কক্সবাজারে এক দিনে ৫ শিশুর মৃত্যু


প্রকাশিত: ১১:১২ পিএম, ২২ জুলাই ২০১৬

কক্সবাজারের রামুর ঈদগড়, টেকনাফ ও চকরিয়ায় পুকুর এবং সাগরে ডুবে এক দিনে ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার পৃথক সময়ে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।  

রামুর ঈদগড়ে শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে ইউনিয়নের রাজঘাট গ্রামের সৌদি প্রবাসী ফরিদুল আলমের পুকুরে গোসল করতে গিয়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়।

নিহতরা হলো-ইউনিয়নের রাজঘাট গ্রামের মৃত মো. ইউছুপের মেয়ে ইসফা জাহান (৬) ও ওমান প্রবাসী মুহাম্মদ মিলনের মেয়ে ইবা( ৭)। তারা দু`জনই ঈদগড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীর শিক্ষার্থী।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সবার অগোচরে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ইবা ও ইফসা পুকুরে গোসল করতে যায়। একসময় তারা পানিতে ডুবে মারা যায়। ৫টার দিকে পাড়ার লোকজন শিশু দুটির ভাসমান দেহ দেখতে পায়। পরে তাদের উদ্ধার করে ঈদগড় বাজারস্ত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে ডা. তাদের মৃত ঘোষণা করে। এঘটনার পর থেকে দু`পরিবারসহ এলাকায় শোকের মাতম চলছে।

ঈদগড় ইউপি চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমদ ভূট্টো তথ্যের সত্যতা স্বীকার করেন। রাতেই তাদের দাফনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান তিনি।

অপরদিকে, টেকনাফ উপজেলায় পৃৃথকভাবে পুকুরে ডুবে মাদ্রাসা ছাত্রের, নদীতে শিশুর ও জালের রশিতে পেঁচিয়ে জেলের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টায় উপজেলার হোয়াইক্যং উত্তর কাঞ্জরপাড়া মাওলানা নুরুল বশর ছিদ্দিকীর পারিবারিক পুকুরে গোসল করতে নেমে তাদের নাতি কুতুবদিয়া পাড়া এলাকার মো. আব্দুল­াহর ছেলে স্থানীয় নুরানীর মাদ্রসার ৩য় শ্রেণীর ছাত্র আবদুল বাজিদ (১০) ডুবে যায়। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে প্রায় ১ঘণ্টা পর বাজিদকে মুমূর্ষাবস্থায় উদ্ধার করে হ্নীলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র হয়ে উপজেলায় নেওয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন।
গত দু’বছর আগে তার বড়ভাই ওমর ফারুক একই পুকুরে ডুবে মারা যায়।

অন্যদিকে, বিকেলে টেকনাফ পৌর এলাকার চৌধুরীপাড়ার হাসান আলীর মালিকানাধীন বিহিঙ্গী জালের শ্রমিক সাইটপাড়ার মৃত আব্দুল হাকিমের ছেলে আব্দুর রহমান (৩৩) জালের কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত রশিতে পেচিঁয়ে নদীতে পড়ে যায়। পার্শ্বের নৌকার জেলেরা তাকে মুমূর্ষাবস্থায় উদ্ধার করে টেকনাফ উপজেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে সকাল ৯টার দিকে উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গিখালী জুম্মাপাড়ার ইউছুপ জালালের হেফজখানায় পড়ুয়া ছেলে মো. ফারুক (৮) তার সমবয়সী এক চাচাসহ চার সহপাঠী মিলে নাফনদী উপকূলে কেওড়া ফল আনতে যায়। বিকেলে তার চাচা আব্দুল­াহ বাড়িতে এসে ফারুক পানিতে ডুবে যাওয়ার বিষয়টি জানায়। তখন পিতা-চাচাসহ প্রতিবেশীরা ফারুককে খুজঁতে বের হন। অনেক খোঁজার পর চৌধুরীপাড়া খালের রঙ্গিখালী লামারপাড়া পয়েন্টে ফারুকের ভাসমান মৃতদেহ পাওয়া যায়। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। রাতে স্থানীয় স্ব স্ব গোরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।   

এদিকে, চকরিয়ায় বন্ধুদের সঙ্গে মসজিদের পুকুরে ফুটবল খেলতে গিয়ে পানিতে ডুবে মোতাহের হোসেন (১২) নামের এক মাদরাসা ছাত্রের করুণ মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চকরিয়া পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পালাকাটা গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। মাদরাসা ছাত্র মোতাহের ওই এলাকার সাহাব উদ্দিনের ছেলে।

পরিবারের সদস্য ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পৌরসভার পালাকাটা দাখিল মাদরাসার ছাত্র মোতাহের হোসেন বন্ধুদের সঙ্গে বাড়ির পাশে ইমাম উদ্দিনপাড়া জামে মসজিদের পুকুরে ফুটবল নিয়ে খেলছিল। এ সময় খেলার চলে কিছুক্ষণ পর সে পানিতে ডুবে যায়। প্রায় আধা ঘণ্টা পর পুকুরে তার লাশ ভেসে উঠে। তাৎক্ষনিক পুকুর থেকে ওই ছাত্রকে উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা সরকারি হাসপাতলে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সায়ীদ আলমগীর/একে

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।