গাইবান্ধায় ঝড়ে লন্ডভন্ড বাড়িঘর, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন লক্ষাধিক পরিবার
গাইবান্ধায় কালবৈশাখীতে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে অসংখ্য বাড়িঘর, গাছপালা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। ভেঙে গেছে ও হেলে পড়েছে বৈদ্যুতিক খুঁটি। এতে রাত থেকেই বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন লক্ষাধিক পরিবার।
সোমবার (১৮ মে) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সুন্দরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আব্দুল বারী। এর আগে রোববার (১৭ মে) দিনগত গভীর রাতের ঝড়ে এই ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে।
পল্লী বিদ্যুতের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আব্দুল বারী বলেন, ‘গত রাতের ঝড়ে হাসপাতাল ও উপজেলা পরিষদসহ অন্যান্য এলাকায় ১২টি খুঁটি ভেঙে পড়েছে। হেলে পড়েছে চারটি খুঁটি। অন্তত ২০-৩০টি স্পটে তার ছিঁড়ে পড়েছে। বহু মিটার ভেঙে গেছে। ফলে আমরা মেইন লাইন চালু করতে পারিনি। আমাদের ৮০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি। আমরা কয়েকটি টিমে ৪৫ জন লোক কাজ করছি। দ্রুত সংযোগ চালুর জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রোববার দিনগত রাত আড়াইটার দিকে শুরু হওয়া প্রবল ঝড়ে উপজেলার পৌরশহরের মীররগঞ্জ, দহবন্দ ইউনিয়নের উত্তর ধুমাইটারি, দক্ষিণ ধুমাইটারি, হুড়াভায়া ও গোপালচরণসহ আশপাশের এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ে সড়কে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
পৌরশহরের মীরগঞ্জ বাজারের একটি বটগাছের ডালপালা ভেঙে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেখানকার বেশ কয়েকটি ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। ঝড়ের সঙ্গে ভারী বৃষ্টিতে অনেক এলাকায় ধানক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। বিভিন্ন এলাকায় মানুষের কাঁচা বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উপজেলার দহবন্দ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রেজাউল আলম সরকার জাগো নিউজকে বলেন, ‘ঝড়ের তাণ্ডবে আমার ইউনিয়নের ৩৫-৪০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরমধ্যে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫-৭টি পরিবার। তাদের বাড়িঘর পুরোপুরি ভেঙে গেছে। বিপুল সংখ্যক গাছপালা ও পানের বরজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইফফাত জাহান তুলি জাগো নিউজকে বলেন, ‘ক্ষতির পরিমাণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সংখ্যা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করতে সংশ্লিষ্ট এলাকার ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
এরেন্ডবাড়ি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আব্দুর রশিদ জানান, ঝড়ে দক্ষিণ হরিচন্ডি গ্রামের ১৫-২০টি পরিবার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাড়িঘর ভেঙে গিয়ে তাদের মধ্যে কেউ কেউ আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন।
ফুলছড়ি ইউএনও মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ঝড়ে এরেন্ডবাড়ি ইউনিয়নসহ চরাঞ্চলে বাড়িঘরের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ এখনো আমাদের হাতে আসেনি। ক্ষতি নিরূপণ করে পরিবারগুলোকে সহায়তা করা হবে।’
আনোয়ার আল শামীম/এসআর/এএসএম