ময়মনসিংহে কুকুর আতঙ্কে ফাঁকা দুই প্রাথমিক বিদ্যালয়

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ময়মনসিংহ
প্রকাশিত: ০৮:৩৯ এএম, ১৯ মে ২০২৬

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার মেদুয়ারী ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে বেওয়ারিশ কুকুরের আতঙ্কে জনজীবনে চরম ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে। গত দুইদিনে কুকুরের কামড়ে নারী-শিশুসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে সোমবার (১৮ মে) উপজেলার দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি প্রায় ফাঁকা।

স্থানীয় সূত্র ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, মেদুয়ারী ইউনিয়নের নিঝুরী, মেদুয়ারী ও কুচিলাতলা গ্রামে ১৬ মে ও ১৭ মে একাধিক বেওয়ারিশ কুকুর দলবেঁধে মানুষের ওপর হামলা চালায়। কুকুরের কামড়ে আহতদের মধ্যে এক শিক্ষার্থীসহ আটজন ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন- দক্ষিণ মেদুয়ারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আফরিন আক্তার (৭), তার দাদা মনু মিয়া (৬৮), মাহমুদুল হাসান (২), সাইম হাসান (৩০), সিয়াম (৪) ও হাসনা বেগম (৫০)। তাদের সবার বাড়ি মেদুয়ারী গ্রামে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ১৭ মে সকালে আফরিন আক্তার বাড়ির টয়লেট থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একটি কুকুর তাকে এলোপাতাড়িভাবে কামড়ে দেয়। একই সময়ে তার দাদা মনু মিয়াও কুকুরের আক্রমণের শিকার হন। পরে দুজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

মেদুয়ারী গ্রামের বাসিন্দা মঞ্জিলা খাতুন বলেন, রোববার বেলা ১১টার দিকে ৪-৫টি কুকুর তার বাড়ির পাশে সিয়াম নামের এক শিশুকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কামড়ে আহত করে। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

তিনি জানান, কুকুরগুলো প্রায়ই দলবেঁধে এলাকায় ঘুরে বেড়ায় এবং গরু-ছাগলসহ গৃহপালিত প্রাণীকেও আক্রমণ করছে।

ভাটি মেদুয়ারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ খাদেমুল ইসলাম বলেন, এলাকায় কুকুরের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ১৮ মে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী উপস্থিতি প্রায় ৫০ শতাংশের থেকেও কম ছিল। অনেক অভিভাবক হাতে বাঁশের লাঠি নিয়ে সন্তানদের স্কুলে পৌঁছে দিয়েছেন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জমান বলেন, মেদুয়ারী এলাকায় কুকুর আতঙ্কের বিষয়টি শুনেছি। তবে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ফাঁকা থাকার বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ অবহিত করেননি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, গত তিন দিনে মেদুয়ারী এলাকায় অনেককে কুকুর কামড়ানোর খবর পাওয়া গেছে। কুকুরের কামড়ে আহত এক শিক্ষার্থীসহ আটজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের সবাইকে প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। গত এক সপ্তাহে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কুকুরে কামড়ানো রোগীদের শতাধিক ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হয়েছে।

ভালুকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফিরোজ হোসেন বলেন, বিষয়টি কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এনএইচআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।