশপুর বাজারের পাশে খোর্দ খালিশপুর গ্রামে সরকারি বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ হামিদুর রহমান ডিগ্রি কলেজ ক্যাম্পাসে রয়েছে স্মৃতি জাদুঘর ও গ্রন্থাগার। বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমানের জন্মভিটা হওয়ায় ২০০৮ সালে কলেজ ক্যাম্পাসে স্মৃতি জাদুঘর ও গ্রন্থাগার নির্মাণ করা হয়। সেইসঙ্গে খোর্দ খালিশপুর গ্রামের নামকরণ করা হয় ‘হামিদনগর’।

বীরশ্রেষ্ঠের নামে জাদুঘরে নেই মুক্তিযুদ্ধের কোনো স্মৃতিচিহ্ন

সরকারি বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ হামিদুর রহমান ডিগ্রি কলেজে প্রধান ফটকের উত্তর পাশে রয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের মায়ের কবর। পাশেই দোচালা নামাজের ঘর। স্মৃতি জাদুঘর ও গ্রন্থাগার কমপ্লেক্স চত্বরের দেওয়ালের রঙ কোথাও কোথাও বিবর্ণ হয়ে গেছে। সংস্কার না হওয়ায় ধূসর হয়ে গেছে স্মৃতি জাদুঘর ও গ্রন্থাগারের মূল নামফলক।

‘বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমানের স্মৃতি ধরে রাখতে জাদুঘর নির্মাণ করা হলেও সেখানে নেই মুক্তিযুদ্ধের কোনো নিদর্শন। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিভিন্ন ধরনের বই, সাময়িকী ও পত্র-পত্রিকার সংবাদের অংশবিশেষ, মুক্তিযুদ্ধকালীন বিভিন্ন ধরনের স্থিরচিত্র রয়েছে জাদুঘরে। স্মৃতি জাদুঘরের বারান্দায় রয়েছে হামিদুর রহমানের একটি ম্যুরাল। এছাড়া উল্লেখযোগ্য কোনো স্মৃতি নিদর্শন নেই জাদুঘরটিতে’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গ্রন্থাগার ও জাদুঘর পরিচালনার জন্য গ্রন্থাগারিক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাতিজা মোস্তাফিজুর রহমান। তবে তার নিয়োগ এখনো স্থায়ী হয়নি। প্রতিষ্ঠানটি রক্ষণাবেক্ষণের কাজে চুক্তিভিত্তিক নিয়োজিত রয়েছেন মুকুল জোয়ার্দ্দার নামের একজন। স্থানীয় সরকার বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে জেলা পরিষদের মাধ্যমে এ দুজনের মাসিক বেতন দেওয়া হয়।

গ্রন্থাগারিক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, প্রতিষ্ঠার পর লাইব্রেরিতে পাঁচ হাজারের বেশি বই দেয় তৎকালীন সরকার। এরপর আর নতুন কোনো বইপত্র আসেনি। প্রতিদিন এখানে দুটো জাতীয় পত্রিকা রাখা হয়। দর্শনার্থী আগের মতো আসে না। যারা আসেন তারা ঘুরেফিরে দুই-একটি বই হাতে নেড়েচেড়ে চলে যান। স্থানীয় কিছু লোকজন লাইব্রেরিতে এসে পত্রিকা পড়েন।

বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমানের স্মৃতি ধরে রাখতে জাদুঘর নির্মাণ করা হলেও সেখানে নেই মুক্তিযুদ্ধের কোনো নিদর্শন। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিভিন্ন ধরনের বই, সাময়িকী ও পত্র-পত্রিকার সংবাদের অংশবিশেষ, মুক্তিযুদ্ধকালীন বিভিন্ন ধরনের স্থিরচিত্র রয়েছে জাদুঘরে। স্মৃতি জাদুঘরের বারান্দায় রয়েছে হামিদুর রহমানের একটি ম্যুরাল। এছাড়া উল্লেখযোগ্য কোনো স্মৃতি নিদর্শন নেই জাদুঘরটিতে।

সরকারি বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ হামিদুর রহমান ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী সানজিদা ও অন্তরা খাতুন জাগো নিউজকে বলেন, ‘গ্রন্থাগারে নতুন কোনো বই নেই। সবই পুরোনো বইপত্র। পত্রিকা পড়ার জন্য লাইব্রেরিতে যাই। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি নিয়ে লেখা বইগুলো মাঝে মাঝে পড়ি। এখানে এলে ভালো লাগে।’

‘স্মৃতি জাদুঘর ও লাইব্রেরি নিয়ে প্রচারণা কম। অনেক মানুষ জানেই না এখানে এত সুন্দর একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কলেজের শিক্ষার্থীরা ছাড়া বাইরের দর্শনার্থী খুব বেশি আসে না। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিদিন বিকেল ৫টা পর্যন্ত লাইব্রেরি খোলা রাখার কথা থাকলেও আড়াইটা তিনটার পরে বন্ধ হয়ে যায়’—স্থানীয় বাসিন্দা

স্থানীয় নজরুল ইসলাম বলেন, ‘স্মৃতি জাদুঘর ও লাইব্রেরি নিয়ে প্রচারণা কম। অনেক মানুষ জানেই না এখানে এত সুন্দর একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কলেজের শিক্ষার্থীরা ছাড়া বাইরের দর্শনার্থী খুব বেশি আসে না। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিদিন বিকেল ৫টা পর্যন্ত লাইব্রেরি খোলা রাখার কথা থাকলেও আড়াইটা তিনটার পরে বন্ধ হয়ে যায়।’

বীরশ্রেষ্ঠের নামে জাদুঘরে নেই মুক্তিযুদ্ধের কোনো স্মৃতিচিহ্ন

এ বিষয়ে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজা জাগো নিউজকে বলেন, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর ও গ্রন্থাগার জেলার ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের বীরত্বগাঁথা, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বের গল্প জানার জন্য স্মৃতি জাদুঘরটি অত্যন্ত সহায়ক। নিয়মিত দর্শনার্থী আসে বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটিতে স্থায়ী কোনো জনবল নিয়োগ না থাকায় জেলা পরিষদ থেকে চুক্তিভিত্তিক দুজনকে বেতন দেওয়া হয়। যারা কাজ করছেন, তারা নিয়মিত বেতন ভাতা পাচ্ছেন।’

এম শাহাজান/এসআর/এএইচ/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।